স্বা ধী ন তা দি ব স ক্রি কে ট

মাঠ থেকে স্বাধিকার আন্দোলনে

আপডেট : ২৬ মার্চ ২০১৩, ২১:৫৬
উত্তাল ৭১; ২৬ ফেব্রুয়ারি। ঢাকার মাঠে পাকিস্তান দলের একমাত্র বাঙালি হিসেবে খেলতে নামলেন রকিবুল হাসান। ১ মার্চ জাতীয় সভা ভেঙে দিলো পাকিস্তানের সামরিক জান্তা জেনারেল ইয়াহিয়া। গোটা দেশের সেই তালমাতাল পরিস্থিতি ছুঁয়ে যায় রকিবুল হাসানকে। ভেতরে জ্বলতে থাকা আগুনকে তিনি বের করে আনলেন ক্রিকেট মাঠে। আন-অফিসিয়াল টেস্ট ম্যাচে পঞ্চম দিনে ব্যাট হাতে যখন নামলেন তখন তার ব্যাটে শোভা পাচ্ছিল ‘জয় বাংলা’ লেখা একটি স্টিকার। তারপর যা হয়েছে সব ইতিহাস। নয় মাসের মহান মুক্তিযুদ্ধে লাখো প্রাণের বিনিময়ে স্বাধীনতা পেয়েছে বাংলাদেশ। সেই রকিবুলদের উত্তরসূরিরা এখন সত্যিকারের টেস্ট ক্রিকেট খেলেন। সেদিনকার মাঠের সেই বিদ্রোহী তরুণ ক্রিকেটার রকিবুল হাসান এখন আন্তর্জাতিক ম্যাচ রেফারি। কিন্তু বিয়াল্লিশ বছর পর আরেকটি স্বাধীনতা দিবসে ক্রিকেট মাঠের পাশে বসে যেন সেই একাত্তরের উত্তাল দিনগুলোতেই ফিরে গেলেন রকিবুল হাসান। একই ঘটনা ঘটলো সাবেক কোচ ওসমান খানের ক্ষেত্রেও। তিনিও কাল বারবার ফিরে গেলেন একাত্তরের সেই মার্চ মাসে, ‘তখন আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স দ্বিতীয় বষের ছাত্র। দেশের আন্দোলনে আমরা চুপচাপ বসে থাকার লোক নই। মাঠেই খেলোয়াড়রা বিদ্রোহ ঘোষণা করে বসলো। মাঠ থেকেই শুরু হল আমাদের আন্দোলনের যাত্রা।’ যুদ্ধ শেষে শুধু এই দু’জনই নন; বাংলাদেশের সে সময়ের ক্রিকেটাররা সবাই নামলেন নতুন এক যুদ্ধের ময়দানে। শুরু হল বাংলাদেশ ক্রিকেটের নতুন পথ চলা। ১৯৭৬ সালে আইসিসি’র সহযোগী দেশের সদস্যপদ পেল বাংলাদেশ। সে সময়ের কথা বলতে গিয়ে ওসমান খান বলেন, ‘এখন বাংলাদেশ বিশ্বের নামিদামি সব ক্রিকেট দলকে হারাচ্ছে। তবে সেই সময়ে বসে আমরা এতো দূরে যাওয়ার স্বপ্ন দেখতাম না। আমাদের ভাবনা ছিল আইসিসি ট্রফি নিয়ে। ১৯৮৪ সালে একবার ইংল্যান্ডের লর্ডস স্টেডিয়ামে গিয়ে আইসিসি ট্রফি দেখে স্বপ্নটা আরো উজ্জ্বল হয়ে উঠে। এরপর মহিন্দর অমরনাথ ও গর্ডন গ্রিনিজের সহকারী হিসেবে কাজ করেছি। আজকের (গতকাল) ম্যাচে যারা খেলছে তাদের মোটামুটি ৯৫ ভাগ খেলোয়াড় কোন না কোন সময় আমার অধীনে খেলেছে।’ রকিবুল হাসানও বললেন, খেলোয়াড়-কর্মকর্তা হিসেবে স্বাধীনতার পর নিজেদের লড়াইয়ের কথা, ‘আমি পাকিস্তান আমলে সর্বোচ্চ পর্যায়ের ক্রিকেট খেলেছি। যোগ্যতা ছিল বলেই পাকিস্তান জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পেয়েছিলাম। আমি জানতাম, আজ হোক আর কাল হোক আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের ক্রিকেট এগিয়ে যাবে। আর অন্যান্য খেলার চেয়ে ক্রিকেটে এগিয়ে যাওয়াটা সহজ। আমার সৌভাগ্য এবং উপরওয়ালার ইচ্ছায় বেঁচে থাকা অবস্থাতেই ক্রিকেটের সুদিন দেখতে পারছি।’