মুগ্ধতা নিয়ে ফিরলেন জয়

আপডেট : ২৫ মার্চ ২০১৩, ২১:০৬
একসময় খুব কাছাকাছি শক্তির দল ছিল বাংলাদেশ আর কাতার। আরিফ খান জয় নিজেও কাতারের বিপক্ষে খেলেছেন; কিন্তু সেই কাতারই এখন অনেক দূরের ব্যাপার হয়ে গেছে। ফুটবলীয় মানে যেমন হোক; ক্রীড়া আয়োজনের দিক থেকে কাতার এখন বিশ্বের সেরা আয়োজকদের কাতারে নাম লেখানোর অপেক্ষায়। এখন তারা ফুটবল বিশ্বের মহাযজ্ঞ বিশ্বকাপ আয়োজনের অপেক্ষায়। কাতারের ২০২২ সালের বিশ্বকাপ ফুটবল আয়োজনেরই নানা দিক নিয়ে হয়ে যাওয়া এক সেমিনারে অংশ নিয়ে ফিরলেন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক ও বাফুফের সহ-সভাপতি আরিফ খান জয়। কাতারের রাজধানী দোহায় তাদের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন গত ১৮ ও ১৯ মার্চ আয়োজন করেছিল দুই দিনের সেমিনার। যেখানে ফিফার সদস্যভুক্ত সবকয়টি দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ থেকে এই সেমিনারে প্রতিনিধিত্ব করেন জয়। ঢাকায় ফিরে শোনালেন কাতারের এই বদলে যাওয়ার চোখ ধাঁধানো গল্প। কাতারে গিয়ে শুধু মরু দেশটির ফুটবলের সঙ্গে পরিচয় হয়েছে তা নয়; বিশ্বের নানা প্রান্তের ফুটবল কর্মকর্তাদের সাথে কথা হয়েছে বাফুফের এই তরুণ কর্মকর্তার। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক পরিচয় শুনে অনেকেই বাংলাদেশের ফুটবল জানতে আগ্রহও দেখিয়েছেন। জয়ও এই সুযোগে ফুটবল বন্ধু দেশগুলোর কাছে তুলে ধরেছেন বাংলাদেশের ফুটবলের স্বর্ণালী অতীত, বর্তমান পথচলা এবং আগামীর লক্ষ্য। দোহায় কাতার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দুই দিনের সেমিনারে ফুটবলকে পাতানো খেলামুক্ত রাখা, ড্রাগমুক্ত করা, খেলোয়াড়দের ইনজুরি মুক্ত রাখা, ফেয়ার প্লে এবং ফুটবল ভ্রাতৃত্ব আরো জোরদার করাসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ক্রীড়াবিশ্বে আয়োজক হিসেবে নিজেদের অন্য মাত্রায় নিয়ে যাওয়ার জন্য যেসব উদ্যোগ নিচ্ছে কাতার; তা দেখারও সুযোগ হয়েছে জয়ের। বিশ্বকাপ বা কনফেডারেশন্স কাপ তো আছেই, আগে-পরে ছোট-বড়ো আরো কিছু ফুটবল টুর্নামেন্ট করবে তারা। টেনিসে অনেকদিন ধরেই বড় টুর্নামেন্ট আয়োজন করছে। তবে কাতার যে ‘ভিশন ২০২২’ ঘোষণা করেছে; তাকে অনেকেই বাস্তবায়নের জন্য কঠিন লক্ষ্য বলে মন্তব্য করেছেন জয়ের কাছে। তবে কাতারীদের চেষ্টার কমতি নেই। মধ্য প্রাচ্যের দেশটির উত্তপ্ত আবহওয়ায় ভারসাম্য আনতে সবুজায়ন করা হচ্ছে। পথ-ঘাট, যোগাযোগ ব্যবস্থা, নগর উন্নয়ন— সব কিছু ছবির মতো বদলে দেয়া হচ্ছে। কাতার ঘুরে এসে জয় বলেন, ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে গোটা জাতির পরিচয় বদলে দিতে যাচ্ছে কাতার। এর বাইরে নিজেদের ফুটবল উন্নয়নেও ব্যয় করছে তারা। তরুণ প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণই দেয়া হচ্ছে বেতন কাঠামোতে অন্তর্ভুক্ত করে! আর এসব দেখেই মুগ্ধ জয়।