বিচারকে বাধাগ্রস্ত করার জন্যই স্বচ্ছতার দোহাই দেয়া হচ্ছে

আপডেট : ২৪ মার্চ ২০১৩, ২০:৪৭
আমাদের দুর্ভাগ্য এই যে, স্বাধীনতার ৪২ বছর পর এদেশের রাজনীতি এখন স্পষ্টতই দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছে। মুক্তিযুদ্ধস্নাত একটি দেশের জন্য যা ছিল একেবারে অভাবিত। যেখানে বাংলাদেশের মত মুক্তিযুদ্ধের পথ বেয়ে জন্ম নেয়া দেশে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীরা নিশ্চিহ্ন হয় বা নির্বাসিত হয় সেখানে পরম আদরে রাজনীতিতে পুনর্বাসিত হলো জামায়াতে ইসলামী। এখন অনেকটা ডালপালা ছড়িয়েছে। অবশ্য এদেশের সাধারণ মানুষের অন্তরে দৃঢ়মূল প্রথিত করতে পারেনি। স্বর্ণলতার মত বন্ধুপ্রতিম গাছের ডাল জড়িয়ে বেড়ে উঠছে। আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা গাছের রস শুষে নিজ দেহ খোলতাই করছে আর বন্ধুকে করে তুলছে কৃশকায়। জামায়াতে ইসলামী দলটি শুধু মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেনি—জঘন্য অপরাধের সাথেও জড়িয়ে পড়েছিল। মওদুদিবাদের বিতর্কিত আদর্শ ধারণ করে ধর্মের নাম ভাঙ্গিয়ে হানাদার পাকিস্তানি বর্বর বাহিনীর স্থানীয় দালালের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয় একাত্তরে। তাই মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি নিয়ে এদেশের বেঁচে থাকা অসংখ্য মানুষ বলতে পারবেন সে সময় জামায়াতে ইসলামী কতটা আতঙ্ক আর ঘৃণার নাম ছিল। এই দলের নেতা-কর্মীরা ধর্মের নাম ভাঙ্গিয়ে—পবিত্র ইসলাম ধর্মকে কলুষিত করে হেন অপকর্ম নেই যে একাত্তরে করেনি। দুর্ভাগ্য এই আজকে সুবিধাবাদী নেতাদের মিথ্যা ব্যাখ্যায় আচ্ছন্ন ইতিহাস-বিচ্ছিন্ন তরুণ জামায়াত-শিবির কর্মীরা এই অতীত না জেনে অপরাধীদের রক্ষায় ধর্মের সাথে, মানবতার সাথে শত্রুতা করছে। গণহত্যা, নারী ধর্ষণ, লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগকারী হানাদারদের সহযোগী এবং অংশগ্রহণকারীদের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ না করে তাদের রক্ষার জন্য আরেকবার দেশ ও জাতির বক্ষ বিদীর্ণ করছে। একইভাবে এদের রক্ষা করার পাপ কাঁধে তুলে নিয়ে মানবতা বিরোধী অপরাধীদের কাতারে নিজেদের যুক্ত করছে বিএনপির মত একটি জনপ্রিয় দল। কিছুসংখ্যক নেতা-নেত্রীর রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত লোভের আগুনে পুড়ছে দলের প্রতি অসংখ্য নেতা-কর্মীর ভালোবাসা। ১৯৭৫ সালের পর মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানের আশ্রয়ে এদেশের রাজনীতিতে পুনর্বাসিত হয়। সেদিন চমকে উঠেছিল বাংলাদেশের সুস্থ ধারার মানুষ। কিন্তু বঙ্গবন্ধু হত্যা-উত্তর সামরিক বাহিনীর ভেতর অভ্যুত্থান-পাল্টা অভ্যুত্থানের বাস্তবতায় যে গোলমেলে অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল যার কারণে তেমনভাবে প্রতিবাদের শব্দ উচ্চারিত হয়নি। মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান তাঁর রণাঙ্গনের পরিচয় পাল্টে ফেললেন। নিজের গড়া নতুন দলের শক্তি খুঁজতে চাইলেন মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীদের কাছ থেকে। জিয়াউর রহমানের ব্যক্তিগত ক্যারিশমায় এবং আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক দুর্বলতার সুবিধায় বিএনপি নামের দলটি বেশ গুছিয়ে উঠেছিল। কিন্তু সংকট তৈরি হয় জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর। বেগম খালেদা জিয়াকে নেতৃত্বে এনে আপাত সামাল দিলেও হীনমন্যতা থেকে বেরুতে পারেননি বিএনপি নেতৃত্ব। আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেয়া দল। অন্যান্য দলও মুক্তিযুদ্ধের গৌরবকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে। ঠিক অমন একটি প্রেক্ষাপটে মুক্তিযুদ্ধের পরে জন্ম নেয়া বিএনপি মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী জামায়াতে ইসলামকে সমর্থন ও পৃষ্ঠপোষকতা দেয়ার কারণে সম্ভবত হীনমন্যতায় ভুগছিল। তাই অনেক বেশি সক্রিয় হতে চেয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের গৌরব নিজেদের গায়ে মেখে একদিকে প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করতে, অন্যদিকে জামায়াতের ইচ্ছেয় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ভুলিয়ে দিতে চাইলো নতুন প্রজন্মের মন থেকে। মানতে হবে এসব উদ্দেশ্য সফল করার জন্য মিথ্যের বেসাতির ডালা খোলা হয়েছিল জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর। বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা যে কাজ করেননি তা অবলীলায় করলেন পরবর্তী বিএনপি নেতৃত্ব। অপ্রয়োজনে শুধুমাত্র আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেয়ার গৌরবময় ঐতিহ্যের সাথে নিজ দলকে সংশ্লিষ্ট করার উদগ্র বাসনায় জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক বানানো হলো। এ কাণ্ডে জিয়াউর রহমানের বিদেহী আত্মা নিশ্চয়ই বিস্মিত হয়েছিল। এমন আচরণ বিএনপি নেতৃত্বের হীনমন্যতারই বহিঃপ্রকাশ। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ভুলিয়ে দেয়ার জন্য বিএনপি পাঠ্যপুস্তকে মুক্তিযুদ্ধের বাস্তব চিত্র ও বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা প্রভৃতি বিকৃত করায় নানা ভূমিকা রাখলো। আমরা জানি ঐতিহ্যহীন ভূঁইফোড় রাজনীতির কুশলীরা প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতা দিয়ে সময়ের নানা বাঁকে বাস্তবতাকে গ্রহণ-বর্জনের ঔদার্যে দল পুনর্গঠন করে। আদর্শের রূপান্তর ঘটানোর স্থিতিস্থাপকতা থাকে। কিন্তু বারো রকমের নেতা-নেত্রীর দল বিএনপি কূটকুশলী হতেও যেন ব্যর্থ হচ্ছে। রাষ্ট্রক্ষমতা মুখ্য হলেও সিংহাসনে অধিষ্ঠান নিষ্কন্টক করার জন্য যে কখনো দম নিতে হয়, মোক্ষম সময়ের জন্য অপেক্ষা করতে হয় বর্তমানের নেতৃত্ব তা বুঝতে চান না। তারা অপেক্ষা করতে একেবারেই নারাজ। তাই স্থান কাল পাত্র বিবেচনা করতে না পেরে নিজেদের জটিল সংকটে ফেলে দিচ্ছেন। মুক্তিযুদ্ধস্নাত এদেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতা বিরোধী অপরাধের সাথে যুক্ত অপরাধীদের যোগ্য শাস্তির জন্য বিয়াল্লিশ বছর ধরে অপেক্ষা করছে। সভ্যতার সাধারণ দাবিতে এদের ক্ষমা করার অধিকার কারো নেই। এই দায় মেটানোর দায়িত্ব এদেশের সরকার গঠনকারী আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি সকলের ওপরই অবধারিত