পশ্চিমের ৭ জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত নদ-নদীগুলো এখন একেকটি মৃত খালে পরিণত হয়েছে। আজ থেকে ৬০ -৭০ বছর আগেও কোন কোন নদীতে লঞ্চ-স্টিমার চলতো। এখন নদীবক্ষে চাষাবাদ হচ্ছে। দীর্ঘকাল যাবত্ নদীগুলো সংস্কার হয় না। এ অঞ্চলের উপর দিয়ে প্রবাহিত নদ-নদীগুলো পদ্মার প্রধান দু’শাখা মাথাভাঙ্গা গড়াইয়ের মাধ্যমে প্রবাহ পেতো। শুষ্ক মৌসুমে পদ্মাই শুকিয়ে যায়। ফলে শাখা নদী দুটোও শুকিয়ে যায়। বলতে গেলে যশোর, নড়াইল, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া ও মাগুরা জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত নদ-নদীগুলোর মধ্যে গড়াই জীবিত আছে। গড়াইকে খনন করে বাঁচিয়ে রাখা হচ্ছে। তবে বেশির ভাগ নদ-নদী প্রবাহ পেতো মাথাভাঙ্গা থেকে। এককালে ভৈরব ছিল স্রোতস্বিনী নদী। ভারতের জলঙ্গী নদী থেকে ভৈরবের উত্পত্তি। মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ ও যশোর জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে খুলনায় রূপসার সাথে মিশেছে। ভৈরবের দৈর্ঘ্য দু’শ’ ১৮ কিলোমিটার। আপার ভৈরব মরে গেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১১ সালে মুজিবনগর দিবসে জনসভায় ভৈরব পুনঃখননের ঘোষণা দিয়ে ছিলেন। আজও ভৈরব পুনঃখনন কাজ শুরু হয়নি। লোয়ার ভৈরব জীবিত থাকলেও আপার ভৈরব মৃত। বেদখল চলছে। নদীবক্ষে ধান চাষ হয়। মাথাভাঙ্গা একটি সীমান্ত নদী। বাংলাদেশে প্রবেশের পর চুয়াডাঙ্গা জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার পর দর্শনা সীমান্ত দিয়ে ভারতে ঢুকেছে। নদীটির উত্স মুখে বিশাল চর জেগে শুষ্ক মৌসুমে পানি প্রবাহ থেমে যায়। মাথাভাঙ্গার শাখা নদীগুলোর পানি প্রবাহ অনেক আগেই থেমে গেছে। চৌগাছার তাহিরপুরে ভৈরব থেকে কপোতাক্ষ উত্পত্তি হয়েছে। ঝিনাইদহ, যশোর ও সাতক্ষীরা জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে সুন্দরবনের নদীর সাথে মিশেছে। কপোতাক্ষের একশ’ কিলোমিটার মজে গেছে। ভাটিতে কপোতাক্ষ একটি মানুষের দুঃখের নদীতে পরিণত হয়েছে। ২শ’ ৩০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য নবগঙ্গা নদী আজ মৃত। মাথাভাঙ্গা ছিল এ নদীর পানির উত্স। ভরাট হয়ে গেছে উত্স মুখ। ফলে পানি প্রবাহ পায় না। একশ’ ৩০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য চিত্রাও এখন মৃত নদীর তালিকায়। উজানের অংশ শুকিয়ে গেছে। ভাটিতে নড়াইলে জীবিত আছে। এক সময় চিত্রাতে ইলিশ মাছ মিলতো। একথা নতুন প্রজন্মের কাছে গল্প মনে হবে। মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত ২২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য হানু নদী হারিয়ে গেছে। বেগবতী নদীরও অস্তিত্ব সংকটের পথে। যশোরের বেতনা ও হরিহর নদীও মরে গেছে। জিকে প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় কালী, কুমার ও ডাকুয়ার নদীর উত্স মুখে বাঁধ দেয়ায় নদী ৩টি আজ মৃত। মাগুরা ও ঝিনাইদহ জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত ফটকী নদীও মুছে যাওয়ার পথে। টেকা, হিসনা ও কাজলা নদীও মরে গেছে। নদ-নদীগুলো মরে যাওয়ায় পশ্চিমের ৭ জেলায় প্রায় দেড় হাজার কিলোমিটার নদীপথ হারিয়ে গেছে। নষ্ট হচ্ছে জীববৈচিত্র্য। দক্ষিণের লবণাক্ততা উত্তরমুখী হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের কুষ্টিয়ার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ওবায়দুর রহমান জানান, একমাত্র মেহেরপুরে ২৯ কিলোমিটার ভৈরব খননের একটি প্রকল্প তাদের হাতে আছে। ৭৫ কোটি টাকা ব্যয় সাপেক্ষ এ প্রকল্পটি একনেক’র অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে।
