গতকালও কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামেই থাকার কথা ছিল। স্টেডিয়ামের সবকিছুই টেস্টের পঞ্চম দিনের জন্য প্রস্তুত ছিল। শুধু বাংলাদেশ খেলাটা পঞ্চম দিনে নিতে পারল না বলেই নিথর পড়ে রইল স্টেডিয়ামটা। আর বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়রা সকালে ছুটলেন ওয়ানডের জন্য প্রস্তুত হতে। হ্যা, এখন টেস্টকে পেছনে ফেলে ওয়ানডের জন্য প্রস্তুত হওয়ার পালা।
অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম আগের দিনই সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, টেস্টের প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তিকে পেছনে ফেলে এখন সামনে এগিয়ে যাওয়ার সময়। এখন ওয়ানডে নিয়ে ভাবার সময়। ওয়ানডে দলে যোগ দিতে এরই মধ্যে দেশ থেকে উড়ে গিয়ে কলম্বোতে যোগ দিয়েছেন মোশাররফ রুবেল, জিয়াউর রহমান ও নাজমুল হাসান। আর আজই টেস্ট দল থেকে দেশে ফিরে আসবেন শাহাদাত হোসেন রাজীব, ইলিয়াস সানি ও মার্শাল আইয়ুব।
ওয়ানডে দলে যোগ দিতে যাওয়াদের সঙ্গে মিলে বাকিরা কাল হালকা অনুশীলন করেছেন কলম্বোতে; যদিও কাল বাধ্যতামূলক অনুশীলন ছিল না। তারপরও গেছেন সবাই। উদ্দেশ্য একটাই, ওয়ানডের জন্য নিজেদের আরো ভালোমতো প্রস্তুত করা। এ প্রস্তুতির ফল পেতে আজ সকালে কলম্বো থেকে শ্রীলঙ্কার একেবারে আরেক প্রান্তবর্তী শহর হাম্বানটোটায় চলে যাবে বাংলাদেশ দল। এখানেই শনিবার প্রথম ওয়ানডে; সিরিজের প্রথম দুটি ওয়ানডেই এখানে অনুষ্ঠিত হবে। তারপর সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডে খেলতে দুই দল চলে আসবে ক্যান্ডিতে। সেখানে পাল্লেকেলে স্টেডিয়ামেই তৃতীয় ওয়ানডে ও একমাত্র টি-টোয়েন্টি খেলে সফর শেষ করবে বাংলাদেশ।
সফরের শুরুটা গল টেস্টে দুরন্ত ব্যাটিং পারফরম্যান্স ও কলম্বোর প্রতিরোধ গল্পের মাধ্যমে ভালোই হয়েছে। এখন ওয়ানডেতে সেই পারফরম্যান্সটা আরো ভালো করার পালা। ওয়ানডে সিরিজে ভালো ফল বলতে জয়ের স্বপ্নও দেখায় অন্যায়ের কিছু নেই বাংলাদেশের।
গত বছর কয়েক ধরে বাংলাদেশ ওয়ানডেতে মোটামুটি বিশ্ব ক্রিকেটের গুরুত্বপূর্ণ দল হয়ে উঠেছে, তাতে আর সন্দেহ নেই। ২০০৮ সালে শুরু হওয়া বাংলাদেশ দলের ওয়ানডে ক্রিকেটে সাফল্যের ধারাবাহিকতায় গত বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজকে সিরিজ হারিয়েছে তারা। তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার সাবেক দুই বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ভারত ও শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে গত বছর বাংলাদেশ এশিয়া কাপের ফাইনাল খেলেছে। সেখানে ২ রানের হারে ট্রফি বঞ্চিত হয়েছে বাংলাদেশ।
ওই টুর্নামেন্ট থেকেই বাংলাদেশ অনুপ্রেরণা খুঁজতে পারে। শ্রীলঙ্কার সঙ্গে সর্বশেষ ওই এশিয়া কাপেই বাংলাদেশের দেখা হয়েছিল। সেখানে বাংলাদেশ ৫ উইকেটের জয় পেয়েছিল সাকিব-তামিমদের ওপর ভর করে। হ্যা, সাকিব নেই বলে একটু স্মৃতিটা ফেরানোয় কষ্ট হতে পারে। তবে আরেকটা পরিসংখ্যান আবার আশাও জোগাবে বাংলাদেশকে।
শ্রীলঙ্কাকে প্রথম দুই বার হারানোর নায়ক আশরাফুল দলে আছেন; ভালো ফর্মেও আছেন। এখন দেখার বিষয় সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি করে সাকিব না থাকার দুঃখটা ঘোচাতে পারেন কি না আশরাফুল!
