জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ি উপজেলাধীন পিংনা ইউনিয়নের রাধানগর, বাশুরিয়া, কবুলিবাড়ি ও পিংনা-দক্ষিণপাড়া গ্রামের বাসিন্দারা যমুনা নদীর ভয়াবহ ভাঙনের শিকার। শত শত একর ফসলি জমি ইতিমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গিয়েছে। বসতবাড়ি হারিয়েছে কয়েক শ পরিবার। ক্ষতিগ্রস্তরা বাড়িঘর ভেঙে নিয়ে ফসলি জমি, অন্যের বাড়ির আঙিনা, রাস্তার ধার প্রভৃতি স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। কোথাও ঠাঁই না পেয়ে কয়েকটি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে পুরাতন কবরস্থানে। সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাধানগর গ্রাম। এ গ্রামের পুরাতন ও মূল অংশ নদীগর্ভে হারিয়ে গিয়েছে। বর্তমানে রাধানগর নাম নিয়ে ক্ষুদ্র একটি নতুন পাড়া টিকে আছে, যার আয়তন সম্পূর্ণ গ্রামের ১৫-২০ শতাংশ। দুটি মসজিদ ও একটি মন্দির নদীগর্ভে গিয়েছে। চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে তিনটি বিদ্যালয়, খেলার মাঠ ও ঈদগাহ্ ময়দান। নদীর পাড় ঘেঁষে দুই কিলোমিটার যে বেড়িবাঁধটি ছিল সেটি ২০১২ সালে নদীতে বিলীন হওয়াতে এলাকাবাসীর জীবনে এই দুর্দশা নেমে আসে। এখন প্রধান সড়কের প্রায় এক কিলোমিটার অংশ নদীর পাড় ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে। এ বছর ভাঙন শুরু হলে দুই-তিন দিনের বেশি এ অংশটুকু টিকবে না। জামালপুর জেলার সরিষাবাড়িতে অবস্থিত দেশের বৃহত্তম যমুনা সার কারখানাকে টাঙ্গাইলের ভেতর দিয়ে এ সড়কটিই সারা দেশের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে। এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে ভাঙনের শিকার হবে আরও দুই-তিনটি গ্রাম। পাশাপাশি প্লাবন ও ফসলহানির সম্মুখীন হবে আরও অন্ততপক্ষে ১০টি গ্রাম, যার বেশিরভাগই মূলত টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুর উপজেলার অন্তর্গত। লোকমুখে শোনা যায়, বছরখানেক আগেই বাঁধের জন্য অর্থ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কাজ শুরু হয়নি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো তত্পরতা নেই। পরিস্থিতি বিবেচনা করে বাঁধ নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা অতি সত্বর গ্রহণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
শফিউল হক,
শিক্ষক, সরকারি কলেজ,
জামালপুর
