নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে ঐক্যফ্রন্ট:কাদের

আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০১৮, ০০:৪৪

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘হেরে যাবার ভয়ে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে। তারা নির্বাচন থেকে সরে পড়ার বাহানা খুঁজছে। যারা নির্বাচনের এক মাস আগে সিইসি পরিবর্তন চান তারা নির্বাচনে অংশ নেবে এটা আমার বিশ্বাস হয় না। মিডিয়ায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীর নাম ঘোষণা নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দেওয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেওয়ার আগে তালিকা না প্রকাশের জন্য আহ্বান জানান তিনি।’ গতকাল সোমবার দুপুরে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

রবিবার যে ২৩০ জনকে মনোনয়নের প্রত্যয়ন দেওয়া হয়েছে, তার ভিত্তিতে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, এটা গণমাধ্যমের জন্য করিনি। আমরা তালিকা করেছি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার জন্য। আমাদের তালিকা অফিসিয়ালি প্রকাশ করার আগে শোনা কথা এভাবে লিখলে, প্রচার করলে বিব্রত হওয়ারই কথা। তিনি বলেন, ‘কিছু আসনে আমরা একাধিক প্রার্থীকেও মনোনয়ন দিয়েছি। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর আমরা মাঠ পর্যায়ে আরেকটি জরিপ করব। কে আসলে জনগণের কাছে বেশি জনপ্রিয়, এটা আমরা বিবেচনায় নেব। আবার কোনো কোনো প্রার্থী ঋণ খেলাপির মধ্যেও থাকতে পারে। সব মিলিয়ে আমরা বোঝাপড়ার মাধ্যমে মহাজোটের প্রার্থী ঘোষণা করব। আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করব।

কক্সবাজারে বিতর্কিত সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদির আসনে তার স্ত্রীকে এবং হত্যা মামলায় বন্দি টাঙ্গাইলের আমানুর রহমান খান রানার আসনে তার বাবাকে প্রার্থী করা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বদিকে নিয়ে কন্ট্রোভার্সি আছে, সে জন্য করিনি। বদির বউয়ের অপরাধ কী? বদি অপরাধী হলে তার ভাগিদার কি তার স্ত্রী? নো। রানার বাবা, তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি। রানা জেলে, সে যে খুন করেছে, এটা এখনও কোর্টে প্রমাণিত হয়নি। এই অবস্থাও আমরা তাকে মনোনয়ন দিতে পারতাম। কিন্তু কন্ট্রোভার্সি আছে, তাই তাকে দিইনি।’ নিজেদের চালানো জনমত জরিপে এবারও রানা ও বদি জনপ্রিয়তার শীর্ষে ছিল বলে জানান আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক। এবার বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে নির্বাচিত হলে দলে ফেরত নেওয়া হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এবার বিদ্রোহ মানেই আজীবন বহিষ্কার।

 এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, জোটের অন্যান্য শরিকেরাও একইভাবে চিঠি দিয়ে মনোনয়ন দেওয়া শুরু করেছে। জাতীয় পার্টি (জাপা), বিকল্পধারার নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্ট, ১৪ দল চিঠি দিচ্ছে। সবার তালিকার পর যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে। এখানে কৌশলগত, টেকনিক্যাল ও টেকটিকেল বিষয়গুলো বিবেচনার আছে। কয়েকটি জায়গায় আমরা ডাবলও মনোনয়ন দিয়েছি। পরবর্তীতে মাঠ পর্যায়ে সার্ভে করে চূড়ান্ত করা হবে। শরিকদের সঙ্গে বোঝাপড়ার মাধ্যমে ৬৫-৭০ আসন ছেড়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ওবায়দুল কাদের। কাদের বলেন, মনোনয়নের নামে বানরের পিঠা ভাগ করতে চাই না।

অধ্যাপক আবু সাইয়িদ গণফোরামে যোগদানের ব্যাপারে জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, এক সময় ড. কামাল হোসেন আওয়ামী লীগ ছেড়েছেন, কাদের সিদ্দিকী ছেড়েছেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান মান্নাও দল ছেড়েছেন। এতে আওয়ামী লীগের কিছু আসে যায় না। এটা নিয়ে আমাদের কোনো মাথা ব্যথা নেই। আওয়ামী লীগ থেকে দু ’একজন বেরিয়ে গেলে কিছু যায় আসে না। শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তার ধারে-কাছে কেউ নেই।

সাংবাদিক সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাত উন্নয়ন বিষয়ক উপদেষ্টা ও ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী সালমান এফ রহমান, আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, উপ-দপ্তর সম্পাদক ব্যারিষ্টার বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।