বাংলাদেশে রাজনৈতিক বিরোধ

রাস্তায় নয়, সমাধান সংসদে :ব্রিটিশ প্রতিমন্ত্রী

আপডেট : ২০ মার্চ ২০১৩, ২২:১৯
গণতন্ত্রে প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে সহিংসতা ও ভাঙচুরের কোনো স্থান নেই মন্তব্য করে মতবিরোধ দূর করতে সংসদে আলোচনার জন্য বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ব্রিটেনের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুগো সোয়ার। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংসতার প্রেক্ষাপটে গত মঙ্গলবার ব্রিটিশ পার্লামেন্টে এক বিতর্কে তিনি এ মন্তব্য করেন। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ এমপি রুশনারা আলীর সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ওই বিতর্ক শুরু হয়। তার বক্তব্যের পর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ছাড়াও ব্রিটিশ পার্লামেন্টে সর্বদলীয় বাংলাদেশ গ্রুপের চেয়ার অ্যান মেইন, টাওয়ার হ্যামলেটসের লাইম হাউস এলাকার এমপি জিম ফিটজপ্যাট্রিক ও এমপি রেহমান চিশতি বক্তব্য দেন। হাউস অব কমন্সের ওয়েস্ট মিনিস্টার কক্ষে অনুষ্ঠিত ওই বিতর্কে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মিজারুল কায়েসও উপস্থিত ছিলেন। যুদ্ধাপরাধে জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পর হরতাল ও সহিংসতায় প্রাণহানিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেন ব্রিটিশ প্রতিমন্ত্রী হুগো সোয়ার। সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনাতেও উদ্বেগের কথা জানান তিনি। বাংলাদেশে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে ব্রিটেনের সহায়তা অব্যাহত থাকবে জানিয়ে হুগো সোয়ার বলেন, রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান করতে হবে পার্লামেন্টে আলোচনার মাধ্যমে, রাস্তায় নেমে নয়। রাজনৈতিক দলগুলো আলোচনার মাধ্যমে মতবিরোধ দূর করতে সক্ষম হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। ওই আলোচনা অনুষ্ঠানের পথ তৈরি করতে সুশীল সমাজ কাজ করবে বলে মনে করেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। সূচনা বক্তব্যে সাম্প্রতিক সহিংসতা ও সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন রুশনারা আলী। তিনি বলেন, বাংলাদেশে পুলিশ হত্যার ঘটনা যেমন ঘটছে তেমনি আইন প্রয়োগকারী বিভিন্ন সংস্থার অতিরিক্ত ক্ষমতা প্রয়োগের ব্যাপারেও অনেককে উদ্বেগ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। হরতালে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত ও জনজীবন ব্যাহত হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিদেশে বাংলাদেশের সুনাম ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। এ সময় লন্ডনের ওয়েস্টহ্যাম এলাকার বাসিন্দা ব্রিটিশ বাংলাদেশি নূরে আলম হামিদির গ্রেফতারের বিষয়টি তুলে ধরে তার ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এই ব্রিটিশ এমপি। গত ২২ ফেব্রুয়ারি জুমার নামাজের পর শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের বিরোধিতায় মিছিল বের করে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম, কাটাবন, ধানমণ্ডি ও এর আশপাশের এলাকায় ব্যাপক তাণ্ডব চালানো হয়। পুলিশের পাশাপাশি সাংবাদিকরাও তাদের হামলার শিকার হন। সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগে কাঁটাবন থেকে পুলিশ নূরে আলম হামিদিকে গ্রেফতার করে, যিনি ইসলামী ঐক্যজোটের নেতা বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়। যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির দাবিতে শাহবাগের আন্দোলনের বিরোধিতা করতে তিনি ঢাকায় আসেন বলেও বিভিন্ন গণমাধ্যম জানায়। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর সাম্প্রতিক হামলারও নিন্দা জানিয়ে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান রুশনারা আলী।