গণতন্ত্রের উত্থান যাতে ব্যাহত না হয় সেদিকে খেয়াল রেখে দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত নিতেন জিল্লুর রহমান। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তার লক্ষ্য ছিল তিনটি। শেখ হাসিনার মুক্তি, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়া। হঠকারী রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত তিনি নিতেন না। প্রত্যেক বিষয় বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়ার দক্ষতা ছিল তার। মাথার ওপর বন্দুক, চারদিকে গোয়েন্দা এর মধ্যেই তিনি ঠাণ্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকার, পল্ল¬ী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম প্রয়াত রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ জিল্লুর রহমানের শোকসভায় এসব কথা বলেন। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ এই শোকসভার আয়োজন করে। এতে বক্তব্য রাখেন এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক ও সচিব আবু আলম শহীদ খান। সভার শুরুতে রাষ্ট্রপতির স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
সৈয়দ আশরাফ বলেন, একজন রাষ্ট্রপ্রধান মারা গেলে রাষ্ট্রের কি কাজ সে বিষয়ে সরকার বা সেনাবাহিনী বা অন্য কারো ধারণা ছিল না। কারণ বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো রাষ্ট্রপতির স্বাভাবিক মৃত্যু ঘটেছে। এর আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি হিসাবে মারা গেলেও তাদের কারোই স্বাভাবিক মৃত্যু হয়নি। তিনি বলেন, জিল্লুর রহমান জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন না, কিন্তু মানুষ যে তাকে ভালবাসতো তা তার জানাজায় হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতি দেখলেই বোঝা যায়। বাংলাদেশে যে ভাল মানুষের মূল্যায়ন হয় এটাই তার প্রমাণ।
প্রতিমন্ত্রী নানক বলেন, রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান রাষ্ট্রকে সুযোগ্য নেতৃত্ব দিয়ে পরিচালনা করেছেন। দেশের সর্বস্তরের মানুষ তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে রাষ্ট্রপতির জীবন বৃত্তান্ত উপস্থাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে জিল্লুর রহমানের সঙ্গে কাজ করা তার ব্যক্তিগত সহকারী আব্দুল খালেদ হাওলাদার স্মৃতিচারণ করেন। সভাশেষে রাষ্ট্রপতির জন্য মোনাজাত করে দোয়া করা হয়।
