গ্রুমিং

সিদ্ধান্ত নিন সঠিকভাবে

আপডেট : ২২ মার্চ ২০১৩, ১৬:২৯
পথ চলতে গিয়ে আমাদের বহুবিধ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়। অনেক ক্ষেত্রেই আমরা সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগি যে, কীভাবে সেগুলো মোকাবিলা করব। সেই সাথে অনেক প্রয়োজনের সময় পাশে কাউকে পাওয়া যায় না। একবাক্যে বলতে গেলে আমরা সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হই। তবে আশার কথা হলো যে, বিজ্ঞানের ব্যাপকতা আজ আমাদের মনস্থির করার পন্থা বাতলে দিয়েছে। আমাদের জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে সিদ্ধান্তের প্রয়োজন। আর কখনও সঠিক সিদ্ধান্তের অভাবে আমরা অনেক ভুল করে ফেলি, যার প্রভাব আশপাশের মানুষদের জীবনেও পড়ে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, বিজ্ঞান কীভাবে আমাদের সাহায্য করতে পারে? আমরা অনেক সময় আমাদের মানবিক শক্তিকে অগ্রাহ্য করি, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে। তবে, সৌভাগ্যবশত মনোবিজ্ঞানীগণ ও জীববিজ্ঞানীগণ একত্রে মিলে আমাদের জন্য এই ব্যাপারটি সহজ করে দিয়েছেন। আজ আমাদের আয়োজনে থাকছে সেই ৮টি উপায়, যেগুলো আমাদের জীবনকে সুন্দর করে সাজাতে সহায়তা করতে পারে। ++ কোনো কর্মের ফলাফলকে এড়িয়ে না গিয়ে মোকাবিলা করা। হতে পারে, আমাদের সামনে দুটি অপশন রাখা হলো, বাড়ি অথবা গাড়ি কিংবা কাকে বিয়ে করা যেতে পারে। আর প্রতিটা সিদ্ধান্ত আমরা নিই আমাদের ভবিষ্যতের জন্য। ভালো থাকার নেপথ্যে আমরা কাজগুলো করে থাকি। আমাদের দু ধরনেরই সিদ্ধান্তের সামনে দাঁড়াতে হয়। ভালো ও খারাপ। দেখার বিষয়ে কে কতটা দূরদর্শী ক্ষমতা ব্যবহার করে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। সে ক্ষেত্রে আমরা কী করতে পারি? প্রথমেই নিজের কথা না ভেবে দেখতে হবে, অন্য কেউ কীভাবে তাদের জন্য ব্যাপারটা নিয়েছে এবং তাতে তাদের কী উপকার হয়েছে। তাতে তুলনা করার বিষয়টা সহজ হয়ে যায়। তবে একটা কথা অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে, আমরা যে সিদ্ধান্তই নিই না কেন, তা আমাদের কষ্টও দিতে পারে আবার আনন্দও দিতে পারে। আর সেগুলো যে সব সময় আমাদের চিন্তাধারার সাথে মিলে যাবে—এমনটা আশা করাও বোকামি। ++ নিজের উপর বিশ্বাস রাখতে হবে। কখনও মনে হতে পারে, ভালো সিদ্ধান্তের ফল পেতে কিছুটা সময় লাগে। আবার কখনও সেগুলো ভালো হলেও তেমন উপকারী না-ও হতে পারে। গবেষকরা দেখেছেন যে, মানুষ তার উপস্থিত বুদ্ধি, বিবেক ও দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে আস্থাশীল সিদ্ধান্ত নিতে পারে। ++ কী চাচ্ছি, সেদিকে দৃষ্টি দেওয়া। আমাদের চাওয়াগুলো অনেক সময় অপ্রাসঙ্গিক হয়ে দাঁড়ায়। যেমন—কোনো মার্কেটে গেলে যদি আমরা দেখি, কোনো কিছুর মূল্যহ্রাস দেওয়া আছে, তাহলে প্রয়োজনীয় জিনিসটা বাদ দিয়ে কমমূল্যের দিকে ঝুঁকে পড়ি। গবেষকরা জানিয়েছেন, এ সমস্যা আমাদের সবার। এর সমাধান কষ্টকর। কারণ, আমরা জানি না, আমরা কে কতটা ব্যাপারটায় আসক্ত। ++ সীমাবদ্ধতার কথা। অনেকে মনে করে, আমাদের সামনে অনেক চয়েজ থাকলে মনে হয় বেছে নেওয়ায় সুবিধা হতো। কিন্তু সত্যটা হলো, কেউ যদি চকলেট কিনতে চায়, তা হলে ৫টার মধ্যে বেছে নিয়ে যে আনন্দ সে পেতে পারে, তা ৩০টার মধ্যে বাছতে গেলে পায় না। সেই সাথে বেশি অপশনের ক্ষেত্রে ভুলের পরিমাণও বেশি হয়। আর অপশন বাড়িয়ে সেগুলো পূরণ না হলে মনের উপর তার বিরূপ প্রভাব পড়ে। তাই কম অপশনের মধ্যে নির্বাচন করে অল্পতেই সন্তুষ্ট থাকার অভ্যাস গড়ে নিতে পারলে জীবনটাকে উপভোগ করা সহজ হয়।