শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রপতি মাহিন্দা রাজাপাকসের বাড়ি এখানে না হলে প্রকৃতির করুণাবর্জিত শহর হাম্বানটোটায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট পৌঁছাতো বলে শ্রীলঙ্কার লোকজনই বিশ্বাস করে না। সে যেভাবেই হোক, ২০১১ সালে শ্রীলঙ্কার এই প্রান্তিক শহর হাম্বানটোটায় মাহিন্দা রাজাপাকসে আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ওয়ানডে ক্রিকেট যাত্রা শুরু করে ফেলেছে। পরে গত বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচও হয়েছে এখানে। কিন্তু বাংলাদেশ এই প্রথম তাদের হাম্বানটোটা অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে আগামীকাল শুরু হওয়া ওয়ানডে সিরিজ দিয়ে। আর এই অভিযান করতে গতকালই দুপুরের দিকে বাংলাদেশ দল পৌঁছে গেছে কয়েক বছর আগেও শ্রীলঙ্কার অন্যতম অনুন্নত শহর বলে বিবেচিত হাম্বানটোটায়। দীর্ঘ যাত্রার পর এদিন আর বাংলাদেশ দলের বাধ্যতামূলক অনুশীলন ছিল না। তারপরও কয়েকজন ক্রিকেটার ছুটে গেছেন অনুশীলনে। কারণ, হাম্বানটোটায় নিজেদের সিরিজের শুরুটা তো ভালো করতে হবে।
আর এই সিরিজের শুরুতেই নিজের ‘নতুন শুরুটা’ও করে ফেলার প্রতীজ্ঞা জানালেন জহুরুল ইসলাম। কলম্বোতে থাকতেই ক্রিকইনফোকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে টেস্ট সিরিজজুড়ে দারুণ ধৈর্যের পরিচয় দেয়া জহুরুল এবার নিজেকে টিকিয়ে রাখার স্বার্থে হলেও একটা বড় ইনিংস খেলতে চান।
২০১০ সালে টেস্ট ও ওয়ানডে খেলা শুরু করা জহুরুল খুব নিয়মিত জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পেয়েছেন তা নয়। তারপরও এ পর্যন্ত যে ৫টি টেস্ট ও ১১টি ওয়ানডে খেলেছেন তাতে কখনোই বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। ৫ টেস্টে চারবার ৪০ পার করা ইনিংস খেলেছেন, ১১ ওয়ানডেতে ৪০ পার করেছেন তিনবার। এর মধ্যে একবার মাত্র ওয়ানডে ফিফটি করেছেন, মানে সেট হয়েও বড় ইনিংস খেলতে পারছেন না!
জহুরুল নিজেই মানছেন, এটাই তার ক্যারিয়ার শেষ করে দিতে পারে। কারণ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের অস্তিত্ব জানান দিতে বড় ইনিংস খেলার বিকল্প নেই এটা নিজেই সবচেয়ে ভালো বোঝেন। নাসিরের উদাহরণ দিয়ে বললেন, ‘দেখুন বড় ইনিংস খেলতেই হবে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আমি অনেকগুলো ৪০-এর ঘরে রান করেছি। তারপরও আমি নিজেকে নাসিরের মতো সেটল বলে দাবি করতে পারি না। কারণ, ও সুযোগ পেলেই ইনিংসটা বড় করছে। টেস্ট সেঞ্চুরিও পেয়ে গেছে। আমি নিজেকে নাসিরের থেকে খুব পিছিয়ে থাকা ক্রিকেটার বলে মনে করি না। কিন্তু পার্থক্যটা হয়ে যাচ্ছে ওই বড় ইনিংস। এখন সেটা লাগবেই।’
এই বড় ইনিংসের ব্যাপারটা বাদ দিলে দুই টেস্টে এবং সর্বশেষ ওয়ানডেগুলোতে জহুরুল যে ধারাবাহিকতা দেখিয়েছেন, তাতে তার দলে জায়গা নিয়ে ভাবার কথা নয়। টেস্টে তামিমের সঙ্গী হিসেবে দারুণ পরিণত ক্রিকেট খেলেছেন। ওয়ানডেতে ছয় নম্বরে খেলা শুরু করেছিলেন। পরে কিছুদিন চার নম্বরে খেলার পর এশিয়া কাপে খেলেছেন তিন নম্বরে। তামিম ও এনামুল হকের পর তিনি ভালোই করছেন। এখন অপেক্ষা, হাম্বানটোটাতে নিজের সেই ভালো ফর্মটাকে সেরা ফর্মে অনুবাদ করার।
