রোগমুক্তিতে ডাক্তার আর ওষুধের ভূমিকা কী, তা আমরা সবাই বুঝি। কিন্তু আমরা কি জানি এই ওষুধ কারা তৈরি করেন? ওষুধ তৈরির পেছনে রয়েছেন ফার্মাসিস্ট। যারা শ্রম ও মেধা বিনিয়োগ করেন রোগাক্রান্তের হাতে ওষুধ তুলে দিতে। ক্যারিয়ার হিসেবেও এই পেশা অনেক সম্ভাবনাময়। তাই আমাদের দেশের হাজারো মেধাবী তরুণ আজ আত্মনিয়োগ করেছেন এই পেশায়। তাদের সৃজনশীলতা শুধু রোগমুক্তিই নয়, দেশের অর্থনীতিতেও বিশাল অবদান রাখে। ঔষধশিল্পের এই প্রজন্মের তেমনই কয়েকজন মেধাবীদের নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজন। আয়োজনটি দেখুন পরের পৃষ্ঠায়। পুরো আয়োজনটি গ্রন্থনা এবং সম্পাদনা করেছেন
রিয়াদ খন্দকার ও সাজেদুল ইসলাম শুভ্র
রিয়াজুল করিম
এক সময়
ভাবতেন, ডাক্তার হবেন কিন্তু হয়েছেন ফার্মাসিস্ট। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফার্মেসিতে অনার্স-মাস্টার্স করার পর এই ক্ষেত্রেই গড়ে ওঠে তার ক্যারিয়ার।
আমিনুল ইসলাম
ক্যারিয়ার শুরু করেন মার্কসম্যান ফার্মাসিউটিক্যা-লসে কোয়ালিটি কন্ট্রোল অফিসার হিসেবে। মাস্টার্স করা অবস্থায়ই কৌতূহলবশত চাকরির আবেদন করেন এবং ডাকও পান।
অপূর্ব সরকার অপু
খুবই খুশি হয়েছিলেন, যখন জানতে পারলেন তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে
ফার্মেসিতে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। ফার্মেসিতে পড়াশোনা সম্পন্ন করে নেমে পড়েন কর্মক্ষেত্রে।
মো. নাজমুল হুদা
ফার্মাসিস্ট হিসেবে তার ক্যারিয়ার শুরু ওরিয়ন ফার্মা লি.-এ যোগদানের মাধ্যমে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফার্মেসিতে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করার পর সেটিই ছিল তার প্রথম ইন্টারভিউ
রে জা উ ল ক রি ম
গ্রুপ ব্র্যান্ড ম্যানেজার
বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড
একটা সময় ছেলেটি ভাবতেন, ডাক্তার হতে হবে কিন্তু হয়েছেন ফার্মাসিস্ট। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফার্মেসিতে অনার্স-মাস্টার্স করার পর এই ক্ষেত্রেই গড়ে ওঠে তার ক্যারিয়ার। সব সময়ই লক্ষ্যে অবিচল ছিলেন। যে কাজটা করছেন, সেটা শতভাগ নিখুঁত করতে চেয়েছেন। এই ভাবনা থেকেই মন দিয়ে পড়ে গেছেন ফার্মেসিতে। শুনছিলেন রেজাউল করিম রেজার কথা। এখন তিনি দেশের শীর্ষস্থানীয় ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের গ্রুপ ব্র্যান্ড ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
