আগামী ১লা এপ্রিল থেকে সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখা হবে। আগামী পাঁচ মাস কয়েকটি সার কারখানা বন্ধ থাকবে। সার কারখানায় যে গ্যাস সরবরাহ করা হতো তা বিদ্যুত্ উত্পাদনে দেয়া হবে। সোমবার বিদ্যুত্ ,জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
আপাতত চারটি কারখানা বন্ধ করা হবে। এগুলো হলো পলাশ সার কারখানা, চট্টগ্রাম ইউরিয়া সার কারখানা (সিইউএফএল), আশুগঞ্জ সার কারখানা ও ইউরিয়া সার কারখানা। যমুনা সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে।
দেশের সাতটি সার কারখানায় দৈনিক ২৮৯ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন। বর্তমানে সরবরাহ করা হচ্ছে ১৯৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। চারটি সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস বিদ্যুেকন্দ্রে সরবরাহ করা হবে। চলতি বছর সারের চাহিদা প্রায় ২৫ লাখ টন। এরমধ্যে ১০ লাখ টন সার উত্পাদন করা হবে দেশের কারখানায়। বাকীটা আমদানি করা হবে।
বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) জানায়, ২০১২ সালের মার্চে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ৫ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট। চলতি বছর একই সময়ে চাহিদা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ১০০ মেগাওয়াটে। এই অবস্থায় তাদের ১ হাজার ২৮০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে বিদ্যুত্খাতে সাড়ে ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। সব খাতেই গ্যাসের রেশনিং করা হচ্ছে। সেচ মৌসুমে বিদ্যুেক গুরুত্ব দিতে সে খাতে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানো হচ্ছে। আবার সেচের শেষে সারকে গুরুত্ব দিয়ে সে খাতে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানো হবে।
গতকাল বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বিদ্যুত্ ও সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ বিষয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী মোহম্মদ এনামুল হক, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বীর বিক্রম, বিদ্যুত্ সচিব মনোয়ার ইসলাম, জ্বালানি সচিব মোজাম্মেল হক খানসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
