প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের অপসারণ দাবি

মির্জাপুরে প্রাইমারি স্কুলে ৩৭ কর্মচারী নিয়োগে দুর্নীতি

আপডেট : ২২ মার্চ ২০১৩, ২১:১৮
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের টিএলএম সামগ্রী ক্রয় এবং বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩৭ জন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া ১৫৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার জন্য সরকারি বরাদ্দের বিপুল পরিমাণ টাকা হরিলুট হয়েছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও কয়েকজন শিক্ষক নেতা যোগসাজশ করে ক্ষমতাসীন দলের নাম ভাঙ্গিয়ে এই টাকা আত্মসাত্ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত বুধবার মির্জাপুর উপজেলার কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। বুদিরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও শিক্ষক নেতা মঞ্জুর কাদের, কাণ্ঠালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল হামিদ, দেওহাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম, গোড়াইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোতাহার হোসেন, শিক্ষক নেতা জসিমউদ্দিনসহ শতাধিক শিক্ষক অভিযোগ করেন, সম্প্রতি মির্জাপুর উপজেলার ৩৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩৭ জন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ হয়েছে। এই কর্মচারী নিয়োগে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও তার সহযোগীরা জনপ্রতি আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা নিয়েছেন। প্রার্থীরা অভিযোগ করেছেন যোগ্যদের বাদ দিয়ে এই চক্রটি অযোগ্যদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে তাদের নিয়োগ দিয়েছে। তারা এই নিয়োগ বাতিলের দাবি জানিয়েছে। তারা আরো অভিযোগ করেন গত কয়েকদিন পূর্বে উপজেলার ১১৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিখন, শেখানো সামগ্রী (টিচিং, লার্নিং ও মেটেরিয়াল) কেনার জন্য ৫ লাখ ৮৫ হাজার টাকা সরকারিভাবে বরাদ্দ শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে দেয়া হয়। উপজেলা শিক্ষা অফিসার ক্ষমতাসীন দলের নাম ভাঙ্গিয়ে এবং চিতেশ্বরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছানোয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগসাজশ করে এই বরাদ্দের বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাত্ করেছেন বলে ভুক্তভোগী শিক্ষকরা জানিয়েছেন। এছাড়া ১৫৮টি বিদ্যালয়ে বার্ষিক খেলাধুলা পরিচালনার জন্য আসা ২৫শ টাকা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে ১৫টি মাঠে খেলা পরিচালনার জন্য ১২শ করে টাকা বরাদ্দ হলেও সে টাকা থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ শিক্ষা অফিসার মইনুল হোসেন আত্মসাত্ করেছেন বলে শিক্ষকরা অভিযোগ করেছেন। এ ব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মইনুল হোসেন বিভিন্ন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এগুলো সত্য নয়। সরকারি নিয়মমত বিভিন্ন বিদ্যালয়ে টিএমএলের টাকা বিতরণ করা হয়েছে। ৩৭ জন কর্মচারী নিয়োগ ও অর্থ নেয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নিয়োগ কমিটি পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ কাজ সম্পন্ন করেছে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফরোজা আকতার চৌধুরী বলেন, সকল দিক বিবেচনা করে যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে। কোন অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়নি। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও শিক্ষা উন্নয়ন কমিটির সভাপতি মীর এনায়েত হোসেন মন্টু বলেন, এ ধরনের অভিযোগ তার কাছেও এসেছে। তবে নিয়োগ কমিটিতে তাকে রাখা হয়নি। ভুক্তভোগী শিক্ষক ও শিক্ষা অফিসের কর্মচারীরা শিক্ষা অফিসারকে দ্রুত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, ঘুষ ছাড়া ফাইল নড়ে না, মির্জাপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে অনিয়ম-দুর্নীতি শীর্ষক একটি প্রতিবেদন দৈনিক ইত্তেফাকে গত ১১ জুন প্রকাশিত হলে প্রশাসনের টনক নড়ে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে একটি তদন্ত কমিটি হয়। মির্জাপুর উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মইনুল হোসেনকে স্ট্যান্ড রিলিজ করে কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারি উপজেলায় দেয়া হয়। কিন্তু তিনি তদন্ত কমিটির সদস্যদের ম্যানেজ করে কর্মস্থলে যোগদান না করে সরকারি দলের প্রভাব খাটিয়ে আবার মির্জাপুরে যোগদান করেন।