প্রজন্ম সংবাদ

আপডেট : ২৪ মার্চ ২০১৩, ১৮:৪৪
ফেসবুক গবেষক রিওটা কানাই আজকের বিশ্বে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটগুলোর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হলো ‘ফেসবুক’। আমাদের তরুণ সমাজের অনেকই আজ ফেসবুক জ্বরে আক্রান্ত। হয়তো কেউ বেশি, কেউ কম। সম্প্রতি একটি গবেষণায় দেখা গেছে এই ফেসবুকের প্রভাব পড়ছে আমাদের মস্তিষ্কে। কিছুটা অবাক করার মতো বিষয় হলেও ব্যাপারটার মধ্যে সত্যতা রয়েছে। ফেসবুক ব্যবহারকারীদের উপর একটি গবেষণা চালানো হয়েছে। কমবেশি ফেসবুক ব্যবহারকারীদের মস্তিস্ক ‘থ্রি-ডি স্ক্যানার’-এর মাধ্যমে পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে, যারা তুলনামূলকভাবে বেশি সময় ফেসবুক ব্যবহার করেন অথবা যাদের ফেসবুক-বন্ধুর সংখ্যা বেশি তাদের ব্রেনের কিছুটা অংশ অন্যদের তুলনায় বেশি ঘন। শুধু তাই নয়, মস্তিষ্কের কিছু অংশে এর স্পষ্ট চিহ্নও পাওয়া যায়। আরও জানা যায়, মানুষের মস্তিষ্কের মোট তিনটি অংশ সামাজিকতা রক্ষার দায়িত্ব পালন করে থাকে। লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক রিওটা কানাই এই বিষয়ে বলেন, ‘আমাদের সামাজিক আচরণ, যেমন পরিচিত মানুষ বা বন্ধুদের দেখে আমাদের চোখের চাহনি অথবা মুখের হাসি, এসবের জন্য মস্তিষ্কের ‘সুপিরিয়ার টেম্পোরাল সালকাস’ ও ‘মিডল টেম্পোরাল সালকাস’ কাজ করে থাকে। সহজ ভাষায় বলতে গেলে, ফেসবুকে বন্ধুর সংখ্যা বেড়ে গেলে এর প্রভাব পরে আমাদের মস্তিষ্কে। এ ছাড়া, তৃতীয় অংশটি ‘এন্টোর্হিনাল কমপ্লেক্স’ মূলত কাজ করে স্মরণশক্তির ক্ষেত্রে। অর্থাত্, মানুষের মুখ এবং তার সঙ্গে তাদের নামের মধ্যে যে সংশ্লিষ্টতা স্মৃতিতে সেটাই ধরে রাখে এই অংশটি। তাই কারও বন্ধু বা পরিচিত মানুষের সংখ্যা বেশি হলে, তার ব্রেনটিকে বেশি মাত্রায় নিউরনের সংকেত অনুযায়ী কাজ করতে হয়। সাধারনত দেখা যায়, চলতে ফিরতে অমাদের আশপাশে অনেক মানুষ। তাদের মধ্যে কারও আবার বন্ধুদের সংখ্যা অনেক বেশি। তবে এক হিসেবে তাদের প্রভাব মস্তিষ্কে পড়ে না। কারণ তাদের সবাইকে একসাথে কখনও দেখা যায় না। পেলেও সেটা তেমন জোরালো নয়।’ বাংলাদেশ যখন বিশ্বসেরা ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটন আয়োজিত গ্লোবাল সোশ্যাল এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ কম্পিটিশনের ‘গ্লোবাল হেলথ প্রাইজ’ জিতে নিয়েছে বাংলাদেশের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দল ‘লাইফ চেয়ার’! ব্যবসার মাধ্যমে সামাজিক উন্নয়নের পরিকল্পনা দিয়ে পৃথিবী বদলে দেওয়ার স্লোগান নিয়ে ২০০৫ সাল থেকে প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটনের ফস্টার স্কুল অব বিজনেস আয়োজন করে গ্লোবাল সোশ্যাল এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ কম্পিটিশন। এবারের প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ২৯টি দেশের ৬৭টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তরুণ উদ্যোক্তারা নিজ নিজ পরিকল্পনা নিয়ে আবেদন করেন। সর্বমোট ৯১টি দলের পরিকল্পনা থেকে যাচাই-বাছাইয়ের পর ১৬টি দলকে নির্বাচিত করা হয় সেমিফাইনালিস্ট হিসেবে, যেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ থেকে তিনটি দল এবং ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে একটি দল অংশ নেয়। শুধু বিচারকেরাই নন, ট্রেড শোতে উপস্থিত ছিলেন বিখ্যাত বিনিয়োগকারী, সিয়াটলের বিশিষ্ট নাগরিক, ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটনের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। উপস্থিত দর্শকদের ভোটে ‘পিপলস চয়েস অ্যাওয়ার্ড’-এর জন্য নির্বাচিত হয় বাংলাদেশের দল ‘ইকো-চুলা’। তবে লাল-সবুজের জয়যাত্রার সেটা ছিল কেবল শুরু। ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় প্রতিযোগিতার প্রথম পর্ব। একে একে ১৪টি দল বিচারক প্যানেলের সামনে তুলে ধরে নিজেদের ব্যবসা পরিকল্পনা। নানা বিচার-বিশ্লেষণের পর সে দিন সন্ধ্যায় নাম ঘোষণা করা হয় ছয় ফাইনালিস্ট দলের। বাংলাদেশ থেকে ‘লাইফ চেয়ার’ আর ‘ইকো চুলা’-দুটি দল উঠে আসে ফাইনাল রাউন্ডে। ‘ইকো-চুলা’ দলের সদস্যরা হলেন আসিফ, শামরোজ ও তামান্না। অবশেষে ১০ হাজার মার্কিন ডলার (প্রায় আট লাখ টাকা) মূল্যমানের গ্লোবাল হেলথ প্রাইজ জিতে নেয় নাফিস আস-সাকিব ও মাকামে মাহমুদের দল ‘লাইফ চেয়ার’।