নারায়ণগঞ্জ প্রতিরোধ দিবস আজ

আপডেট : ২৬ মার্চ ২০১৩, ২০:৫০
নারায়ণগঞ্জ প্রতিরোধ দিবস আজ। ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ পাক হানাদার বাহিনী সমরাস্ত্র নিয়ে শহরে প্রবেশের সময়ে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার মাসদাইর এলাকায় স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের প্রবল বাধার সম্মুখীন হয়ে পিছু হটে। মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল নারায়ণগঞ্জ জেলা সংসদের ডেপুটি কমান্ডর মুক্তিযোদ্ধা সামিউল্ল¬¬াহ মিলন জানান, ২৭ মার্চ পাকবাহিনী নারায়ণগঞ্জ শহরে প্রবেশের খবরে ওইদিন সকাল থেকেই নারায়ণগঞ্জের মুক্তিকামীরা শহরের মাসদাইর এলাকা পৌর কবরস্থান শ্মশান ঘাট সংলগ্ন ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ (পাগলা) সড়কে অবস্থান নেয়। সড়কের পঞ্চবটি থেকে মাসদাইর পর্যন্ত গাছ কেটে সড়ক অবরোধ ও শহরের চাষাঢ়ায় রেল গেটে ট্রেনের বগি ফেলে রেখে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়। প্রায় ২৪ ঘন্টারও বেশি সময় প্রতিরোধ সৃষ্টির পর ২৮ মার্চে পাক হানাদার বাহিনী অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র নিয়ে দ্বিতীয় দফায় শহরে প্রবেশ করে। ২৭ মার্চের প্রতিরোধে নেতৃত্বদানকারী বাবু সারোয়ার জানান, ২৭ মার্চের আগে থেকেই স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা সংগঠিত ছিল। ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে দেশের উত্তপ্ত সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ১ মার্চ শহরের রাইফেল ক্লাব থেকে নানা ধরনের প্রায় ৩৫টি অস্ত্র লুট করা হয়েছিল। ওইসব অস্ত্র দিয়েই মূলত ২৭ মার্চ পাক বাহিনীকে প্রতিরোধ করা হয়। ২৭ মার্চ প্রতিরোধের সময়ে আরো অস্ত্র প্রয়োজন হওয়ায় সেদিন মুক্তিযোদ্ধারা নারায়ণগঞ্জ শহরের কোর্ট এলাকায় (পুরাতন কোর্ট) তত্কালীন এসডিও বিল্ডিং এর পশ্চিমের ছোট একতলা ভবনে থাকা অস্ত্রাগার লুট করে। ২৮ মার্চে পাক হানাদার বাহিনী অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র নিয়ে শহরে প্রবেশ করে। তৌফিক সাত্তার, ইট ব্যবসায়ী আবদুল সাত্তার, ব্যাংকার সাত্তার, ব্যবসায়ী জসীমুল হক এবং তার সহধর্মিণীসহ অনেক লোককে হত্যা করে। নিহতদের মধ্যে ২০ জনের নাম নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের তালিকায় রয়েছে।