কৃষক ও ভোক্তা স্বার্থ সংরক্ষণে চাই জাতীয় মূল্য কমিশন

আপডেট : ২৩ মার্চ ২০১৩, ২২:০৩
কৃষক ও ভোক্তা স্বার্থ সংরক্ষণে কৃষিপণ্যের ‘জাতীয় মূল্য কমিশন’ গঠনের দাবি জানিয়েছেন বক্তারা। তারা বলেছেন, শুধু মূল্য কমিশন গঠন করলেই হবে না, সেখানে কৃষক প্রতিনিধি রাখতে হবে এবং কমিশনকে বিচারিক ক্ষমতা দিতে হবে। মূল্য কমিশন না থাকার কারণে উত্পাদন ব্যয় বৃদ্ধি আর লাভজনক মূল্য না পাওয়ায় কৃষক উত্পাদন করে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একই সাথে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাব বৈশ্বিক কৃষি পণ্য বিশেষ করে খাদ্য শস্য উত্পাদনে বাধার সৃষ্টি করছে। এবারের বোরো মৌসুমেও কোল্ড ইনজুরির কারণে ধানের চারা গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ রকম পরিস্থিতিতে যে কোনো সময় বাংলাদেশ স্থায়ী খাদ্য সংকটের মুখে পড়তে পারে বলে জানান তারা। শনিবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘কৃষি পণ্যের মূল্য কমিশন গঠন’ বিষয়ক গোল টেবিল আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন। আলোচনায় প্রধান অতিথি ছিলেন, কৃষি মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটি’র সভাপতি কৃষিবিদ শওকত মোমেন শাহজাহান এমপি। কর্মজীবী নারী’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শিরীন আখতার এর সভাপতিত্বে অবস্থানপত্রের ওপর আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ (বিআইডিএস) এর পরিচালক ও গবেষণা ড. এম আসাদুজ্জামান। ‘কৃষি পণ্যের লাভজনক মূল্য নির্ধারণ ও উত্পাদক-ভোক্তার স্বার্থ রক্ষায় কৃষি পণ্যের মূল্য কমিশন গঠন’ বিষয়ক অবস্থান পত্র উপস্থাপন করেন অধিকারকর্মী জীবনানন্দ জয়ন্ত। শওকত মোমেন শাহজাহান এমপি বলেন, কৃষক পর্যায়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে বীজ উত্পাদন করতে হবে। তিনি বলেন, সরকার কৃষি বিপণন নীতি করতে যাচ্ছে। ভোক্তা পর্যায়ে পণ্য মূল্য ও উত্পাদক পর্যায়ে পণ্যমূলের মধ্যে অনেক বেশি ফাঁরাক লক্ষ্য করা যায়। বেসরকারিভাবে কৃষিপণ্যের যে জনমূল্য কমিশন গঠিত হয়েছে তা সরকারের সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন থাকতে হবে। তিনি বলেন, কৃষিমূল্যের সঙ্গে রেল যোগাযোগের একটা যোগসূত্র তৈরি করতে হবে। জীবনানন্দ জয়ন্ত তার অবস্থানপত্রে বলেন, আজ সময় এসেছে কৃষি ও কৃষককে বাঁচিয়ে রাখার মাধ্যমে খাদ্যে স্বয়ম্ভর জাতি ও রাষ্ট্র হিসেবে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করার। সেখানে কৃষি ও কৃষকের সুরক্ষা এবং খাদ্য নিরাপত্তার নিশ্চয়তায় কৃষিপণ্যের লাভজনক মূল্য প্রধান কাঠামো প্রবর্তনে ‘কৃষিপণ্যের মূল্য কমিশন’ গঠন একমাত্র বিকল্প উপায়। তিনি বলেন, উত্পাদন ব্যয় বৃদ্ধি আর লাভজনক মূল্য না পাওয়ায় কৃষক উত্পাদন করে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, একই সাথে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাব বৈশ্বিক কৃষি পণ্য বিশেষ করে খাদ্যশস্য উত্পাদনে বাধার সৃষ্টি করছে। এবারের বোরো মৌসুমেও কোল্ড ইনজুরির কারণে ধানের চারা গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ রকম পরিস্থিতিতে যে কোন সময় বাংলাদেশ স্থায়ী খাদ্য সংকটের মুখে পড়তে পারে। তিনি খাদ্য নিরাপত্তা বিধান নিশ্চিত এবং আমদানি নির্ভরতা কমাতে উত্পাদনবান্ধব কৃষি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। ড. এম আসাদুজ্জামান একটি তাত্পর্যপূর্ণ সরকারি মূল্য কমিশন গঠন করার উপর জোর দিয়ে বলেন, শুধু কমিশন গঠন করলেই হবে না। কৃষকের সঙ্গে আলোচনা করে ভর্তুকির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দাম নির্ধারণ করতে হবে। শিরীন আখতার সমন্বিত উদ্যোগের উপর গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, সরকার কৃষককে ভর্তুকি দিচ্ছে ঠিকই কিন্তু কার্যকর বিধি ও আইন না থাকায় কৃষক তাতে উপকৃত হচ্ছে না। আগামী ২৯ মার্চ কৃষক প্রতিনিধি সম্মেলন করা হবে বলে তিনি জানান। কৃষক নেতা আনোয়ারুল ইসলাম বাবু বলেন, এ সরকার কৃষিবান্ধব নয়; এই সরকার ব্যবসায়ী বান্ধব। ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের যে পরিমাণ সুযোগ সরকার দিচ্ছেন তার সিকি পরিমাণও সুযোগ কৃষকদের দিচ্ছেন না। লীনা চক্রবর্তী বলেন, যারা উত্পাদন করে আমাদের আহার যোগাচ্ছেন তাদের কথা ভাবা হচ্ছে না। তিনি প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে কোল্ডস্টোরেজ করার আহবান জানান। সেইসঙ্গে তিনি কৃষকদের সংঘবদ্ধ হওয়ারও আহবান জানান। কর্মজীবী নারী, গ্রামীণ জীবনযাত্রার স্থায়িত্বশীল উন্নয়নের জন্য প্রচারাভিযান (সিএসআরএল) ও অক্সফাম এর সহযোগিতায় কৃষিপণ্যের জাতীয় জনমূল্য কমিশন আয়োজিত গোলটেবিল আলোচনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন কর্মজীবী নারী’র নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া রফিক। আরো বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, কৃষক সমিতির ভাইস প্রেসিডেন্ট লীনা চক্রবর্তী, ভূমিহীন সমিতির সভাপতি সুবল সরকার, বিপ্লবী কৃষক সংহতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম, জাতীয় কৃষক জোটের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল ইসলাম বাবু, অক্সফামের প্রতিনিধি কামরুন্নাহার নাজলী, উবিনীগের প্রতিনিধি গোলাম রাব্বী বাদল এবং কৃষি শ্রমিক প্রতিনিধি রেজাউল ও রুখসানা।