রেজাউল করিম ২০০৩ সালে বেক্সিমকোতে যোগদান করেন। তারপর থেকে সেখানেই তার পথ চলার শুরু। অনেককেই দেখা যায়, অহেতুক কর্মক্ষেত্র পরিবর্তন করতে। সেটা কোনো কোনো সময় অভিজ্ঞতার খাতিরেই হয়তো। তবে রেজাউল করিম শুরু থেকে বেক্সিমকোতেই ছিলেন আর ধাপে ধাপে তিনি আজকের এমন একটা অবস্থানে পৌঁছাতে পেরেছেন। মার্কেটিং, সেলস, ট্রেনিংসহ নানা বিষয়ে কাজ করতে হয় তাকে। ওষুধ প্রস্তুত থেকে বাজারজাতকরণসহ নানা বিষয়ে খেয়াল রাখতে হয় একজন ফার্মাসিস্টকে। চাহিদামাফিক একটা পণ্যের প্রস্তুতি আর বাজারজাতরণ নিয়ে ভাবতে হয় তাকে। আর সব সময়ই দলগতভাবে কাজটা করা হয়ে থাকে। এই দিক দিয়ে রেজাউল করিম অনেকটা এগিয়ে, দলে তার নেতৃত্বটা যোগ্য, এতে কোনো দ্বিধা নেই। রেজাউল করিমের কাছে জানতে চেয়েছিলাম, কতটা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন এই পেশায়? তিনি বলেন, ‘শতভাগ! সবসময়ই এই কাজটা উপভোগ করে আসছি আমি।’
রেজাউলের কাছে প্রশ্ন ছিল, নতুনদের কাজ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ণ কী? তিনি বলেন, ‘খুশির বিষয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এই বিষয়ে পড়ার জন্য আগ্রহী শিক্ষার্থীর কমতি নেই। সবাই ফার্মেসির জগতে কাজ করতে আগ্রহী। নিজের জ্ঞান দক্ষতা নিয়ে কাজ করতে এলে যে কেউ ভালো করতে পারবে এই জগতে—এতে কোনো সন্দেহ নেই। আর মনে রাখা দরকার, শিক্ষার্থী থাকাকালীনই কেবল বই পড়ে আসলে হবে না, পরবর্তীতেও বই পড়ার অভ্যাস রাখতে হবে। পাশাপাশি ব্যবহারিক শিক্ষার অভিজ্ঞতাটাও বাড়াতে হবে। এখানে অভিজ্ঞতা আর ব্যবহারিক কাজটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’ রেজাউল করিমের জন্ম নাটোরের ছোট্ট এক গ্রামে। শহর থেকে বেশ দূরে। তিনি জানান যে, তার খুব সৌভাগ্য জীবনের পনেরটা বছর তিনি সেই গ্রামে কাটিয়ে এসেছেন। স্কুলে যাওয়া, বন্ধুদের সাথে খেলা আর সেই আমলের সাদাকালো টিভি দেখে কী আনন্দেই না কাটত সেই দিনগুলো। এরপর পড়াশোনার খাতিরেই ঢাকায় আসা। নটরডেম কলেজ থেকে এইচএসসি দেন তিনি। সফলতার সাথে উত্তীর্ণ হয়ে তারপর ভর্তি হন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। তারপরের কাহিনীগুলো আপনারা আগেই জেনেছেন। এখন দুই সন্তান নিয়ে ঢাকায় কেটে যায় তার সুখের দিন। জারিন তাসনিম হূদিতা আর জুমাইরা তাসনিম আদৃতা তার দুই কন্যা, স্ত্রী নারগিস সুলতানা চৌধুরী—এই এখন তার দুনিয়া। স্ত্রীও ফার্মাসিস্ট, চাকরি করছেন মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে।
রেজাউল করিমের কাছে সবশেষে তার স্বপ্নের কথা জানতে চেয়েছিলাম। তিনি জানান, তার অর্জিত জ্ঞান-বুদ্ধি দিয়ে দেশের জন্য কিছু একটা করতে চান।
এক নজরে
মো. রেজাউল করিম
ডাক নাম :রেজা
জন্মতারিখ ও স্থান :৬ ডিসেম্বর, নাটোর
মায়ের নাম :মানিকজান বেওয়া
বাবার নাম :আলহাজ্ব সাম্বল আলী মণ্ডল
প্রথম স্কুল :সেইন্ট জোসেফ হাই স্কুল, নাটোর
প্রিয় মানুষ :আমার মা
প্রিয় উক্তি :মোর দ্য নলেজ লেসার দ্য ইগো, লেসার দ্য নলেজ, মোর দ্য ইগো।
প্রিয় পোশাক :টি-শার্ট, জিন্স
অবসর কাটে যেভাবে :সন্তানদের সাথে
সাফল্যের সংজ্ঞা :এক ভাগ অনুপ্রেরণা আর নিরানব্বই ভাগ পরিশ্রম।
আ মি নু ল ই স লা ম
সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার
রেনেটা ফার্মাসিউটিক্যালস লি.
