উদার গণতন্ত্রের জন্য প্রয়োজন গণতন্ত্রের সঠিক চর্চা
বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক দেশ। কিন্তু সেখানে নেই গণতন্ত্রের সঠিক চর্চা। বর্তমানে আমাদের দেশে যারা গণতন্ত্রের দাবিদার, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য জোরগলায় কথা বলছেন, নিজেদের জীবন পর্যন্ত উত্সর্গ করে দেয়ার কথা বলছেন, তারা কী আসলেই গণতন্ত্রের জন্য কাজ করছেন না কি গণতন্ত্রের নামে নিজেদের উদ্দেশ্য হাসিলে মত্ত? বর্তমানে আমাদের দেশের গণতন্ত্রের যে অবস্থা সেটাকে উদার গণতন্ত্র না বলে সংকীর্ণ গণতন্ত্র বলা যেতে পারে। বিরোধী দল ও অন্যান্য দলও যেভাবে একের পর এক হরতাল ডেকে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে, দেশের অর্থনৈতিক ও শিল্প ব্যবস্থাকে পঙ্গু করে দিচ্ছে। দেশের নতুন প্রজন্মকে অন্ধকারে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। পক্ষান্তরে সরকারও জুলুম, নির্যাতন ও দমন নীতিতে আছে। নির্বিচারে মানুষ গুলি করে হত্যা করছে। দেশকে পঙ্গুত্বের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সরকারকেও সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। আলোচনার মাধ্যমে সকল সমস্যার সমাধান বের করতে হবে এবং সকলকে উদার গণতান্ত্রিকতার পরিচয় দিতে হবে।
এম এ মুকিত,
আল-কুরআন এ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ,
ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।
বাংলাদেশে উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতি অন্ধকারময়
বড়ই দুঃখ হয় আজকের অস্থিতিশীল রাজনীতির দিকে তাকালে। কারণ এই রাজনীতিই দেশটাকে ঠেলে দিচ্ছে নিশ্চিত ধ্বংসের দিকে। আর তার প্রভাব পড়ছে আমাদের মত মানুষের উপর। যাদের এই অবস্থার কারণে হয়তো একদিন উজ্জ্বল ভবিষ্যত্ দেখা নাও হতে পারে। আমাদের দেশের যে অবস্থা তাতে জীবন নাকের ডগায় চলে এসেছে। কখন কোন নিরপরাধ মানুষ এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যাবে তার নিশ্চয়তা নেই। যদি আজ সকল রাজনৈতিক দলের উদার গণতান্ত্রিক মনোভাব থাকতো তবে এই রকম অস্থির রাজনীতির সম্মুখীন হতে হতো না। কোন দলই দেশকে নিয়ে ভাবে না, ভাবলে তারা কখনই হরতাল, খুন— এসব কাজ করত না। কোন কাজ যা কোন রাজনৈতিক দলের বিপক্ষে যায়, এমনটি করলে একপক্ষ আরেক পক্ষকে দোষারোপ করতে থাকে। অন্যের দোষ খুঁজে বেড়ানো এদের মনে হয় প্রধান কাজ! আর তাই মানুষ তার অধিকারের কথা বলতেও ভয় পায়। ‘উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতি’ এমন একটি জাদুর পরশমনি, যা দেশে বিদ্যমান থাকলে দেশের ভবিষ্যত্ অবশ্যই হীরার মত উজ্জ্বল ও চকচক করবে। সকল রাজনৈতিক দলকে এগিয়ে আসতে হবে, দেশকে নিয়ে ভাবতে হবে।
নুরানী আক্তার নিপা,
ভাষা বিভাগ, ১ম বর্ষ,
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী।
উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য দরকার শুধুমাত্র সত্ ইচ্ছা ও সত্ সাহস
এই দেশে উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য শুধুমাত্র সত্ ইচ্ছা ও সত্ সাহস থাকলেই যথেষ্ট। কেননা আর বাকি সকল অবস্থা অন্যান্য দেশের তুলনায় মোটামুটি অনুকূলে। তাই সরকার নিজের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য এবং নিজের অযোগ্যতাকে ঢেকে ফেলার জন্য মিথ্যা ও অন্যায়ের আশ্রয় না দেয়া। মানুষ, সমাজ, দেশ ও জাতির স্বার্থের কাছে নিজের স্বার্থকে তুচ্ছ করা। নিজের জীবনকে কল্যাণ ও সত্যের কাছে বিলিয়ে দেয়া। কখনো লোভ-লালসাকে প্রাধান্য না দেয়া। আর এগুলো একমাত্র সম্ভব সত্ ইচ্ছা ও সত্ সাহসের মাধ্যমে। যা মানুষকে মহান ও মহীয়ান করে তুলে। এই সমস্ত ধ্যান-ধারণা ও প্রয়োগ উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির এক সুনির্দিষ্ট এবং চমত্কার পথ। যা একটি দেশ গড়ার পক্ষে অপরিসীম অবদান রাখে।
