রেল লাইন উপড়ে ফেলায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা সিলেটগামী আন্তঃনগর উপবন এক্সপ্রেস গতকাল মঙ্গলবার ভোরে কুলাউড়া উপজেলার বরমচাল ইউনিয়নের সিংগুর খাদিম পাড়া এলাকার আনফানাই সেতুর কাছে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। ট্রেনের ইঞ্জিনসহ ৭টি বগি লাইনচ্যুত হয়ে যায়। এ ঘটনার পর বন্ধ হয়ে যায় ট্রেন চলাচল। প্রায় ১২ ঘন্টার ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকার পর গতকাল বিকাল সোয়া ৫ টায় পুনরায় ট্রেন চলাচল শুরু হয়। এদিকে রেল লাইন উপড়ে ফেলার অভিযোগে কুলাউড়া থানা পুলিশ বিএনপি-জামায়াতের ৫ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, বিএনপির আলমগীর হোসেন, রেদওয়ানুল হক এবং জামায়াতের আবুল কাশেম আযাদ, আব্দুস সোবহান ও আব্দুল মতলিব। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে রেল মন্ত্রণালয় ঢাকা ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজারকে (ডিআরএম) প্রধান করে ৪ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর কমান্ডিং অফিসার-ঢাকা, ডিভিশন ইঞ্জিনিয়ার-২ ঢাকা ও ডিভিশনাল মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার, ঢাকা। ইতিমধ্যে তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বলে কুলাউড়া রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার ময়িদুর রহমান জানিয়েছেন। লাইন চালুর পর বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়া জালালাবাদ এক্সপ্রেস, সুরমা মেইল ট্রেন সিলেটের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছে। দুর্ঘটনার কারণে ঢাকাগামী আন্তঃনগর জয়ন্তিকা ও আন্তঃনগর কালনী এক্সপ্রেস ট্রেন দু’টি বাতিল করা হয়েছে।
জানা গেছে, সোমবার রাতের কোন এক সময়ে দুর্ঘটনাস্থলের রেল লাইনের প্রায় ২০ ফুট অংশ উপড়ে ফেলে দুর্বৃত্তরা পার্শ্ববর্তী আনফানাই নদীতে ফেলে দেয়। ওই অংশে কৃত্রিম লাইন বসিয়ে রাখা হয়। দুর্ঘটনার সময় ট্রেনের চালক মো. নজরুল ইসলাম ট্রেনটি তাত্ক্ষণিক নিয়ন্ত্রণ করতে পারায় হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানা যায়। কুলাউড়া জিআরপি থানার ওসি স্বপন বড়ুয়া জানান, সোমবার রাত ৩টা ২০ মিনিটে সিলেট জিআরপি থানার ওসি তাকে মোবাইল ফোনে জানান, কুলাউড়া সেকসনে রেল লাইনে সমস্যা রয়েছে। বিষয়টি তিনি তাত্ক্ষণিক কুলাউড়া রেলওয়ে স্টেশনের কর্তব্যরত স্টেশন মাস্টার কেফায়েত উল্লাকে অবহিত করেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিষয়টি গুরুত্ব না দিয়ে কর্তব্যরত স্টেশন মাস্টার ট্রেনের লাইন ক্লিয়ার দেন এবং রেলের ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (রেলপথ) আলী আজম ইঞ্জিনে চড়ে ও পাশের কামরায় রেলপুলিশ নিয়ে সিলেট অভিমুখে যাত্রা করেন। কুলাউড়া ছেড়ে সিলেট অভিমুখে ৮ কিলোমিটার যাওয়ার পর ছকাপন ও বরমচাল স্টেশনের মধ্যে গতকাল ভোর ৪টা ৪০ মিনিটে ট্রেনটি দুর্ঘটনার মুখে পড়ে। দুর্ঘটনার ফলে প্রায় ২শ’ ফুট রেল লাইন ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। কুলাউড়া স্টেশন এবং আখাউড়া থেকে রিলিফ ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে। দুর্ঘটনার পর একটি ট্রেন দিয়ে আটক যাত্রীদেরকে উদ্ধার করে নিয়ে সিলেট নিয়ে যাওয়া হয়। কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নজরুল ইসলাম জানান, এটি নাশকতামূলক কাজ। কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সেলিম নেওয়াজ, বরমচাল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইমরান আহমদ ইসহাক, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ কামাল উদ্দিন আহমদ ও সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রেনু, সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ আব্দুর রউফসহ আওয়ামী লীগের নেতারা ঘটনাস্থলে পৌঁছেন।
