ইন্টারন্যাশনাল ‘ফরচুন ম্যাগাজিন’

ক্ষমতাধর ব্যবসায়ী

আপডেট : ২৪ মার্চ ২০১৩, ১৮:৪১
বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে অভাবনীয় সাফল্যের দ্বার উন্মোচন করে বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশ্বের দরবারে মাইলফলক হিসেবে তুলে ধরায় কতিপয় স্বনামধন্য নারীকে সকলের কাছে অনুকরণীয় হিসেবে প্রকাশ করেছে জনপ্রিয় ফরচুন ম্যাগাজিন। এই নারীদের মধ্যে এলেন কুলম্যান, প্যাট্রিসিয়া ওরট্জ, এ্যবিজিল জনসন ও মেলেনি হেলিসহ প্রমুখ উল্লেখযোগ্য। এলেন কুলম্যান ডিইউপন্টের সভাপতি এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এলেন কুলম্যানের জন্ম ১৯৫৬ সালের ২২ জানুয়ারি। তিনি একজন আমেরিকান ব্যবসায়ী। ২০১১ সালের ফোর্বস ম্যাগাজিনে ১০০ জন শক্তিধর নারীর মধ্যে তিনি ছিলেন চতুর্থ। প্রাথমিক অবস্থায় কুলম্যান ইলেকট্রিক তার ব্যবসা শুরু করেন। পরে তিনি ১৯৮৮ সালে ডিইউপন্ট কোম্পানির মেডিক্যাল ইমেজিং ব্যবসা বিপণনের ব্যবস্থাপক হিসেবে যোগদান করেন। ২০০৯ সালের জানুয়ারি মাসের প্রথম দিনে তিনি কোম্পানির চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার থেকে অত্যন্ত সন্মানের সাথে কোম্পানির সিইও নির্বাচিত হন। কুলম্যান ডিইউপন্ট কোম্পানির ১৯তম সিইও এবং প্রথম নারী যা কোম্পানির নেতৃত্ব দানের ২০৬ বছরের রেকর্ড ভঙ্গ করেছেন। কুলম্যানের নেতৃত্বাধীন সময়ে ২১০ বছর বয়সী রাসায়নিক কোম্পানিকে তিনি পরবর্তীতে নতুন করে ঢেলে সাজিয়েছেন। ফলে বছরের শুরুর দিকে কোম্পানির আয়ের পরিমাণ ছিল প্রায় ৪.৯ বিলিয়ন ডলার, যা কোম্পানির বিক্রি থেকে শুরু করে কৃষি এবং পুষ্টি খাতে ব্যাপকভাবে সাড়া জাগিয়েছিল। এ্যবিজিল জনসন এ্যবিজিল জনসন বিশ্বখ্যাত ফাইডালিটি ফিনানসিয়াল সার্ভিসের প্রেসিডেন্ট। উইলিয়াম স্মিথ কলেজ এবং হার্ভার্ড বিজনেস স্কুল থেকে তিনি ব্যবসায়ী শিক্ষার উপর স্নাতক সম্পন্ন করেন। শিক্ষা জীবন শেষে তিনি সর্বপ্রথম তার পিতার নিজস্ব কোম্পানি ফাইডিলিটি ইনভেস্টমেন্টে ইকুইটি পোর্টফোলিও ম্যানেজার হিসেবে ১৯৮৮-১৯৯৭ সাল পর্যন্ত কাজ করেন। জনসন বর্তমানে ক্যাপিটাল মার্কেটস নিয়ন্ত্রণ কমিটির সদস্য হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি তিনি সিকিউরিটিজ ইন্ডাস্ট্রি এবং ফিনানসিয়াল মার্কেট এসোসিয়েশন বোর্ডের একজন সন্মানীয় সদস্য। কে হবেন ফাইডালিটি কোম্পানির পরবর্তী সিইও এই দীর্ঘ চলমান প্রশ্নের অবসান ঘটে গত গ্রীষ্মে, ৮২ বছর বয়সী প্রধান নির্বাহী এডওয়ার্ড সি জনসনের প্রতিষ্ঠানে তার কন্যা জনসনকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মাধ্যমে। তার প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৩৮,০০০ লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। কোম্পানি প্রশাসনিক ক্ষেত্রে প্রায় ৩.৭ টিলিয়ন মূল্যের সম্পদের দাবিদার। প্যাট্রিসিয়া ওরট্জ ৬০ বছর বয়সী ওরট্জ ১৯৫৩ সালে পেনসিলভানিয়া শহরে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৪ সালে তিনি পেন স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে অ্যাকাউন্টিংএর উপর স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি সর্বপ্রথম পিটস্বার্গে আর্নেস্ট এন্ড ইয়ং’র উপর সমীক্ষা স্বরূপ কাজ শুরু করেন। ভ্যাঙ্কুভার, ব্রিটিশ কলম্বিয়ায় সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য তার অবস্থান হলেও পরে তিনি শেভরন ইন্টারন্যাশনালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। সেখান থেকে ওরট্জ শেভরন গ্লোবাল ডাউনস্ট্রিম অপারেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে নিযুক্ত হন। যুক্তরাষ্ট্রে যখন ব্যাপক খাদ্য সংকট চলছিল তখন ওরট্জ ভুট্টা সরবরাহের মাধ্যমে অনেকটা খাদ্য ঘাটতি নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ওরট্জ’র এডিএম কোম্পানি বৈশ্বিক খাদ্য সরবরাহ বৃদ্ধি করে বর্তমানে বিশ্বের ১৬০টি দেশে বিস্তার লাভ করে আছে।