অটিজম বা অটিস্টিক শিশুদের নিয়ে বিশেষজ্ঞগণ নানা গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড স্কুল অব পাবলিক হেলথ-এর গবেষণা রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, যে সমস্ত নারীরা শৈশবে শারীরিক, মানসিক ও পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তাদের অটিস্টিক শিশু জন্মহার স্বাভাবিকের চেয়ে শতকরা সাড়ে ৩ ভাগ বেশি। গবেষণায় দেখা যায় যেসব মহিলা সবচেয়ে বেশি নির্যাতন বা হয়রানির শিকার হয়েছেন তাদের অটিস্টিক শিশু জন্মদানের হার ৬০ ভাগ পর্যন্ত হতে পারে। প্রধান গবেষক হার্ভার্ড স্কুল অব পাবলিক হেলথ-এর সোশ্যাল অ্যান্ড বিহেবিয়েরাল সায়েন্স বিভাগের গবেষক এনড্রিয়া এল রবার্টস এ তথ্য দিয়েছেন। ১৯৮৯ সালে শুরু হওয়া এক গবেষণা জরিপে ৫২ হাজার মহিলা অন্তর্ভুক্ত হন। প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায় এসব মহিলারা ৪৫১ জন অটিস্টিক শিশুর জন্ম দিয়েছেন। গবেষণায় যেসব প্রশ্ন ছিল তা হচ্ছে এসব মহিলা শৈশবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন কিনা, তাদের কঠোর কোন শাস্তি দেয়া হয়েছিলো কিনা, তাদের কাছে কোন অপমানজনক মন্তব্য শুনতে হয়েছে কিনা অথবা তাদের শরীরে অপ্রত্যাশিত কোন ব্যক্তি স্পর্শ করেছে কিনা অথবা তারা জোরপূর্বক পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন কিনা। এছাড়া বিশেষকগণ এটাও দেখেন এসব নারীরা সন্তান জন্মদানের সময় ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন কিনা অথবা কম ওজনের শিশু জন্ম দিয়েছেন কিনা।
এছাড়া এসব মহিলারা ধূমপান করেছেন কিনা বা তাদের পার্টনার ধূমপায়ী ছিলেন কিনা অথবা পার্টনার মুড অফ-এর জন্য সেরোটিনিন জাতীয় ওষুধ সেবন করেছেন কিনা। গবেষগণ মনে করেন নির্যাতিতা অথবা হয়রানির শিকার মহিলাগণের মানসিক চাপ থাকে প্রবল। ফলে তাদের গর্ভস্থ ভ্রূণ বা গর্ভস্থ শিশুর (ফেটাস) মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে এসব শিশুর অটিজম হবার ঝুঁকি থাকে। এ ব্যাপারে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আরলি চাইল্ডহুড পার্টিয়াল হসপিটালাইজেশন প্রোগ্রাম-এর পরিচালক তানিয়া পাপরেলা বলেন, অটিজম একটি জেনেটিক সমস্যা। কিন্তু এই জেনেটিক ঝুঁকিগুলো কিভাবে আসছে তা আমরা খুব কমই জানি। তিনি মনে করে শৈশবে নারী নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হলে তাদের অটিস্টিক শিশু জন্মদানের ঝুঁকি থাকে বলে যে তথ্য বেরিয়ে এসেছে তা অটিজম গবেষণায় সহায়ক হবে।
