বড়লেখায় পরোয়ানাভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তারের পর ছেড়ে দিল পুলিশ

আপডেট : ০৬ মে ২০১৯, ০০:৫৪

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তারের পর একজনকে রহস্যজনক কারণে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। তবে পুলিশের দাবি, ওই আসামির নিজের ও পিতার নাম ঠিক থাকলেও ঠিকানায় গরমিল হওয়ায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। থানা থেকে ছাড়া পাওয়া ওই আসামির নাম আমির উদ্দিন (৫৩)। তিনি পূর্ব দক্ষিণভাগ গ্রামের মৃত আব্দুল বারির ছেলে। গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামিকে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়ার খবরে ওই এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রেলওয়ের গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ এনে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া রেলওয়ে থানা পুলিশ ২০১৮ সালে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করে। রেলওয়ে থানার (৫/১৮ নম্বর) মামলায় বড়লেখা উপজেলার পূর্ব দক্ষিণভাগ গ্রামে আমির উদ্দিন (৫৩) এবং (২/১৮ নম্বর) মামলায় গাংকুল গ্রামের বাবুল ইসলামের (২৪) বিরুদ্ধে সম্প্রতি মৌলভীবাজার জেলার ৫ নম্বর আমল গ্রহণকারী আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

এদিকে গত শুক্রবার (০৩ মে) রাত ৮টার দিকে বড়লেখা থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) জাহিনুর রহমান ও জাহাঙ্গীর হোসেন অভিযান চালিয়ে বাবুল ইসলামকে বাড়ি থেকে এবং আমির উদ্দিনকে দক্ষিণভাগ বাজারের হারিছ মাইক হাউজ থেকে গ্রেপ্তার করেন।

গ্রেপ্তারের আনুমানিক ৩ ঘণ্টা পর রাতেই আমির উদ্দিনকে ছেড়ে দেওয়া হয়। অপর আসামি বাবুল ইসলামকে পরদিন আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
পরোয়ানাভুক্ত আসামিকে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) জাহিনুর রহমান রবিবার রাত ৯টার দিকে মুঠোফোনে বলেন, ‘আমরা আসামি গ্রেপ্তারের মালিক। ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে জানি না। আপনি ওসি স্যার ও তদন্ত স্যারদের সাথে কথা বলেন।’

এই বিষয়ে জানতে চাইলে বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াছিনুল হকের মুঠোফোনে ফোন করা হলেও রিসিভ না করায় তার বক্তব্য জানা যায়নি।

পরে থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জসীম মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি বলেন, ‘আমির উদ্দিনের বাড়ির ঠিকানা সঠিক নয়। গরমিল ছিল। থানায় আনার পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। হার্টের রোগী। আরো অনেক কিছু বিষয় আছে। এই সমস্ত কারণ বিবেচনা করে আমরা তাকে ছেড়ে দিয়েছি। যেহেতু ঠিকানায় ভুল। আমরা থানায় রাখতে পারি না। ঠিকানা ভুল থাকলে তো কোর্ট তাকে গ্রহণ করবেন না। পুলিশ হেফাজতে আনা হয়েছিল এটা সত্য।’

ইত্তেফাক/আরকেজি