বিভিন্ন স্থানে ৪৩ নেতা কর্মী গ্রেফতার

আপডেট : ২৩ মার্চ ২০১৩, ২২:২১
দেশের বিভিন্ন স্থানে গত ২ দিনে জামায়াত-শিবির, বিএনপি ও আওয়ামী লীগের ৪৩ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। খবর আমাদের অফিস, স্টাফ রিপোর্টার, প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের। রাজশাহী: রাজশাহীর বাঘায় দুই সরকারি কর্মচারী জামায়াত নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গতকাল শনিবার ভোরে উপজেলার আমোদপুর গ্রামে র্যাব, বিজিবি ও পুলিশের যৌথ অভিযানে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এরা হলেন মাজদার রহমান ও সোলাইমান হোসেন। গতকাল সকালে আদালতের মাধ্যমে তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের উদ্ধৃতি দিয়ে বাঘা সংবাদদাতা জানান, দুই জামায়াত নেতা সরকারি চাকরির সুবাদে সরাসরি দলীয় কোন পদে না থাকলেও জামায়াতের সকল সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড এমনকি নাশকতাসহ গোপন বৈঠকে সম্পৃক্ত থাকেন। এদের মধ্যে মাজদার রহমান চারঘাট উপজেলা প্রকৌশলী অফিসের কার্য সহকারী এবং সোলাইমান হোসেন বাঘা উপজেলা প্রকৌশলীর কার্য সহকারী। তাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হলে সোলাইমান হোসেন চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের আবেদন করেন। বাঘা উপজেলা প্রকৌশলী মাহাবুবুর রহমান এর সত্যতা স্বীকার করেছেন। চাটখিল ও সোনাইমুড়ী (নোয়াখালী): চাটখিল থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে গত শুক্রবার গভীর রাতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের ২৯ নেতাকর্মীকে আটক করেছে। আটককৃত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ছাড়িয়ে নিতে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা চাটখিল-রামগঞ্জ সড়ক ১ ঘণ্টা অবরোধ করে রাখে। দাঙ্গা পুলিশ এসে অবরোধ তুলে নেয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। চাটখিল থানার ওসি মোস্তফা কামাল জানান, ২৯ জনের মধ্যে ৪ জন মামলার রিকল থানায় জমা দেয়ায় তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে, বাকি ২৫ জনকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। বিভিন্ন অভিযোগ থাকায় তাদের আটক করা হয়েছে। ছাতক (সুনামগঞ্জ): ছাতকের পীরপুর শুকুরুন্নেছা চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের শহীদ মিনারে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত হাফিজ সাইদুল ইসলামকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে তাকে সুনামগঞ্জ জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। সে উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের ব্রাহ্মণগাঁও গ্রামের শানুর আলীর পুত্র ও ছাতক পূর্ব শিবিরের সাহিত্য সম্পাদক। শুক্রবার সন্ধ্যায় দিঘলী রহমানিয়া মহিলা মাদরাসার কাছ থেকে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর: গত শুক্রবার রাতে দিনাজপুর পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৭ জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীসহ ১০ জনকে গ্রেফতার করেছে। দিনাজপুর কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল কাদের জিলানী জানান, গত ২ মার্চ দিনাজপুর শহরে সরকারি কাজে পুলিশকে বাধা, পুলিশকে আক্রমণ ও সন্ত্রাস সৃষ্টির অভিযোগে ঘোড়াঘাট থানা জামায়াতে ইসলামীর সহ-সভাপতি মো. সাজ্জাদ হোসেন, খানসামা উপজেলার ভেড়ভেড়ী গ্রামের মজিবর রহমান, মো. আনিসুর রহমান, শেফাউল ইসলাম, বিষ্ণুপুর গ্রামের মো. ফারুক হোসেন, গোয়ালদীঘি গ্রামের মো. হায়দার আলী, মো. হান্নান আলী, গোবিন্দপুর গ্রামের মো. নাজমুল ইসলাম এবং বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত পলাতক আসামি মহরমপুর পানুয়াপাড়া গ্রামের মো. আমিনুল ইসলাম, দক্ষিণ মহেষপুর (ভেন্দপাড়া) গ্রামের মো. মহফিজুর, দাইনুর গ্রামের মো. রকিবুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। এদিকে ১৮ মার্চ হরতাল চলাকালীন সরকারি কাজে বাধা ও হত্যার উদ্দেশ্যে পুলিশের উপর ইটপাটকেল নিক্ষেপের অভিযোগে ২৩ জনের নাম উল্লেখ করে ১৭৫ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে দিনাজপুর কোতোয়ালী পুলিশ। কোতোয়ালী থানার এসআই আবু তালেব বাদী হয়ে গতকাল শনিবার এই মামলা দায়ের করেন। সিরাজগঞ্জ: সিরাজগঞ্জে বিএনপি ও ছাত্রশিবিরের ৪ নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার রাতে সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার সয়াগোবিন্দ ভাসানী রোড এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলো সিরাজগঞ্জ ছাত্রশিবিরের সাথী সদস্য মেহেদী হাসান জেহাদী ও শিবির নেতা সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার শিয়ালকোলের আলমগীর হোসেন। অপরদিকে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার খোকশাবাড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতিসহ ২ বিএনপি নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশ অভিযান চালিয়ে খোকশাবাড়ি থেকে তাদের গ্রেফতার করে। গত ১৯ মার্চ ১৮ দলীয় জোটের হরতাল চলাকালে সদর উপজেলার খোকশাবাড়িতে সরকারি কাজে বাধাদান, অগ্নিসংযোগ, ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনায় দায়ের করা ৩টি মামলায় গ্রেফতারকৃত ২ ছাত্রশিবির নেতা এজাহারভুক্ত আসামি।