‘পুলিশ ব্যস্ত কিন্তু অভিযোগ থাকলে জানান’

আপডেট : ২৩ মার্চ ২০১৩, ২২:২৭
‘আপনি তো সদ্য বিদেশ থেকে ফিরেছেন। অনেক টাকা এখন আপনার হাতে। আমাদের কিছু টাকা দরকার। তাই দয়া করে আমাদের কিছু টাকা পৌঁছে দেবেন আমাদের প্রতিনিধির কাছে। আর কথার বরখেলাপ হলে তো বুঝতেই পারছেন, এর পরিণতি কী ভয়াবহ হবে।’ বিদেশ থেকে সদ্য দেশে ফেরার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এভাবেই সন্ত্রাসীরা মোবাইল ফোনে এ হুমকি প্রদান করেন এক চিকিত্সককে। দীর্ঘদিন পর তিনি দেশে ফিরে গুলশানের বাড়িতে অবস্থান করছেন। আর এ হুমকিতে চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঐ চিকিত্সক। প্রাণ ভয়ে থানা পুলিশের দ্বারস্থ হতেও তিনি ভয় পাচ্ছেন। শুধু তিনি একাই নন। সম্প্রতি দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে পুলিশ চরম ব্যস্ত। আর এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সন্ত্রাসীরা চাঁদার দাবিতে আবারও মরিয়া হয়ে উঠেছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। এসব চাঁদাবাজ গুলশান, বনানী, ধানমণ্ডি এলাকাসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী, চিকিত্সক, শিক্ষকসহ বিভিন্ন পেশার লোজনকে একইভাবে হুমকি প্রদান করে যাচ্ছে। এসব চাঁদাবাজ কখনো আগের মতোই নিজেদের পরিচয় দিচ্ছে শীর্ষ সন্ত্রাসী বিকাশ, কালা জাহাঙ্গীর, সুব্রত বাইনসহ অন্যান্য সন্ত্রাসীর সহযোগী হিসেবে। তবে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ডিসি (উত্তর) মোল্লা নজরুল ইসলাম বলেন, সাম্প্রতিক সময় পুলিশ নানা কারণে খুব ব্যস্ত, এটা ঠিক; কিন্তু সন্ত্রাসী আর চাঁদাবাজদের ধরার ব্যাপারে পুলিশের কোনো নমনীয়তা নেই। মোবাইল ফোনে চাঁদাবাজি নিয়ে গোয়েন্দা পুলিশ ইতিপূর্বে অনেককে গ্রেফতার করেছে। ফলে কয়েক মাস ধরে মোবাইল ফোনে চাঁদাবাজি হচ্ছে এমন তথ্য নেই। গত কয়েক মাসে এ ধরনের কেউ কোনো অভিযোগও জানায়নি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই গোয়েন্দা পুলিশ যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। তিনি আরো বলেন, মোবাইল ফোনে চাঁদাবাজি নিয়ে মহানগর গোয়েন্দা দফতরে আলাদা সেল রয়েছে। সেখানে গোপনেও জানানো যায়। গোয়েন্দা পুলিশ তথ্য প্রদানকারীর পরিচয় গোপন রেখেই সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার অভিযান চালায়। অপর দিকে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এডিসি (দক্ষিণ) ছানোয়ার হোসেন বলেন, তিনি গত এক বছরে মোবাইল ফোনে চাঁদা চেয়ে হুমকি প্রদানকারী গ্রুপের শতাধিক সদস্যকে গ্রেফতার করেছেন। আর এসব সন্ত্রাসীকে গ্রেফতারের পর মোবাইল ফোনে চাঁদাবাজি বহুলাংশে কমেছে। আগে যেখানে প্রায় প্রতিদিনই গোয়েন্দা দফতরে কেউ না কেউ অভিযোগ পাঠাতেন; কিন্তু গত কয়েক মাসে এ ধরনের কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। পুলিশ ব্যস্ত, একারণেই সন্ত্রাসী চাঁদাবাজরা মরিয়া- এমন প্রশ্নের ব্যাপারে তিনি বলেন, এটা ঠিক না। শত ব্যস্ত থাকলেও চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার নিয়ে গোয়েন্দা পুলিশ সক্রিয় রয়েছে। তিনি আরো বলেন, অনেক অভিযোগ তদন্ত করে দেখা গেছে, অভিযোগকারী কোনো বন্ধু বা পরিচিত জন শুধু মজা করার জন্যই ফোনে হুমকি দিয়েছেন। এডিসি ছানোয়ার হোসেন আরো বলেন, মোবাইল ফোনে চাঁদা দাবি করা চক্র যে খুব শক্তিশালী তা নয়। তারা নিজেদের শক্তিশালী প্রমাণের জন্যই কোনো শীর্ষ সন্ত্রাসীর নাম ব্যবহার করে থাকে। যাতে মানুষ খুব সহজে ভয় পায়। এ নিয়ে আতঙ্কিত হবার কিছু নেই। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এডিসি (পশ্চিম) মশিউর রহমান বলেন, মোবাইল ফোনে চাঁদাবাজি গোয়েন্দা পুলিশের ব্যাপক ধরপাকড়ে বহুলাংশে কমেছে। সাম্প্রতিক সময় এ ধরনের তেমন একটা অভিযোগ পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনে কেউ টাকা (চাঁদা) চাইলে তা না দেয়ার জন্য এই পুলিশ কর্মকর্তা নগরবাসীর প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, কেউ চাঁদা দাবি করলে সঙ্গে সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে জানান। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ করে গোয়েন্দা পুলিশ এ ব্যাপারে সর্বাত্মক সহায়তা প্রদান করবে।