‘মানিকগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী পাটগ্রাম অনাথ বন্ধু সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় হতে এসএসসি এবং আদমজী ক্যান্টেনমেন্ট কলেজ হতে এইচএসসি সম্পন্ন করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ক্যামেস্ট্রিতে অনার্স ও মাস্টার্স করি। আমার বিজ্ঞানের প্রতি দুর্বলতা বা টান যাই বলি না কেন তার পুরোটাই হয়েছে আমার প্রিয় শিক্ষক প্রয়াত সামছুল হক স্যারের কারণে। ক্যামেস্ট্রি বিষয়ে অনার্স করার সময়ই স্বপ্ন ছিল ফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করব’, নিজের শুরুর গল্প এভাবেই বলছিলেন রেনেটা ফার্মাসিউটিক্যালসের সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার আমিনুল ইসলাম।
তার বাবা ছিলেন সরকারি চাকরিজীবী, এখন অবসরে আর মা গৃহিণী। তিন ভাই এবং তিন বোনের মধ্যে আমিনুল ইসলাম চতুর্থ। তার শৈশব-কৈশোর কেটেছে গ্রামে। এসএসসি শেষ করে ঢাকায় চলে আসেন। বাবা বরাবরই ছিলেন একটু রাগী, তাই শৃঙ্খলতার মাঝেই বড় হয়ে ওঠেন আমিনুল ইসলাম। স্ত্রী কানিজ ফাতেমা তানিয়া এবং একমাত্র ছেলে
তাশরিক ইসলাম সামিনকে নিয়ে তার পারিবারিক আবহ।
আমিনুল ইসলাম তার ক্যারিয়ার শুরু করেন মার্কসম্যান ফার্মাসিউটিক্যালসে কোয়ালিটি কন্ট্রোল অফিসার হিসেবে। মাস্টার্স করা অবস্থায়ই কৌতূহলবশত চাকরির আবেদন করেন কয়েকটি জায়গায় এবং ডাকও পান। মাস্টার্স পরীক্ষার মধ্যেই অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার পেয়ে যান। কাকতালীয়ভাবে তার জয়েনিং ডেট দেওয়া ছিল ঠিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরের দিনই। তারপরই তিনি দ্বিতীয় কর্মক্ষেত্র হিসেবে যোগ দেন রেনেটা লিমিটেডে। বর্তমানে এখানে তিনি কোয়ালিটি কন্ট্রোল বিভাগে সিনিয়র অ্যাসিসট্যান্ট ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত আছেন। ফার্মাসিউটিক্যালসে কোয়ালিটি কন্ট্রোল খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। প্রজেক্টের কোয়ালিটি নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান কাজ। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সচরাচর অন্যান্য ইন্ডাস্ট্রি হতে এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখানে কাজ করতে হয় ইন্টারন্যাশনাল কিছু গাইডলাইন ফলো করে। গুড ম্যানুফ্যাকচারিং প্র্যাকটিস (জিএমপি) এবং গুড ল্যাবরেটরি প্র্যাকটিস (জিএলপি)-এর মধ্যে ম্যানডেটরি। এর মূল কথা হলো প্রত্যেকটা কাজ হতে হবে কন্ট্রোলড এনভাইরনমেন্টে এবং সব কাজ ডকুমেন্টেড হতে হবে। আমাদের সব কাজ করতে হয় লিখিত প্রটোকল ও স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসেডিউর (এসওপি) অনুসারে। প্রোডাক্টের কোয়ালিটির ব্যাপারে কোনো আপস চলবে না কারণ এটা সরাসরি মানুষের জীবনের সাথে জড়িত।’
