ভারতের কোচবিহার জেল থানায় বন্দি ৬ বছরের শিশু সালামের লেখা চিঠি কুড়িগ্রামে তার মা ও ভাইয়ের কাছে। ‘প্রাণের মা ও ভাইয়া, প্রথমে আমার হাজার হাজার ছালাম নিবেন। আশাকরি তোমরা বাড়ি সবাই ভালো আছো। মা আমি বাড়ির কোন খবর পাই না। আমার খুব চিন্তা হয়। তুমি আমাদের জন্য দেয়া করবেন........’ দেশ কাকে বলে, বিদেশ কি, সীমান্ত কেমন—এসব বুঝে ওঠার আগেই কুড়িগ্রামের ৬ বছরের শিশু সালামের জীবনের আড়াইটি বছর কেটে গেল ভারতীয় কারাগারে। অবৈধভাবে সীমান্ত পার হওয়ার অপরাধে আড়াই বছরের কারাদণ্ড হয় শিশুটির। কারাদণ্ড ভোগ করে গত ২১ মার্চ শিশুটি বাড়ি ফিরলে এলাকাবাসী তাকে দেখার জন্য ভিড় জমায়।
নাগেশ্বরী পৌর এলাকার কবিরেরভিটা গ্রামের আইনউদ্দিনের পুত্র এনামুল হক জীবিকার তাগিদে দালালের খপ্পরে পড়ে ২০১০ সালের ৩০ আগস্ট সপরিবারে ফুলবাড়ি সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন। পরদিন বিকালে শিশুপুত্র সালামসহ এনামুলকে বিএসএফ আটক করে ক্যাম্পে নিয়ে যায়।
বিএসএফ ক্যাম্পে এনামুলকে অমানসিক নির্যাতন করে দিনহাটা থানা পুলিশে হস্তান্তর করে। থানা পুলিশ তাদের জেলহাজতে পাঠালে বিনা বিচারে ৩ মাস জেলখাটার পর অবৈধ প্রবেশের দায়ে ভারতীয় আদালত ২৭ মাস সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করে কোচবিহার জেল হাজতে প্রেরণ করে। যে বয়সে হৈ হুল্লোড়, ছোটাছুটি করে বেড়ানোর কথা, বইখাতা নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে স্কুলে যাওয়ার কথা, সে বয়সে কারাগারের চার দেয়ালের মধ্যে আড়াইটি বছর কেটে গেল সালামের। জেলখানা কি, কারাদণ্ড কাকে বলে, আড়াই বছর কতটা সময়—এর কোন কিছুই বোঝার বয়স হয়নি সালামের। সীমাহীন আকাশের নিচে দুরন্তপনায় মেতে ওঠার সময়টা তার নীরবে কেটেছে কারাগারের ছোট্ট অন্ধকার কুঠরিতে। ছোট্ট বুকে পাথরের মত চেপে ছিল অজানা শঙ্কা। সে তার মাকে আবার দেখতে পাবে তো? মা, ভাইয়ার জন্য মন কেমন করলেও সেকথা সে বোঝাতে পারতো না কাউকে। গত ১৭ মার্চ বাবা এনামুলের সাথে সে জেল থেকে বেরিয়ে আসে। ওইদিন বিকালে ভারতীয় পুলিশ বুড়িমারি স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ পুলিশের হাতে তাদের হস্তান্তর করলে ৪ দিন পর ২১ মার্চ সন্ধ্যায় তারা বাড়িতে ফিরে আসে।
এনামুল জানান, কোচবিহার জেলে নারী ও শিশুসহ দুই শতাধিক বাংলাদেশি বন্দী আছে। এদের অনেকেই বিনাবিচারে দীর্ঘদিন আটক।