মো. আমিনুল ইসলাম,
অনার্স ২য় বর্ষ, প্রাণিবিদ্যা বিভাগ,
সরকারি তিতুমীর কলেজ, ঢাকা।
দল, মতের ঊর্ধ্বে উঠে রাজনীতি করলে উদার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে
১৯৯০ সালের পর থেকে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হলেও বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্র প্রবল হুমকির মুখে। এর জন্য যতটুকু সাধারণ মানুষ দায়ী, তার চেয়ে বেশি দায়ী এ দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক দল ও দলের নেতৃবৃন্দ। বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সময় যারা রাজনীতি করেছে তাদের মূল লক্ষ্য ছিল দেশ রক্ষা, দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা। কিন্তু বর্তমান সময় যারা রাজনীতি করে তাদের মূল লক্ষ্য ক্ষমতায় যাওয়া, পেট রক্ষা, পরিবার রক্ষা ও প্রতিহিংসা করা। ফলে স্বাধীন এ রাষ্ট্রে উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির ভবিষ্যত্ অনুজ্জ্বল হয়ে পড়েছে। কিন্তু আপামর জনসাধারণ চায় উদার গণতন্ত্র। এমতাবস্থায় রাজনৈতিক নেতারা যদি দেশের জাতীয় ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে একমত পোষণ করে; দল, মত, ধর্ম, বর্ণ, জাতি, গোষ্ঠীর ঊর্ধ্বে ওঠে কাজ করে তবেই বাংলাদেশের গণতন্ত্র উদার হবে। উদার গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার প্রতি আপামর জনসাধারণের সমর্থন প্রবল। তবে এক্ষেত্রে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে সমন্বয় থাকতে হবে। রাজনীতিবিদরা প্রতিহিংসা ভুলে সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করলে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ফিরে পাবে তার সুন্দর সুসজ্জিত ভবিষ্যত্।
মো. জামাল উদ্দিন,
আইন বিভাগ,
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
উদার গণতন্ত্রের ভবিষ্যতের জন্য সরকার ও বিরোধী দলকে জনগণের কল্যাণের জন্য কাজ করতে হবে
প্রতিটি রাজনৈতিক দলই আমাদের আশার বাণী শুনিয়ে ক্ষমতার সিংহাসনে বসে নিজেদের কথা ভাবে। এরকম হীন মনমানসিকতা পরিত্যাগ করা উচিত। দেশের যে প্রান্তেই তাকাই না কেন সেখানে কিছু না কিছু সমস্যা আছে। এ সমস্যা সমাধানের জন্য অনেকে আশার বাণী শুনালেও তা বাস্তবে হয়নি। যদি এরূপে দেশ চলতে থাকে তা হলে বাংলাদেশের উদার গণতন্ত্রের ভবিষ্যত্ সমুদ্রের তলদেশে ডুবে যাবে। বর্তমানে সমগ্র জাতি আজ দিশেহারা। হতাশাগ্রস্ত অবস্থায় পড়ে আছে। সকলে সুখ নামের ময়না পাখিকে কাছে পাবার জন্য ব্যাকুল। কিন্তু আমাদের ভাগ্যটা এতোটাই খারাপ যে, আমরা যত সুখ সুখ করি, সুখ তত দূরে চলে যায়। অবশ্য ভাগ্যকে দোষ দেয়া হবে বোকামি মাত্র। কেননা এর জন্য আমরা নিজেরাই দায়ী। আমাদের ভাগ্যের চাকাকে পরিবর্তন করার জন্য নিজেদের পরিশ্রম করতে হবে। হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে কাঁধে কাঁধ রেখে দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করতে হবে। পরিবেশে সকলের নিকট আমার আকুল আবেদন এই যে, বাংলাদেশ উদার গণতান্ত্রিক রাজনীতির ভবিষ্যেক সুন্দরভাবে গড়ার জন্য সর্বসাধারণের মনকে ফুলের মতো পবিত্র করে, লোভ-লালসা ত্যাগ করে ভালো কাজ করা এবং অন্যকে ভালো কাজ করার প্রতি উত্সাহ প্রদান করা। তবেই সুন্দর একটি বাংলাদেশ আমরা গড়তে পারবো।
মো. আবদুর রহমান সুমন,
বিএসএস,
সরকারি তোলারাম কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়,
নারায়ণগঞ্জ
