টানা জয়ে সুবিধাজনক অবস্থায় আবাহনী

আপডেট : ২২ মার্চ ২০১৩, ২১:৩০
কমলাপুর স্টেডিয়ামে বিরতির পর বৃষ্টি নেমে মাঠ ভেজালেও আবাহনী লিমিটেড এবং ব্রাদার্স ইউনিয়নের মধ্যকার প্রথমার্ধের ফল বদলালো না। ফলে আবাহনী এটিএন বাংলা স্বাধীনতা কাপ ফুটবলে ‘বি’ গ্রুপের খেলায় ২-১ গোলের ব্যবধানেই হারাল ব্রাদার্সকে। শিরোপাধারী ফরাশগঞ্জের বিরুদ্ধে জয় দিয়ে শুরু করা আবাহনী এ নিয়ে দুই খেলায় ছয় পয়েন্ট পেল। এখন তাদের সেমিফাইনালে ওঠা নির্ভর করছে ২৮ মার্চ গ্রুপের অপর শক্তিশালী দল শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের বিরুদ্ধে অনুষ্ঠেয় খেলাটির উপর। আবাহনী গতকাল এ প্রতিযোগিতায় নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ব্রাদার্সের বিরুদ্ধে যেভাবে শুরুটা করেছিল তা ধরে রাখতে পারেনি। দারুণ সূচনার পর আবাহনী পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল আদায় করে নেয়। আবাহনীর আক্রমণে কোণঠাসা হয়ে পড়ে ব্রাদার্স। ২০ মিনিটে গোল পেল কোমলের হেড থেকে। মিশু ফ্রি কিক করলেন। বলটা পেয়েই তাতে কপাল ছুঁয়ে দিলে ব্রাদার্সের গোলকিপার সবুজ দাস রঘু হাত বাড়িয়েও নাগাল পেলেন না (১-০)। গোলের আনন্দের রেশটা না কাটতেই ২২ মিনিটে আবাহনীর স্কোর লাইন স্ফীত হলো। উইং থেকে আসা বলে ব্রাদার্সের পোস্টে শট নিতে পারলেন না আবাহনীর ঘানাইয়ান লাকিপল। তারপরও বলটি বিপদমুক্ত করতে পারেননি ব্রাদার্সের ডিফেন্ডার অধিনায়ক ইউসুফ আলী। বল গড়িয়ে এবার লাকিপলের স্বদেশি থুয়াম ফ্রাঙ্কের পায়ে যাওয়ার সাথে সাথে টোকা দিয়ে বল জালে গড়িয়ে দেন তিনি (২-০)। ব্রাদার্সের ডিফেন্ডার ইউসুফ আলী, আশরাফুল করিম, রাশেদুল মনি, খান শরিফ, নাইজেরিয়ান এডাম জাঙ্কাসরা ঠেকাতে পারেননি আবাহনীর ইব্রাহিম, ফ্রাঙ্ক, লাকিপল, কোমল, রনিদের। তারপরও দুই গোলের পর আবাহনীর উত্তাপটা হারিয়ে গেল। অথচ প্রাপ্ত সুযোগগুলোর বিবেচনায় দলটির গোল সংখ্যা বাড়তে পারত। কিন্তু সেটা হয়নি সুযোগগুলো কাজে লাগাতে না পারায়। দুই গোল হজমের পরও ব্রাদার্স হাল ছাড়েনি। তবে আগের ম্যাচে শেখ রাসেলের বিরুদ্ধে দুইবার গোল করে এগিয়ে থেকেও ৩-২ ব্যবধানে হেরেছিল গোপীবাগের দলটি। ব্রাদার্স ইউনিয়ন থেকে কমলাপুর স্টেডিয়ামের দূরত্ব পায়ে হাঁটা পথ। এলাকার বড়দের সাথে ছোট ছোট ছেলেরাও কাল মাঠে এসে চিত্কার করে সমর্থন দিল দলের খেলোয়াড়দের। একটা সময় ব্রাদার্সের ভাগ্য খুলল ম্যাচের প্রথমার্ধের শেষ বাঁশি বাজার আগে। নাইজেরিয়ার অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার সামসুন ইলিয়াসু স্বদেশি কিংসলে চিগোজিকে বল ঠেলে দিলে তিনি ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক ডিফেন্ডার ওয়ালি ফয়সালকে পেছনে ফেলে গোল করলেন (১-২)। এই গোলে আশা জাগলেও শেষ রক্ষা হয়নি তাদের। আবাহনীর সুজন সামাদ ইউসুফ, ইনজুরির কারণে মাঠে ছিলেন না। সিরাজী, ওয়ালী ফয়সাল, ভাসানী, ক্যামেরুনের ইয়োকো স্যামনিকের মধ্যে সমঝোতার অভাব ছিল। এই মৌসুমে রাইট ব্যাক সিরাজি তৃতীয় ম্যাচ খেললেন। কমলাপুর স্টেডিয়ামে বিরতির সময় এক পশলা বৃষ্টি হয়ে গেল মাঠে। কয়েক মিনিটের বৃষ্টির পর আকাশে আবার ঝকঝকে রোদ। খেলাটাও ভালো হয়েছিল। কিন্তু আর কোন গোলের দেখা পায়নি দল দুটি। যদিও এ অর্ধে দলকে আরেকটি সম্ভাব্য গোল থেকে রক্ষা করেছেন ব্রাদার্সের ডিফেন্ডার খান শরিফ। রনির কাছ থেকে বল পেয়ে গোলকিপার সোহেলকে কাটিয়ে গোলপোস্ট দেখে নিয়ে কোণাকুনিভাবে বলে টোকা দিলেন লাকিপল। দৌড়ে গিয়ে খান শরিফ বল থামিয়ে দিলে ব্যবধানটা ২-১ থাকল। আবাহনীর ইরানী কোচ রনিকে তুলে নিয়ে এনামুলকে সুযোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু এনামুল দাগ কাটতে পারলেন না। টানা দুই হারের পর ব্রাদার্সের আর উপরে ওঠার কোন সুযোগই রইল না।