কতটা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন এই পেশায়—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এই পেশা আমার শিক্ষাজীবনের মূল বিষয়ের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত, তাই শিক্ষা ক্ষেত্রের জ্ঞান এখানে পুরোটাই কাজে লাগানোর সুযোগ পাচ্ছি। যা হয়তো অন্য কোনো পেশায় সম্ভব নয়। ফার্মাসিউটিক্যালস শিল্পে আমাদের সব সময় সর্বাধুনিক প্রযুক্তি এবং সর্বশেষ জ্ঞান কাজে লাগাতে হয়, যার জন্য নিজেকেও সব সময় আপডেট রাখাটা জরুরি। এ জন্য আমাদের প্রায়ই বিভিন্ন দেশি বা আন্তর্জাতিক ট্রেনিং প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করতে হয়। এর অংশ হিসেবে আমি ব্যাংককে এবং দেশে বেশকিছু ট্রেনিংয়ে অংশগ্রহণ করেছি। আমাদের দেশে এর মধ্যেই পেশা হিসেবে এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ ফার্মাসিউক্যািলস ইন্ডাস্ট্রির সাফল্য ঈর্ষা করার মতো। আমরা আমাদের চাহিদা মিটিয়ে ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়াসহ পৃথিবীর বহুদেশে ওষুধ রফতানি করছি, এর মূলে আছে বাংলাদেশের ওষুধের গুণগত মান এবং এ শিল্পের জন্য দক্ষ জনশক্তি’
সবশেষে তার ভবিষ্যত স্বপ্ন তার প্রিয় দেশকে ঘিরেই। হিংসা, বি"্বেশ, সামপ্রদায়িকতাকে পেছনে ফেলে দেশ এগিয়ে যাবে এবং সেটি যেনো হয় তার সন্তান এবং পরের প্রজন্মের জন্য আবেগময় ভালোবাসার একটি দেশ।
এক নজরে
আমিনুল ইসলাম
ডাক নাম :মুকুল
জন্মতারিখ ও স্থান :৩১ জুলাই, ১৯৭৮
বাবার নাম :শেখ আহম্মদ আলী
মায়ের নাম :আনোয়ারা বেগম
প্রথম স্কুল :সওয়ার ডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মানিকগঞ্জ।
প্রিয় মানুষ :আমার বাবা, সততা যার জীবনের সব।
প্রিয় পোশাক :ক্যাজুয়াল
প্রিয় উক্তি :সততাই সর্বোত্কৃষ্ট পন্থা।
অবসর কাটে যেভাবে :ঘুরে বেরিয়ে, আড্ডা দিয়ে।
সাফল্যের সংজ্ঞা :নিজের বিবেকের প্রতি এবং পেশার প্রতি সত্ থাকা। নতুন নতুন জ্ঞান/প্রযুক্তিকে সাদরে গ্রহণ করা।
অ পূ র্ব স র কা র অ পু
সিনিয়র প্রভাষক
ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়
শৈশবটা খুব আনন্দের হয় সবার জীবনেই! সেখানে কোনো সীমাবদ্ধতা নেই, নেই কোনো বাধা! কল্পনার রাজ্যে আমরা কতকিছুই না ভাবি! তখন ছেলেটা ভাবত ডাক্তার হবে, খেলনা গাড়ি নিয়ে খেলতে খেলতে আবার ভাবত প্রকৌশলী হবে। আর ফার্মেসি বিষয়টার প্রতি আগ্রহ জন্মে বুঝতে শেখার পর। উচ্চমাধ্যমিকের পর তার লক্ষ্যই ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মেসিতে পড়বেন। সেই লক্ষ্যেই কাজ করে গেছেন, আর সেই ধারাবাহিকতায় আজ তিনি দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক।
