মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত, গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখা, জঙ্গিবাদ-মৌলবাদ-ক্ষুধা-দারিদ্র্য ও যুদ্ধাপরাধীমুক্ত অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে গতকাল মঙ্গলবার বাঙালি জাতি পালন করলো মহান স্বাধীনতার ৪২ বছর পূর্তি ও জাতীয় দিবস। শ্রদ্ধাবনত জাতি ফুলে ফুলে ভরে দেয় জাতীয় স্মৃতিসৌধ, ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি এবং টুঙ্গিপাড়ার বঙ্গবন্ধুর মাজারের বেদিমূল। আনন্দ, বেদনা ও বিনম্র শ্রদ্ধায় জাতি স্মরণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধের লাখো শহীদকে।
গতকাল প্রত্যুষে তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দর এলাকায় সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে সূচনা হয় স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানমালার। ভোর ৫টা ৫৭ মিনিটে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে বীর শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সশস্ত্র বাহিনীর একটি সুসজ্জিত চৌকস দল এ সময় গার্ড অব অনার প্রদান করে। সকাল ৭টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়কে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এবারের স্বাধীনতা দিবসে সারাদেশেই নতুন প্রজন্মের অভূতপূর্ব জাগরণ এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। রাস্তায় বের হওয়া মানুষের হাতে বা কপালে ছিল ‘যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি চাই’ লেখা সংবলিত কাপড়, শিশু-কিশোরদের হাতে, কারও গালে বা কপালে আঁকা ছিল জাতীয় পতাকা, প্রিয় মাতৃভূমির মানচিত্র। তরুণ প্রজন্মের ছেলেদের গায়ে জাতীয় পতাকাসদৃশ শর্টপাঞ্জাবি বা গেঞ্জি এবং মেয়েরা পরনে লাল-সবুজের মিশ্রণে জাতীয় পতাকার মতো শাড়ি পরে এবারের স্বাধীনতা দিবসের উত্সবে অংশ নেয়। শহর-বন্দর, পথে-প্রান্তরে দিনভর বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণা সংবলিত ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ বেজেছে গতকাল।
স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিশু-কিশোরদের কুচকাওয়াজে সালাম গ্রহণ করেন। মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জেনে নিজেদের সুনাগরিক হিসাবে গড়ে তুলতে শিশু-কিশোরদের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। জাতির পিতার দেয়া সংবিধান সমুন্নত রাখারও আহ্বান জানান তিনি। বেলা সাড়ে ১১টায় গণভবনে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ১০ টাকা মূল্যমানের একটি স্মারক ডাক টিকিট, ১০ টাকা মূল্যমানের একটি উদ্বোধনী খাম ও ৫ টাকা মূল্যমানের একটি ডাটা কার্ড অবমুক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে গতকাল ছিল সরকারি ছুটি। স্বাধীনতা দিবসের তাত্পর্য তুলে ধরে বেতার, টেলিভিশনে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করা হয়। সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করে। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন ভবনে, বাড়িঘর, যানবাহন ও দোকানে উড়েছে জাতীয় পতাকা। সরকারি গুরুত্বপূর্ণ ভবনগুলোতে আলোকসজ্জা করা হয়। সারাদেশে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ মসজিদে বিশেষ মোনাজাতে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত, দেশের শান্তি ও অগ্রগতি কামনা করা হয়। মন্দির, গির্জা, প্যাগোডাতেও অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ প্রার্থনা সভা।
বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন-প্রতিষ্ঠান আনন্দ শোভাযাত্রা, আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক আলোকচিত্র প্রদর্শনী, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতাসহ নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মহান স্বাধীনতা দিবস পালন করে।
আওয়ামী লীগের একটি কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় গিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন শেষে মোনাজাত করে।
সশস্ত্র বাহিনীও যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালন করে। সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সকল মসজিদে বিশেষ মোনাজাত, সশস্ত্র বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ভবনসমূহে আলোকসজ্জা, ঢাকার বিভিন্ন স্থানে যন্ত্রসঙ্গীত পরিবেশন, নৌবাহিনীর জাহাজ জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়।
স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজধানীর মোহাম্মদপুরে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পুনর্বাসন কেন্দ্রে অবস্থানরত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য মিষ্টি, ফুল ও ফুলের তোড়া পাঠান।
জাতীয় স্মৃতিসৌধে লাখো মানুষের ঢল
সাভার থেকে আমাদের স্টাফ রিপোর্টার তুহিন খান জানান, গতকাল ভোর থেকেই মানুষের ঢল নামে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে। হাতে হাতে রঙ বেরঙের ফুল আর লাল সবুজের পতাকা। সবার একটাই দাবি—যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ সাজা।
ফুলে ফুলে ভরে ওঠে স্মৃতিসৌধের বেদিমূল। বাবার কোলে চড়ে ছোট্ট শিশুটি থেকে শুরু করে বয়স্ক ব্যক্তিবর্গ অথবা স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে না পারা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা হুইল চেয়ারে করে উপস্থিত হয়েছিলেন স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে। বাদ যাননি যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা বা সাত বীর শ্রেষ্ঠের পরিবারের সদস্যরাও। স্মৃতিসৌধকে ