কোচ সিজার প্রানডেল্লির কাছ থেকে অকৃপণ প্রশংসা পেয়েছেন মারিও বালোতেল্লি। বিশেষ করে দলের সাথে একাট্টা হয়ে খেলার জন্য। তার অসাধারণ নৈপুণ্যে ইটালি গত বৃহস্পতিবার জেনেভায় ব্রাজিলের সাথে প্রীতি ম্যাচে দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও সমতা আনে।
বালোতেল্লিকে নিয়ে খেলা শেষে ইটালি কোচ বলেন, ‘আমি জানি বিশ্বের অন্যতম সেরা হতে সে কতটা মরিয়া। কিন্তু তাকে মনে রাখতে হবে, কিভাবে সে এই অবস্থানে পৌঁছাতে পারে এবং সেটা হতে হবে দলীয় সংহতির মধ্য দিয়ে। আজ রাতে সে ঠিক এ কাজটিই করে দেখালো, একজন সত্যিকারের চ্যাম্পিয়নের মতো।’
জয়-পরাজয়ের ফয়সালা না হলেও, দুই দলই এই রাতে লড়েছে সমানে। বালোতেল্লি ব্রাজিলের বিরুদ্ধে কেবল একটা সমতাসূচক গোলই করেননি, নজরকাড়া নৈপুণ্য দেখান এই রাতে। খেলায় তিনি বল কুড়িয়ে নিতে আক্রমণ থেকে নীচে নেমে আসেন ক্ষণে ক্ষণে এবং সতীর্থদের পাশাপাশি নিজের জন্যও বেশ কয়েকটি গোলের সুযোগ বের করে নিয়েছিলেন।
মূলত জানুয়ারিতে ইংলিশ চ্যাম্পিয়ন ম্যানচেস্টার সিটি থেকে এসি মিলানে আসার পর থেকেই যেন পুনরুজ্জীবন ঘটেছে ইটালিয়ান এই স্ট্রাইকারের। সিরিএ’তে ছয় খেলায় সাত গোল করেন তিনি। ব্রাজিলের বিরুদ্ধে খেলাটিতে শুরু থেকেই বালোতেল্লি গোলের সুযোগ তৈরি করেছেন। যদিও সফল হতে পারছিলেন না। বরং ব্রাজিল প্রথমার্ধ শেষে দুই গোলে এগিয়ে গিয়েছিল। এরপর দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ায় ইটালি।
সব মিলিয়ে ক্লাবের পাশাপাশি জাতীয় দলেও গোল পেলেন তিনি। অসাধারণ এক গোলে দলকে সমতায় ফেরান বালোতেল্লি। সেইসাথে তিনি বেশ কয়েকবার সতীর্থদের গোলের সুযোগও তৈরি করে দিয়েছিলেন ২২ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার।
প্রানডেল্লি তার খেলোয়াড়দের কাছ থেকে সবসময় ত্রুটিহীন আচরণ প্রত্যাশা করেন। এ কারণে কোন কোন সময়ে বালোতেল্লির সঙ্গে তার সম্পর্ক ভাল ছিল না। একপর্যায়ে খ্যাপাটে স্বভাবের খেলোয়াড়টিকে তিনি জাতীয় দলের আচরণ বিধি না মানায় দল থেকেও বাদ দিয়েছিলেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তার আছে বিশ্বের সেরা পাঁচজনের মধ্যে জায়গা করে নেয়ার ক্ষমতা। সেজন্য দরকার ধারাবাহিকতা যা এ মুহূর্তে সে দেখাচ্ছে। তারপরও বালোতেল্লিকে আমি বিশ্বাস করি। আজ রাতে সে দলের খেলোয়াড়ের মতই খেলেছে। মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগের মধ্যে সবসময় সঠিক ভারসাম্য ধরে রেখেছে সে।’