খুবই খুশি হয়েছিলেন, যখন জানতে পারলেন তিনি ফার্মেসিতে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। ফার্মেসিতে পড়াশোনা সম্পন্ন করে নেমে পড়েন কর্মক্ষেত্রে। বেশ কিছুদিন বেক্সিমকো ফার্মাতে কাজ করেন তিনি। সেখানে কর্পোরেট দুনিয়ার নানা বিষয়ের সাথে পরিচয় হয় তার। সেখানের শিখে আসা বিষয়গুলো তাকে পথ চলতে অনেক সাহায্য করেছে। এরপরই তিনি যোগ দেন দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক হিসেবে। তিনি অপূর্ব সরকার, সিনিয়র প্রভাষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে।
অপূর্ব মনে করেন, চিকিত্সার সাথে সম্পর্কিত যেকোনো পেশাতেই মানুষের সেবা করার সুযোগ রয়েছে, তা ছাড়া নতুন নতুন ওষুধ সম্পর্কে খুব সহজে ধারণা পাওয়া যায়, এটা আসলেই খুব উপভোগের বিষয়। এরপর তিনি আরও বলেন, ‘নিজের থেকেই কিছু করে দেখানোর সুযোগ আছে ফার্মেসি পেশাতে, এসব নানা কারণেই অন্য অনেক পেশার থেকে এই জগতটিকে ভিন্ন মনে হয় আমার। এ জন্যই এ পেশাতে আসা এবং ভালোলাগার কারণে আস্তে আস্তে নিজেকে এ পেশাতেই শানিয়ে নেওয়া।’
নতুনদের জন্য পরামর্শ জানতে চাইলে অপূর্ব বলেন, ‘জীবনে প্রতিটি শিক্ষাই পেশা জীবনে কোনো না কোনোভাবে কাজে আসে। তাই অযথা অযাচিত ভাবনা না ভেবে প্রতিটি সময়কে আলাদাভাবে কাজে লাগানোর কৌশল শিখতে হবে। একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি প্রচুর বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে ভালো হয়। এ ছাড়া ইংরেজিতে ফ্লুয়েন্সি ভালো থাকলে অন্যদের নজরে আসা যায় সহজেই। ছাত্রজীবনে বিভিন্ন সংগঠনের সাথে যুক্ত থাকতে পারলে যোগাযোগ দক্ষতা বাড়ে, লিডারশিপ গড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হয়।’
অপূর্ব সরকার মনে করেন, বাংলাদেশ এখন ওষুধ শিল্পে স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং সমৃদ্ধ। এ দেশে বর্তমানে আড়াই শ’র বেশি ওষুধ প্রস্তুত ও বিপণনকারী কোম্পানি সক্রিয়, এরমধ্যে অনেক কোম্পানি দেশীয় চাহিদা পূরণ করে আন্তর্জাতিক বাজারেও ওষুধ রফতানি করছে। এসব কোম্পানির প্রোডাকশন, প্রোডাক্ট ম্যানেজম্যান্ট, প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট, কোয়ালিটি কন্ট্রোল, ট্রেনিংসহ বিভিন্ন বিভাগে গ্র্যাজুয়েট ফার্মাস্টিদের চাহিদা সব সময়। এ ছাড়া শিক্ষকতা, গবেষণা এবং দেশের বাইরে কাজ করার সুযোগ তো আছেই। নতুনদের কাজের সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নিঃসন্দেহে নতুনরা প্রযুক্তিবান্ধব বহুমাত্রিক কাজে পারদর্শী, তবে তাদের অনেকের মধ্যেই অস্থিরতা দেখা যায়। কী হবে, কবে হবে, কেমন হবে কিংবা আদৌ কিছু হবে তো—এসব ভেবেই বেশিরভাগ সময় নষ্ট হয়। কাজের চেয়ে ভাবনা বেশি হলে বেশি দূর এগোনো কঠিন হয়ে পড়ে।’
