পঞ্চম ধাপে ৫১ আসনে ভোটগ্রহণ আজ

আপডেট : ০৫ মে ২০১৯, ২২:৪৮

ভারতের লোকসভা নির্বাচনের পঞ্চম ধাপে আজ সোমবার ভারতে ৭ রাজ্যের ৫১ আসনে ভোটগ্রহণ হবে। এসব আসনে ভোটার সংখ্যা প্রায় ৯ কোটি। এই ধাপের ভোটে ভাগ্য নির্ধারিত হবে ৬৭৪ প্রার্থীর। যাদের মধ্যে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং, কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী, সাবেক সভাপতি সোনিয়া গান্ধী, বিজেপির মন্ত্রী স্মৃতি ইরানির মতো হেভিওয়েট প্রার্থীরাও রয়েছেন। বাকি দুই ধাপের ভোটগ্রহণ হবে যথাক্রমে ১২ ও ১৯ মে আর ভোট গণনা হবে ২৩ মে। সেদিনই প্রার্থীদের সঙ্গে সঙ্গে দলগুলোরও ভাগ্য জানা যাবে। এদিকে নির্বাচনী প্রচারণায় নেতাদের বাগযুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে। রাজীব গান্ধীকে দুর্নীতিবাজ বলায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কঠোর সমালোচনা করেছেন রাহুল গান্ধী।

আজ সোমবার পশ্চিমবঙ্গের ৭, উত্তর প্রদেশের ১৪, বিহারের ৫, রাজস্থানের ১২, মধ্যপ্রদেশের ৭, জম্মু-কাশ্মীরের ২           এবং ঝাড়খন্ডের ৪ আসনে ভোটগ্রহণ হবে। উত্তর প্রদেশের রায় বরেলি আসন থেকে সোনিয়া গান্ধী ও আমেথি আসন থেকে লড়ছেন রাহুল গান্ধী। রায় বরেলিতে সোনিয়ার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক কংগ্রেস নেতা ও বর্তমানে বিজেপি প্রার্থী দীনেশ প্রতাপ সিং। আর আমেথিতে রাহুলের প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি। এই দুই আসন কংগ্রেসের ঘাঁটি বলে পরিচিত হলেও বিশ্লেষকরা বলছেন, এবার লড়াইটা জমজমাট হতে পারে। এই দফার ভোটে পশ্চিমবঙ্গে ভোটারদের বিশেষভাবে নিরাপত্তা দেওয়া হবে। এজন্য সব রকম প্রস্তুতি নিয়েছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। এমনকি বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে প্রার্থীদের ওপরও বিশেষ নজরদারি করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে পাল্টাপাল্টি আক্রমণে মোদি ও রাহুল

সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রাহুল গান্ধীকে আক্রমণ করতে গিয়ে মোদি বলেন, এক নম্বর দুর্নীতিগ্রস্ত হিসেবে জীবন কাটিয়েছেন রাজীব গান্ধী। শনিবার উত্তর প্রদেশে এক নির্বাচনী সমাবেশে মোদি বলেন, রাফাল বিমান ক্রয় নিয়ে রাহুল গান্ধী দুর্নীতির অভিযোগ তুলে আমার ভাবমূর্তি নষ্টের চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, অনুগতরা রাজীব গান্ধীকে ভালো বললেও তার জীবন শেষ হয়েছে এক নম্বর দুর্নীতিবাজ হিসেবেই। মূলত বোফর্স কেলেঙ্কারিকেই ইঙ্গিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী। ১৯৯১ সালে শ্রীলঙ্কার বিদ্রোহী সংগঠনের হামলায় নিহত হন রাজীব গান্ধী।

নরেন্দ্র মোদির বক্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছেন রাহুল গান্ধী। এক টুইট বার্তায় তিনি বলেছেন, আপনার চিন্তা-ভাবনাকে আমার বাবার উপর চাপিয়ে দিয়ে রক্ষা পাবেন না। লড়াই শেষ হয়ে গিয়েছে। কর্মফলের জন্য প্রস্তুত হন। আপনার জন্য আমার অনেক ভালবাসা রইলো। প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও এক টুইট বার্তায় বলেছেন, শহীদদের অপমান করে যিনি শহীদদের নামে ভোট চান- তার জবাব আমেথির মানুষ দেবেন। আমেথির মানুষের জন্য রাজীব গান্ধী প্রাণ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি, এই দেশ ধোঁকাবাজদের কখনো মাফ করে না। রাজীব গান্ধীকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যের নিন্দা করেছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয়মন্ত্রী পি চিদাম্বরম, সমাজবাদী পার্টি নেতা অখিলেশ যাদব, আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়ালও।

মোদির ৫ বছর ধ্বংসাত্মক: মনমোহন সিং

নরেন্দ্র মোদিকে আক্রমণ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং বলেছেন, মোদির পাঁচ বছরের শাসনকাল ভারতের সবচেয়ে বেশি আতঙ্কগ্রস্ত এবং ধংসাত্মক ছিল। এজন্য মোদিকে ক্ষমতাচ্যুত করা উচিত। সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে মনমোহন সিং বলেন, দেশে কোনো মোদি জোয়ার নেই। তার মতে, মোদি সরকার দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংসাত্মক জায়গায় নিয়ে গেছে। নোট বাতিলই স্বাধীন ভারতের সবচেয়ে বড় দুর্নীতি। তার দাবি কাশ্মিরের পুলওয়ামায় লজ্জাজনক গোয়েন্দা ব্যর্থতাই সন্ত্রাসবাদ দমনে সরকারের প্রস্ততির চিত্র।

গাড়ি থেকে নেমে ধাওয়া দিলেন মমতা ব্যানার্জি

গাড়ি থেকে নেমে বিজেপির সমর্থকদের ধাওয়া দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। বিবিসি বাংলার এক খবরে বলা হয়েছে, শনিবার বিকালে পূর্ব মেদিনিপুর জেলায় মমতার গাড়িবহর যখন রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলো, তখন পাশে দাঁড়িয়ে ‘জয় শ্রীরাম’ শ্লোগান দিয়েছিলেন বিজেপি সমর্থক কয়েক যুবক। শ্লোগান কানে যেতেই গাড়ি থামাতে বলেন মমতা। নিজেই গাড়ির দরজা খুলে নেমে আসেন রাস্তায়। ততক্ষণে শ্লোগান দেওয়া যুবকরা বেগতিক বুঝে পিছু হঠতে শুরু করে। মুখ্যমন্ত্রী সেদিকে এগিয়ে গিয়ে বলতে থাকেন, কী রে, পালাচ্ছিস কেন? আয়, আয়! পালাচ্ছিস কেন? গোটা দৃশ্যটাই প্রত্যক্ষদর্শীরা মোবাইল ফোনের ভিডিওতে ধারণ করেছেন, আর নিমেষে তা ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ও সোশ্যাল মিডিয়াতে। এর কিছুক্ষণ পরেই মুখ্যমন্ত্রীকে কটূক্তি করার অভিযোগে রাজ্য পুলিশ বিজেপি সমর্থক তিনজন যুবককে আটক করে। গতকাল রবিবার সকালে তাদের ছেড়েও দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় সমালোচনা হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে।