বিশ্বনাথে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে জামায়াত কর্মী নিহত

আপডেট : ২০ মার্চ ২০১৩, ২২:৩৫
সিলেটের বিশ্বনাথে গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে আটটায় উপজেলা সদরের পল্ল¬ী বিদ্যুত্ অফিসের সামনে জামায়াত-পুলিশ সংর্ঘষে এক জামায়াতকর্মী নিহত হয়েছেন। নিহতের নাম গোলাম রব্বানী (২৯)। তিনি উপজেলার খাজাঞ্চি ইউনিয়নের পাকিচিরি গ্রামের নিজামউদ্দিনের ছেলে এবং উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী মতিউর রহমানের ভাতিজা। তাকে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান বলে পুলিশ জানায়। সংর্ঘষে পুলিশ ৩ রাউন্ড গুলি, ৬৪ রাউন্ড রাবার বুলেট, ১২ রাউন্ড টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশসহ ২০ জন আহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ জামায়াত কর্মী আবুল কালাম (২৫) ও মঈনউদ্দিনকে (৩০) আশংকাজনক অবস্থায় সিলেট ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ সময় পুলিশ ব্যবসায়ীসহ ৪ জামায়াত-শিবির কর্মীকে গ্রেফতার করেছে। এ ঘটনায় উপজেলা সদরের বিজিবি ও র্যাবের টহল জোরদার করা হয়েছে। নিহতের লাশ সিলেট ওসমানী হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে বলে পুলিশ জানায়। সিলেটে জামায়াতের ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতাল চলাকালে গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে আটটায় উপজেলা জামায়াত-শিবির লাঠি-সোঁটা নিয়ে স্থানীয় পল্ল¬ী বিদ্যুত্ অফিসের সামনে থেকে মিছিল বের করে। মিছিলটি বাজারের দিকে আসতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় জামায়াত-শিবির কর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করলে পুলিশ গুলি, রাবার বুলেট ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করতে থাকে। এ সময় গুলিবিদ্ধ জামায়াতকর্মী গোলাম রব্বানী মাটিতে লুটে পড়েন। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে প্রেরণ করে। হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। উল্লেখ্য, সিলেট মহানগর জামায়াতের আমীর অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুর জুবায়েরকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে জামায়াত গতকাল সিলেটে সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দেয়। বিশ্বনাথে হরতালের সমর্থনে জামায়াত-শিবির মিছিল বের করলে এ ঘটনা ঘটে। বিশ্বনাথ থানার অফিসার্স ইনচার্জ আবুল কালাম আজাদ ইত্তেফাককে জানান, জামায়াত-শিবির কর্মীরা বিদ্যুত্ অফিসে হামলা চালায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। এ সময় জামায়াত-শিবির কর্মীরা আমাদের ওপর হামলা চালায়। তাদের সাথে অস্ত্র ছিল। তিনি বলেন, তাদের অস্ত্রের আঘাতে নিহত হয় জামায়াতের এক কর্মী। পল্লী বিদ্যুত্ বিশ্বনাথ জোনাল অফিসের এজিএম ওমর ফারুক বলেন, আমাদের অফিসে জামায়াত-শিবির হামলা করেনি।