অপূর্বর শৈশব-কৈশোর কেটেছে টাঙ্গাইলেই। স্ত্রী সুলগ্না সরকার আর একমাত্র কন্যা অ্যানিলিয়া সরকার অরণীকে নিয়ে ঢাকায় এখন তার সুখের সংসার জীবন কাটছে।
এক নজরে
অপূর্ব সরকার অপু
ডাক নাম :অপু
জন্মতারিখ ও স্থান :৩১ ডিসেম্বর, টাঙ্গাইল
মায়ের নাম :সবিতা সরকার
বাবার নাম :নির্মলেন্দু সরকার
প্রথম স্কুল :খুররাম শিশু স্কুল
প্রিয় মানুষ :আমার মা-বাবা
প্রিয় উক্তি :‘প্রেজেন্ট অপরচুনিটিস আর নট টু বে নেগলেকটেড, দে রেয়ারলি ভিজিট আস টুয়াইস।’
প্রিয় পোশাক :টি-শার্ট, জিন্স
অবসর কাটে যেভাবে :সিনেমা দেখে, বই পড়ে
সাফল্যের সংজ্ঞা :পরিশ্রম।
মো. না জ মু ল হু দা
এক্সিকিউটিভ (ট্রেনিং ডিভিশন)
ওরিয়ন ফার্মাসিউটিক্যালস
‘ফামাসিস্ট হিসেবে আমার ক্যারিয়ার শুরু ২০১০ সালে ওরিয়ন ফার্মা লি.-এ সেলস্ ট্রেইনিং ডিপার্টমেন্টে যোগদানের মাধ্যমে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফার্মেসিতে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করার পর সেটিই ছিল আমার প্রথম ইন্টারভিউ এবং আমিই ছিলাম বোর্ডের প্রথম প্রার্থী। স্বভাবতই ভয় এবং উত্কণ্ঠা কাজ করছিল ভীষণভাবে। তবে ছাত্র জীবনে বিতর্ক চর্চার সাথে যুক্ত থাকায় আত্মবিশ্বাসেরও ঘাটতি ছিল না আমার মধ্যে’, নিজের শুরুর গল্পটা এভাবেই বললেন নাজমুল হুদা। কেমন কাজ করতে হয় তাকে? জানতে চাইলে নাজমুল বলেন, ‘আগ্রহী, আত্মবিশ্বাসী ও যোগ্য প্রার্থীকে বাছাই করা থেকে শুরু করে যথাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ফার্মা মার্কেটে একজন দক্ষ বিপণন কর্মী হিসেবে যথাযথভাবে প্রস্তুত করা-ই আমার মূল দায়িত্ব। এ জন্য হিউম্যান ফিজিওলজি, প্রোডাক্ট ইনফরমেশন, একিকেট অ্যান্ড এথিকস, মার্কেট ওবজারভিউ, সেলিং স্কিলসহ প্রয়োজনীয় নানা বিষয় সম্বলিত ম্যানুয়াল, মউিউল, শিডিউল তৈরি করতে হয়। শিক্ষানবিশ বিপণনকর্মীদের সামনে এগুলো প্রাণবন্ত ও যথাযথভাবে উপস্থাপন করা এবং ইভালুয়েশন ও ট্রেনিং নিড অ্যানালাইসিস করাটাও আমার নিয়মিত অত্যাবশ্যকীয় কাজ।’
কতটা স্বাচ্ছন্দ্য নিয়ে কাজ করেন—জানতে চাইলে নাজমুল বলেন, ‘ফার্মাসিস্ট ট্রেইনার হিসেবে কাজ করা একই সঙ্গে আনন্দের ও চ্যালেঞ্জের। