প্রথমে মৌমাছি, তারপর ফ্লাডলাইট; এবার বৃষ্টি। মৌমাছি আর ফ্লাডলাইট মিলে যা করতে পারেনি এক বৃষ্টি তাই করে ফেললো। বিকালবেলা থেকে শুরু হওয়া প্রবল বৃষ্টির দাপটে মাত্র ৫ ওভার খেলা হওয়ার পরই পরিত্যক্ত হয়ে গেল বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে। ফলে হাম্বানটোটা থেকে ১-০ লিড নিয়েই পাল্লেকেলেতে যাচ্ছে শ্রীলঙ্কা দল। সেখানে ২৮ তারিখের শেষ ম্যাচে ঠিক হবে সিরিজের ভাগ্য; ঠিক হবে, বাংলাদেশ সিরিজে সমতা ফেরাতে পারবে কি না!
কালই সমতা ফেরানোর চ্যালেঞ্জ নিয়ে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে মোটামুটি ভালো ব্যাট করার পরও পেস বোলারদের দুর্বলতা আর শ্রীলঙ্কান টপ অর্ডারের মারকুটে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ হেরে যায় ৮ উইকেটে। ম্যাচের আগের দিনই কোচ শেন জার্গুনসেন বলছিলেন, এসব দুর্বলতা কাটিয়ে যে কোনো মূল্যে সিরিজে ফেরাটাই তাদের চ্যালেঞ্জ।
চ্যালেঞ্জটা নিতেই দিল না বৃষ্টি। সবুজ উইকেট, বল মুভ করার রেকর্ড আর রাতে হালকা শিশিরের কথা মাথায় রেখে টসে জিতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মুশফিকুর রহিম; কিন্তু কুশল পেরেরা ও তিলকরত্নে দিলশান যথারীতি ভয়ানক ভঙ্গিতে শুরু করেছিলেন। ৫ ওভারে দুই জনে দলের রান তুলে ফেললেন ৩৩। কুশল ২১ বলে ১৮ ও দিলশান ৯ বলে ১০ রান করে অপরাজিত ছিলেন।
এরপরই নামল বৃষ্টি। শুরুতে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি ছিল। পরে সেটা ঝড়ো বৃষ্টিতে পরিণত হয়। প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা বৃষ্টি চলার পর ম্যাচ রেফারি আনুষ্ঠানিকভাবে সিদ্ধান্ত নেন, আর খেলা চালানো সম্ভব নয়। তখন বৃষ্টি থেমে গেলেও আরো কমপক্ষে আধা ঘণ্টা লাগত খেলা শুরু করতে। সে ক্ষেত্রে দুই দলের কমপক্ষে ২০ ওভার করে খেলার আর সময় থাকে না।
এই ‘না হওয়া’ ম্যাচে বাংলাদেশের দুই পেসার বাজেভাবেই শুরু করেছিলেন। রুবেল ৩ ওভারে ২০ রান দিয়ে ফেললেন এবং তুলনামূলক কম খরচে জিয়াউর রহমান ২ ওভারে দিলেন ৯ রান।
যদিও আগের দিন কোচ জার্গুনসেন বলছিলেন, পেস বোলিংয়ের ওপর গুরুত্ব বাড়াতে চান তিনি। আগের ম্যাচের কথা বলতে গিয়ে বলছিলেন, ‘আমরা শুরুতে পেস বোলিংটা একদমই ভালো করতে পারিনি। পরের ম্যাচে আমাদের ভালো বল করতে হবে। জায়গামতো বল ফেলতে হবে। মূলত পেসারদেরই কাজটা করতে হবে।’
কিন্তু কাল বাংলাদেশ একজন পেসার কম নিয়েই খেলতে নামল। প্রথম ম্যাচে জিয়াউরকেসহ তিন পেসার খেললেও কাল আবুল হোসেন একাদশ থেকে বাদ পড়লেন। তার জায়গায় দলে এসেছিলেন ওয়ানডে ও টেস্টে অভিষেকের পর থেকে অল্প সময় ধরে হলেও দারুণ ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করা মোমিনুল হক।
দলে আরেকটা পরিবর্তন ছিল। এটা অবশ্যম্ভাবী পরিবর্তন। ইনজুরিতে পড়ে গতকালই দেশে ফিরে আসা তামিম ইকবালের জায়গায় কাল একাদশে এসেছিলেন গল ও কলম্বো টেস্টে ওপেন করা জহুরুল ইসলাম। অবশ্য মোমিনুল বা জহুরুল কাউকেই কাল পরীক্ষাটা দিতে হয়নি। এখন দেখার বিষয়, পাল্লেকেলেতে তারা কী করেন!
তবে শর্ত একটাই, পাল্লেকেলেতে মৌমাছি, ফ্লাডলাইট কিংবা বৃষ্টির মতো কোনো বাধা ছাড়া খেলাটা অন্তত হতে হবে!
