রংপুরের গঙ্গাচড়ায় পরপর কয়েক বছর আলুতে লোকসান গুনছেন চাষিরা। এ অবস্থায় কৃষকদের মেরুদণ্ড ভেঙে যাচ্ছে। ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আলুর পরিবর্তে মটরশুটি চাষ করতে চাষিদের উদ্বুদ্ধ করার পদক্ষেপ নিয়েছে গঙ্গাচড়াস্থ বুড়িরহাট কৃষি গবেষণা কেন্দ্র।
বুড়িরহাট কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে এ বছর দেড় বিঘা জমিতে মটরশুটি চাষ করা হয়েছে। কৃষকদের মাঝে আগ্রহ সৃষ্টি করতে মাঠ দিবসও অনুষ্ঠিত হয়েছে। আলুর চেয়ে মটরশুটি উত্পাদনে খরচ কম কিন্তু লাভ বেশি। আলুতে উত্পাদন খরচ বেশি ও ঝুঁকিপূর্ণ। স্থানীয় বাজারে মটরশুটির চাহিদা রয়েছে। কৃষি গবেষণা কেন্দ্র বুড়িরহাটের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ জানান, মটরশুটি পুষ্টিগুণসম্পন্ন, সুস্বাদু শীতকালীন সবজি। এ সবজি উত্পাদনে ৬৫/৭০ দিন সময় লাগে। আর এ সবজি চাষের জন্য একটু উঁচু জমি হলে ভাল হয়। তিনি আরো জানান, ১ বিঘা জমিতে মটরশুটি উত্পাদনে সার, বীজ, শ্রমিকসহ খরচ হয় ১১ হাজার টাকা। এক বিঘা জমিতে কমপক্ষে ১ হাজার ২শ কেজি মটরশুটি উত্পাদন হতে পারে। যার বাজার মূল্য ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা। অন্যদিকে আলুতে খরচ হয় ১৫/১৬ হাজার টাকা। বাজারে বিক্রি হয় সর্বোচ্চ ২২/২৩ হাজার টাকায়। তাছাড়া মটরশুটি চাষে কীটনাশকের ব্যবহার নেই বললেই চলে। কিন্তু আলুতে ব্যাপক কীটনাশক ব্যবহার করতে হয়। হারুন অর রশিদ আরো জানান, আমন ধান তোলার পর নভেম্বরের ১ম সপ্তাহে মটরশুটি লাগানো যেতে পারে। আর জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে ফসল সংগ্রহ করা যাবে।