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যাকগ্রউন্ড থেকে সদ্য পাসকরা গ্র্যাজুয়েটদের প্রশিক্ষণ দিতে গিয়ে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন অভিজ্ঞতা সঞ্চয় হয় মুখোমুখি হতে হয় তাদের নানা কৌতূহলের। শিক্ষানবিশ বিপণনকর্মীদের পেশাদার মনোভাব গড়ে তোলা ও মনোবল অটুট রাখার জন্য সব সময়ই তাদের প্রেরণা ও প্রশিক্ষণ দিতে হয়। অন্য যেকোনো পণ্যের বিপণনকর্মীদের চেয়ে চরম প্রতিযোগিতাপূর্ণ ফার্মা মার্কেটের জন্য মাত্র একমাসের প্রশিক্ষণে তাদের আলাদাভাবে প্রস্তুত করতে হয়, কারণ এখানে পুঁজি হলো নলেজ, প্রোডাক্ট হলো লাইফ সেনসিটিভ (মেডিসিন) নিয়ে কাস্টমার হাইলি এডুকেটেড (ডাক্তার) এবং টার্গেট প্রেসক্রিশন ও সেলস।’ সবশেষে নাজমুল শোনালেন তার শৈশবের কথা, ‘মা, বাবা ও পাঁচ বোনের ভালোবাসা ও উত্সাহে আমার বেড়ে ওঠা। তাদের আদর ভালোবাসা আমাকে স্বাধীনচেতা ও সৃজনশীল হতে সাহায্য করেছে। শৈশব থেকেই পড়াশোনার বাইরে লেখালেখি আর নানা অনুষ্ঠান আয়োজনে, অংশগ্রহণে বেশিরভাগ সময দিতাম বলে বকুনিও কম শুনতে হতো না, তবে পরীক্ষার ভালো রেজাল্ট আর প্রতিযোগিতার পুরস্কার দেখে পরিবারের সবাই খুব খুশি হতেন; উত্সাহ দিতেন। লেখালেখির শুরুটা একদম শৈশবে স্কুলে পড়ার সময় থেকেই। সেই সময় থেকেই আমার লেখা বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এ পর্যন্ত দেশবরণ্যে কবিদের সাথে ‘১০০ ছড়া কবিতা’, ‘একুশ ও মুক্তিযুদ্ধের নির্বাচিত ছড়া’, এবং ‘বর্ণে একুশ’ নামক তিনটি সংকলিত গ্রন্থে আমার কবিতা স্থান পেয়েছে। এ ক্ষেত্রে কুষ্টিয়ার সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক আবহ আমাকে বাড়তি সুযোগ করে দিয়েছে। কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে উচ্চমাধ্যমিক পড়ার সময়ই ১৭তম জাতীয় টেলিভিশন বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করার সুযোগ পাই। এরপর বিতর্ক সংগঠনে জড়িয়ে পড়ি এবং আজ আবধি ন্যাশনাল ডিবেট ফেডারেশনের ব্যানারে বিতর্কের সাথে পথচলা। এ ছাড়া খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি ডিসিপ্লিনের প্রকাশনা ‘ফার্মা ফ্যামিলি ম্যাগাজিন’-এর সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করছি।’ ভবিষ্যত্ স্বপ্নের কথা জানতে চাইলে নাজমুল বলেন, ‘স্বপ্ন পূরণের স্বপ্ন ধরে রাখা। নিজের অভিজ্ঞতা ও লব্ধ জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে দেশের উন্নয়নে অংশগ্রহণ করা।’
এক নজরে
মো: নাজমুল হুদা
ডাকনাম :নাজমুল
জন্ম তারিখ ও স্থান :৬ জুন, নওদা আজম পুর, আমলা, মিরপুর, কুষ্টিয়া
বাবার নাম :মো. ছহিরুদ্দিন
মায়ের নাম :শাহনুর খাতুন
প্রথম স্কুল :আজমপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কুষ্টিয়া
প্রিয় মানুষ :মা
প্রিয় উক্তি :ঘুমিয়ে যা দেখা হয় তা স্বপ্ন নয়; স্বপ্ন তা-ই যা ঘুমুতে দেয় না। (এপিজে আবুল কালাম)
প্রিয় পোশাক :ফতুয়া ও জিন্স
অবসর কাটে যেভাবে :লেখালেখি করে ও বই পড়ে
সাফল্যের সংজ্ঞা :সাধনালব্ধ সুফল-ই সাফল্য।
