নিজেদের পারফরম্যান্স নিয়ে শঙ্কিত মিসবাহ

আপডেট : ২৬ মার্চ ২০১৩, ২১:৫৬
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজে হেরে একরকম বিপর্যস্ত হয়ে গতকাল লাহোরে এসে পৌঁছেছে পাকিস্তান দল। লাহোরে পৌঁছে মিসবাহ-উল হক দুই ফরম্যাটের পারফরম্যান্সেই নিজের হতাশা প্রকাশ করলেন। সঙ্গে বলে দিলেন, এই ধরনের পারফরম্যান্স দল হিসেবে পাকিস্তানের জন্য সত্যিই আশঙ্কাজনক। দক্ষিণ আফ্রিকায় সদ্য সমাপ্ত সফরে মোট ৯টি আন্তর্জাতিক ম্যাচের মধ্যে পাকিস্তান জিততে পেরেছে মোটে ৩টি ম্যাচ। সেই ৩টি জয়ের মধ্যে একটি এসেছে মোহাম্মদ হাফিজের নেতৃত্বে টি-টোয়েন্টিতে। ওয়ানডে সিরিজে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়তে পারলেও টেস্ট সিরিজে মিসবাহর দলকে ৩-০ তে হোয়াইটওয়াশ হতে হয়েছে। বোঝাই যাচ্ছে অধিনায়ক হিসেবে মিসবাহকে এই সফরে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখেই পড়তে হয়েছে এই সিরিজে। লাহোর বিমানবন্দরে মিসবাহকে লাগছিলো ক্লান্ত-শ্রান্ত। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘হতাশাজনক একটা সিরিজ। ওয়ানডেতে আমাদের পারফরম্যান্স কিছুটা হলেও ভাল ছিল। কিন্তুু টেস্ট সিরিজে আমরা কিছুই করতে পারিনি। এটা আমাদের জন্য খুবই চিন্তার একটা বিষয় এবং আমাদের কিছু বিষয়ে দ্রুত উন্নতি করতে হবে।’ তাছাড়া ফাস্ট বোলিংয়ের বিরুদ্ধে দলের দুর্বলতাও ছিল চোখে পড়ার মতো। টেস্ট সিরিজে ডেল স্টেইন (২০) এবং ভার্নন ফিলান্ডার (১৫) বলতে গেলে গুঁড়িয়েই দিয়েছেন পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইন আপকে। এর মধ্যে কেবল ব্যতিক্রম ছিলেন ইউনিস খান এবং আসাদ শফিক। তবে তাদের দ্বিশতক রানের জুটিও কেপ টাউনে দলের চার উইকেটে হার রুখতে পারেনি। সতীর্থদের এই ছন্নছাড়া পারফরম্যান্সের ভিড়ে মিসবাহ নিজেও বলার মতো কিছু করতে পারেননি। দলের ব্যাটিংকেই সিরিজের এমন ফলের জন্য অনেকাংশে দায়ী করে মিসবাহ বলেন,‘যদি আমাদের ব্যাটিংয়ের দিকে তাকাই তাহলে দেখা যাবে, পুরো সিরিজ জুড়েই আমাদের রানের জন্য সংগ্রাম করতে হয়েছে। সেটা টেস্ট হোক আর ওয়ানডে সিরিজ হোক।’ সিরিজ নির্ধারক শেষ ওয়ানডেতেও পাকিস্তানকে সিরিজ হেরে বাজে ব্যাটিংয়ের খেসারত দিতে হয়েছে। তবে বাজে ব্যাটিংয়ের জন্য কিছুটা দায় উইকেটের থাকলেও সেটিকে ঢাল বানাতে চাইলেন না ৩৯ বছর বয়সী এই খেলোয়াড়, শেষ ওয়ানডেতে আমরা অন্তত ৪০-৫০ রান কম করেছি। হ্যাঁ, উইকেটের কারণে সেখানে (হাশিম) আমলার মতো ব্যাটসম্যানকেও রানের জন্য ধুঁকতে হয়েছে। কিন্তু আমাদের বিপদটা উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আমরাই ঘটিয়েছি।’ তবে তার সঙ্গে হাফিজের বিরোধের বিষয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম যা বলেছে তা ভিত্তিহীন দাবি করে মিসবাহ বলেন,‘এটা একেবারেই মিথ্যা কথা। এ ধরনের কিছুই ঘটেনি এবং দলের বাজে ফলের জন্য এ ধরনের কিছু দায়ী নয়। আমার মনে হয় আমাদের মেনে নেয়া উচিত মাঠে তারা (দক্ষিণ আফ্রিকা) ছিল ভাল দল এবং তারা যোগ্য দল হিসেবেই জিতেছে। আমাদের যে রকমটা করার ছিল সেটা আমরা করতে পারিনি।’ দলের এমন পারফরম্যান্সে কারণ হিসেবে অনেক সমালোচক বলছেন, খেলোয়াড়দের বয়সের ব্যাপারটাও। পাকিস্তান ওয়ানডে দলের গড় বয়স ত্রিশের বেশী। তাছাড়া আগামী জুন মাসেই চ্যাম্পিয়নস ট্রফি খেলতে ইংল্যান্ড যাচ্ছে পাকিস্তান। যেখানে তাদের খেলতে হবে ভারত, ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং দক্ষিণ আফ্রিকার সাথে একই গ্রুপে। সুতরাং এই ব্যাপারটা বিবেচনা করেই পাকিস্তানের ভবিষ্যতের দল নির্ধারণ করা উচিত বলে মনে করছেন রশিদ লতিফ, মইন খান, ওয়াকার ইউনিসদের মতো সাবেকরা। তবে দল নির্বাচনের ব্যাপারটা একেবারেই নির্বাচকদের হাতে ছেড়ে দিয়ে মিসবাহ বলেন, ‘সবাই দেখেছে কে পারফর্ম করেছে। খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স মাপার জন্য একটি বোর্ড আছে। আছে নির্বাচক কমিটিও। আমার মনে হয় ভবিষ্যত্ সম্পর্কে তারা ভাবছে এবং খেলোয়াড় হয়ে আমরা আরেক খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করতে পারি না।’