বিজিএমইএ ভবন ভেঙ্গে পরিবেশ রক্ষায় অবদান রাখার আহবান

আপডেট : ২০ মার্চ ২০১৩, ২২:০২
হাতিরঝিলের ‘বিষফোঁড়া’ বিজিএমইএ ভবন অবিলম্বে ভাঙার দাবি জানিয়েছে সিটিজেন রাইটস মুভমেন্ট, ইনিশিয়েটিভ ফর পিস ও পরিবেশসম্মত বাসযোগ্য ঢাকা বাস্তবায়ন পরিষদ-এর নেতৃবৃন্দ। বুধবার সকালে বিজিএমইএ ভবনের সামনে আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে তারা এ দাবি জানান। হাইকোর্টের পূর্বের আদেশকে বহাল রেখে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ মঙ্গলবার চূড়ান্ত রায়ে ভবনটিকে অবৈধ ঘোষণা এবং বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষের নিজ খরচে এটি অপসারণের নির্দেশ দিয়েছে। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সিটিজেন রাইটস মুভমেন্টের মহাসচিব তুসার রেহমান, প্রধান সমন্বয়ক আরিফুর রহমান, যুগ্ম-সম্পাদক মিহির বিশ্বাস, ইনিশিয়েটিভ ফর পিসের সম্পাদক সোহানুর রহমান, সম্মিলিত জলাধার রক্ষা আন্দোলনের আহ্বায়ক ইবনুল সাঈদ রানা, সদস্য সচিব মশিউর রহমান রুবেল, রফিকুল ইসলাম বিশ্বস প্রমুখ। তুসার রেহমান বলেন, এই ভবনের জমির কোন নিবন্ধন ছিল না, ভবন নির্মাণের আগে রাজউকের অনুমোদন নেয়া হয়নি। এছাড়া নগর উন্নয়ন আইন ১৯৫৩, জলাধার সংরক্ষণ আইন ২০০০ ও ভবন নির্মাণ আইন ১৯৫২ অমান্য করায় হাইকোর্ট ভবনটিকে অবৈধ ঘোষণা করে অনেক আগেই এটি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেয়। আরিফুর রহমান বলেন, বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষের সাথে আমাদের কোন বিরোধ নেই। আমরা চাই অবিলম্বে আদালতের রায়ের বাস্তবায়ন। মিহির বিশ্বাস বলেন, বিজিএমইএ ভবনটিকে খোদ প্রধানমন্ত্রী ‘বিষফোঁড়া’ বলে অবিহিত করেছেন। আদালত বলেছে অবৈধ। তাই আর দেরি না করে ভবনটি ভাঙার কাজ শুরুর দাবি জানান তিনি। তিনি বলেন, বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ দেশের দুই প্রধানমন্ত্রীকে ভবন উদ্বোধন করিয়েছেন তাদের এ অবৈধ প্রকল্প। ইবনুল সাঈদ রানা বলেন, বিজিএমইএ যেভাবে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রেখে যাচ্ছে। একইভাবে তারা আদালতের রায় মেনে নিয়ে দেশের পরিবেশ রক্ষায়ও অবদান রাখবে। তা না করে যদি এ ভবন রক্ষার চেষ্টা করে তাহলে আইন ও রাষ্ট্র কাঠামোর প্রতি বিজিএমইএর অবজ্ঞা করা হবে। একই সাথে যদি বিজিএমইএ এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে তাহলে আমরাও আইনি লড়াই অব্যাহত রাখবো বলে জানায়। উল্লেখ্য, ৯০ দিনের মধ্যেই বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষকে নিজের খরচে ভবন ভাঙার পর জলাশয়ের জায়গাটিও আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল হাইকোর্ট বিভাগের বিচারক এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও শেখ মো. জাকির হোসেনের যুগ্ম বেঞ্চ ওই রায় দিয়েছিলেন। সংক্ষিপ্ত রায়ে বলা হয়েছিল, ১৫ তলা ভবনটি জলাধার আইন লঙ্ঘন করে নির্মিত একটি ভবন। মঙ্গলবার সংক্ষিপ্ত রায়ের পর গতকাল পূর্ণাঙ্গ লিখিত রায় প্রকাশিত হয়। এর আগে ওই রায়ের বিরুদ্ধে বিজিএমইএর আবেদনের প্রেক্ষিতে ৫ এপ্রিল এক আদেশে হাইকোর্ট বিভাগের রায় ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেন। পরে আরো এক স্থগিতাদেশে আপিল বিভাগ বলে হাইকোর্ট বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় না পাওয়ায় ওই স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে। তবে মঙ্গলবার পূর্ণাঙ্গ রায় পাবার পর এখন আর স্থগিতাদেশ রইল না।