চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরে গত সোমবার রাতে প্রতিপক্ষ ছাত্রদলের সশস্ত্র ক্যাডারদের হাতে নৃশংসভাবে খুন হয় ছাত্রলীগ কর্মী কনক আহম্মেদ টুটুল (২০)। ঘটনায় একই সঙ্গে গুরুতর আহত হয় নিহত টুটুলের সাথে থাকা অপর ছাত্রলীগ কর্মী রানা (২১)।
জানা যায়, ঘটনার সময় গত সোমবার সন্ধ্যায় মোটর সাইকেলে দুবন্ধু টুটুল ও রানা শহরের মহিলা কলেজ রোড ধরে মহল্লার মধ্যে প্রবেশ করছিল। ঐ সময় রাস্তার মোড়ে ওত পেতে অপেক্ষা করছিল স্থানীয় ছাত্রদলের ১০/১২ জন সশস্ত্র ক্যাডার। টুটুল-রানাদের মোটর সাইকেলটি ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর সাথে সাথে অপেক্ষমাণ ক্যাডাররা অতর্কিত ইটপাটকেল ছুঁড়ে দুজনকে। কিরনের নেতৃত্বে নিষ্ঠুর ক্যাডার সদস্যরা টুটুল ও রানা উভয়কে পৈশাচিকভাবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশে কুপিয়ে মৃতপ্রায় অবস্থায় ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে যায়। ঘটনার পর লোকজন রাস্তায় মৃতপ্রায় অবস্থায় পড়ে থাকা আহত ছাত্রলীগ কর্মীদ্বয়কে একটি রিক্সাভ্যানে উঠিয়ে স্থানীয় সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যায়। কর্তব্যরত চিকিত্সকরা হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মুমূর্ষু ছাত্রলীগ কর্মী টুটুলকে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকা নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। পরে মধ্যরাতে স্বজনরা মুমূর্ষু টুটুলকে নিয়ে ঢাকা মেডিক্যালের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। ঢাকার পথে রাত ৩টায় মানিকগঞ্জের নিকট অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যেই মুমূর্ষু টুটুল মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। এদিকে নিহত টুটুলের সাথী বন্ধু চুয়াডাঙ্গার উপশহর দৌলতদিয়াড় বাদলাপাড়ার হাশেম আলীর পুত্র আহত রানাকে স্থানীয় সদর হাসপাতালে চিকিত্সা দেয়া হচ্ছে। আহতের অবস্থা আশংকামুক্ত বলে শোনা গেছে।
এদিকে গতকাল মঙ্গলবার সকালে ছাত্রলীগ কর্মী নিহত টুটুলের মৃতদেহ তার পৈতৃক নিবাস চুয়াডাঙ্গা শহরের পোস্ট অফিসপাড়ার বাড়িতে পৌঁছালে একদিকে স্বজনদের কান্নায় পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে। অপরদিকে নিজ সংগঠন সহকর্মী ছাত্রলীগ কর্মীদের মধ্যে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ দানা বাঁধতে থাকে। নিহত টুটুল চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের পোস্ট অফিসপাড়ার আমজেদ আলীর পুত্র। সে ছিল চুয়াডাঙ্গা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে এই রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত ছাত্রলীগ কর্মী টুটলের ওপর ছাত্রদল ক্যাডারদের হামলার সঠিক কোন কারণ জানা যায়নি। তবে জেলা ছাত্রদল আহ্বায়ক সিজার জানায়, চুয়াডাঙ্গা ছাত্রদলের সঙ্গে ছাত্রলীগ কর্মী টুটুল-রানার ওপর হামলাকারী কিরণ গংদের কোন প্রকার সম্পর্ক নেই।
