দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগে দুই স্কুলশিক্ষককে বরখাস্ত করা হয়েছে। বনভোজনে নিয়ে গিয়ে এক শিক্ষকের সহায়তায় অপর শিক্ষক নিজ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ছাত্রীর বাবা ওই দুই শিক্ষক শাহাদত হোসেন ও মশফিকুর রহমানের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার দিনাজপুরের ফুলবাড়ির পার্শ্ববর্তী নবাবগঞ্জের স্বপ্নপুরীতে। জানা যায়, গত ৯ মার্চ নবাবগঞ্জের মাগরপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে স্বপ্নপুরীতে বনভোজনে যান বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পিকনিক স্পটে ঘোরাফেরার এক পর্যায়ে শিক্ষক মশফিকুর ঐ ছাত্রীকে স্বপ্নপুরীর মত্স্য জগত্ দেখানোর কথা বলে নিয়ে যান। পরে মশফিকুর সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করা অপর শিক্ষক শাহাদত হোসেনের কাছে ঐ ছাত্রীকে রেখে চলে আসেন। শাহাদত হোসেন ঐ ছাত্রীর সাথে কথা বলার এক পর্যায়ে তাকে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন।
এ সময় ছাত্রীটি পালিয়ে এসে ঘটনাটি বিদ্যালয়ের অপর দুই শিক্ষক নাজমা বেগম ও রুহুল আমিনকে জানায়। পরদিন ছাত্রীর বাবা ঘটনাটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে জানালে তিনি তা অন্য কাউকে না জানানোর অনুরোধ করেন। পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হলে শিক্ষার্থীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও প্রধান শিক্ষকের কাছে লিখিত অভিযোগ করে। প্রধান শিক্ষক আব্দুর রশিদ জানান, ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া ঐ দুই শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। শিক্ষক শাহাদত হোসেন এ প্রসঙ্গে বলেন, তিনি বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির শিকার। তাকে ফাঁসানোর জন্য এই ষড়যন্ত্র করা হয়েছে।