ছিল। দেশকে কলঙ্কমুক্ত করতে অতীতে কেউ ভূমিকা রাখেনি। শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক প্রজ্ঞা দেখাতে পেরেছে আওয়ামী লীগ। জনআকাঙ্ক্ষাকে উপলব্ধি করে গত নির্বাচনের আগে মানবতা বিরোধীদের বিচার করার প্রতিশ্রুতি নিয়ে এলো। আওয়ামী লীগের বাক্সে বিপুল সংখ্যক ভোট পড়ার পেছনে এই প্রতিশ্রুতি যে বিশেষ ভূমিকা রেখেছিল ধরাশায়ী বিএনপি নেতৃত্ব তা অনুভব করতে চাননি। কর্মী-সমর্থকের বিচারে বিএনপি এদেশের অন্যতম বড় দল। এমন জনসমর্থনও বিএনপির স্বার্থবাদী দুর্বল নেতৃত্বকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে পারেনি। জনগণকে নিয়ে ইতিবাচক রাজনীতি করার মত সাহসী হতে পারেননি তারা। তরুণ প্রজন্মের ভোটারকে আকৃষ্ট করতে চাননি নিজ দলের দিকে। তাই মসনদে পৌঁছার জন্য বার বার জামায়েতে ইসলামীর ভোট গুনেছেন। কিন্তু সে ভোটের অন্তর্জ্বালাকে অনুভব করতে চাননি। না হলে গত নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার শিক্ষা ধারণ করে বিএনপির নীতি-আদর্শ ও চরিত্রের পুনর্গঠন করা উচিত ছিল। বিশেষ করে প্রয়োজন ছিল নিজ দল পুনর্গঠন ও তরুণ ভোটারের মনোরঞ্জন করে জামায়াতের ভোটনির্ভরতা কমিয়ে ফেলা। বিশেষ করে এবারে সরকার গঠন করার পর সরকারের বেসুরো হাঁটা, সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নানা ব্যর্থতা, ছাত্রলীগ সন্ত্রাসের বাড়বাড়ন্ত ইত্যাদি আওয়ামী লীগকে অনেকটা ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়েছিল। এই অবস্থাকে রাজনৈতিক প্রজ্ঞা দিয়ে ধারণ করতে পারেননি বিএনপি নেতৃত্ব। বুঝতে পারেননি জনদাবি ধারণ করে মানবতা বিরোধী অপরাধীদের বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনাল গঠন এবং অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করে ঘুরে দাঁড়ানোর পথ তৈরি করে ফেলেছে আওয়ামী লীগ। এই বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে জাতির সামনে নিজের স্বচ্ছ অবস্থান উপস্থাপনের একটি মহাসুযোগ এসেছিল বিএনপির সামনে। জামায়াত বন্ধুত্ব থেকে সরে আসার এই সুযোগ বিএনপির গ্রহণ করা ছিল একটি সাধারণ রাজনৈতিক হিসাব। সময়ের বাস্তবতায় আওয়ামী লীগের আর জামায়েতের দিকে মুখ ফেরানোর মত ভুল করার সুযোগ ছিল না। ফলে দৃশ্যত জামায়াতের সাথে সম্পর্ক ছেদ করলেও হারাধনের একটি ছেলে জামায়াতের মৌন সমর্থন বিএনপির দিকেই যেতো। বিএনপির সবচেয়ে বড় অন্যায় মানবতা বিরোধীদের বিচার নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেনি। তার বদলে তৈরি করেছে ধোঁয়াশা। বোঝা যাচ্ছিল জামায়াতের বলয়ে যেভাবে বন্দী হয়ে পড়ছিল বিএনপি তাতে করে অপরাধীদের বাঁচানোর দায়িত্বই নিতে হবে দলটিকে। তাই অত্যন্ত অ-কৌশলীভাবে বিএনপি জাতিকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা নেয়। বলতে থাকে তারা মানবতা বিরোধী অপরাধীদের বিচার চায় তবে তা যেন আন্তর্জাতিক মানসম্মত ও স্বচ্ছ হয়। বক্তব্য বিষয় হিসেবে এ কথার জুিড় নেই। কিন্তু এর ভেতর বস্তুনিষ্ঠতা খুঁজে পাওয়া ভার। কারণ অমন জবানী উপস্থাপন করলে সবার আগে প্রয়োজন প্রমাণ করা ট্রাইব্যুনালের বিচার কি কি কারণে স্বচ্ছ এবং তা আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন নয়। না হলে বলতে হবে এই ট্রাইব্যুনাল স্বচ্ছতার সাথে এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে বিচার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তার বদলে একটি দায়সারা কথা ছুঁড়ে দিয়ে যখন অপরাধীদের প্রতিপালক জামায়াতের সাথে গলায় গলায় বন্ধুত্ব রক্ষা করে বিএনপি দুর্গম পথ পাড়ি দিতে চায় তখন বুঝতে হবে প্রকৃত অর্থে মানবতা বিরোধী অপরাধীদের বিচার বিএনপি চায় না। জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করার চেয়ে ভোটের রাজনীতিতে জামায়াতকে খুশি রাখাই বিএনপি জরুরি বিবেচনা করছে। খোদ বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ অনেক বিএনপি নেতা প্রকাশ্য বক্তৃতায় মানবতা বিরোধী অপরাধীদের পক্ষাবলম্বনে কিছুমাত্র দ্বিধা করেননি। বিএনপির সবচেয়ে বড় ভুল ছিল শাহবাগের গণজাগরণের মূল শক্তিকে উপলব্ধি করতে না পারা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থেকে জন্ম নেয়া তারুণ্যের এই অন্দোলন যখন দেশপ্লাবী হচ্ছিল তখনই রাজনৈতিক মেধায় সতর্ক হয়ে যাওয়া উচিত ছিল বিএনপির। মানবতা বিরোধী অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে এই অরাজনৈতিক আন্দোলন অবশ্যই জামায়াতে ইসলামী দলের বিরুদ্ধে যাবে। আর যত দিন যাবে এই আন্দোলনের উপর রাজনৈতিক প্রভাব পড়তে থাকবে। ইস্যুটি এমন যে, না চাইলেও এই আন্দোলনের ফসল আওয়ামী লীগের ঘরে যাওয়ার সুযোগ বেশি। তবে বিএনপির জন্য একটি ফাঁকা জায়গা ছিল। তা হচ্ছে বিগত চার বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের শাসন-দুর্বলতা। একে সামনে এনে জামায়াত-বন্ধুত্বে ইতি ঘটিয়ে বা অন্তত আড়াল করে মানবতা বিরোধীদের বিচারের প্রশ্নে তারুণ্যের সাথে ঐক্যতানে মাঠে নামলে, সংহতি প্রকাশ করলে আওয়ামী লীগের পক্ষে একক আনুকূল্য পাওয়া কঠিন হতো। কিন্তু এ পথে হাঁটলেন না বিএনপি নেতৃত্ব। জামায়াতের কূটকৌশলে বিভ্রান্ত হলেন। লক্ষ লক্ষ তরুণ ও তাদের সমর্থনকারী দেশপ্রেমিক মানুষদের লাঞ্ছিত করে সাতপুরোন আস্তিক্য-নাস্তিক্যের ধুয়ো ছড়িয়ে পানি ঘোলা করে সুবিধার ফসল ঘরে তুলতে চাইলেন। কিন্তু বুঝতে চাইলেন না কিছুসংখ্যক ধর্মান্ধ মানুষের হিংস্রতা একুশ শতকের মানুষের প্রত্যাশার মৃত্যু ঘটিয়ে বড় কোনো পট পরিবর্তন করতে পারে না। আজ এমন একটি বাস্তবতার মুখোমুখি আমরা যেখানে সাধারণ দেশপ্রেমিক মানুষের সত্য সুন্দর ও মানবতার পক্ষে জেগে ওঠা ইচ্ছেকে অস্বীকার করা হবে বড় রকমের মূঢ়তা। বিশ্বাস করতে হবে বাংলাদেশে ধর্মান্ধ মানুষের চেয়ে ধার্মিক মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি। সেই সঙ্গে আছেন অসংখ্য মুক্তবুদ্ধির সাধারণ মানুষ। একুশ শতকের এই আধুনিক সময়টিকে অস্বীকার করলে চলবে না। এর সাথে বিবেচনা করতে হবে এদেশের হাজার বছরের উজ্জ্বল সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য লালন করার বাস্তবতা। এখানে অনুজ্জ্বল, অসংস্কৃতিবান, লোভী ও হিংস্র অমানবিক মানুষদের সাফল্য লাভের কোনো সুযোগ নেই। লেখক :অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় [email protected]