ছোটবেলায় আমাদের সবার মা-ই পইপই করে বলতেন, ‘খবরদার রাস্তায় কেউ কিছু দিলে খাবি না।’ যেকোনো নিষেধ অমান্য করতে পারলে আমাদের তৃপ্তি ষোলো আনা আজও, সেদিনও ছিল। তাই, অবলীলায় স্কুল ফেরত পেটে ঢুকেছে ফুচকা, আলুকাবলি, কাঠি আইসক্রিম, বুড়ির চুলসহ আরও অখাদ্যবিশেষ। রাস্তার নাস্তার সঙ্গে তাই আজও আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ আছে।
বাসায় যত মজার খাবারই থাক না কেন, ক্লাস শেষে এ খাবারগুলো চাই-ই চাই। মৌসুমি ফল কেটে বিক্রি চলে শুধু স্কুলের সামনে নয়, রাস্তার প্রায় সব জায়গাতেই। আজকাল রাজপথে হকারদের দেখা যায় পলিথিনে করে এ ফল পৌঁছে দিচ্ছে গাড়ির যাত্রীদের। শসা, পেঁপে, আনারস, জাম্বুরা, ডাব, কাঁচা আম, পেয়ারা, আমড়া, গাজর—সবই পাওয়া যায় খোলা ভ্যানের বিক্রেতাদের কাছে। নোংরা পানিতে ধুয়ে এসব ফল কাটা হয়। এক বালতি পানিতে চলে সারাদিনের যাবতীয় ফল ধোয়া, ফল খাওয়ার পাত্র ধোয়ার কাজ। এ ময়লা পানি দিয়েই আবার ফলগুলো ভিজিয়ে নেওয়া হয়। দুঃসহ গরমে শিশুরা ছাড়াও বড়রা এ খাবার খায়। বিভিন্ন ধরনের শরবতও বিক্রি হচ্ছে এ গরমে। বেল, গুড় বা তেঁতুলের শরবতের নামে জীবাণুভর্তি এ পানীয় মোটেই স্বাস্থ্যসম্মত নয়। এগুলো খেয়ে ডায়রিয়াসহ পেটের নানা রোগ হচ্ছে। সুতরাং সাবধান থাকতে হবে। বোতলজাত সব পানিও বিশুদ্ধ নয়। বাইরে গেলে পানি সঙ্গে রাখা উচিত। আর যদি সেটা না পাওয়া যায়, তবে প্রতিষ্ঠিত ভালো কোম্পানির বোতলজাত পানি খান। কাটা ফল যতটা সম্ভব বাইরে না খাওয়ার চেষ্টা করুন। বাসায় ফল নিয়ে গিয়ে ভালো পানিতে ধুয়ে নিন। এরপর যদি আপনার মসলা মাখানো ফল খেতে হয়, তবে ফলে মসলা মাখিয়ে খান। প্রচুর পরিমাণে ফল ও পানি খান। তবে তা যেন জীবাণুমুক্ত থাকে-এ ব্যাপারে নিশ্চিত হয়ে নিন।
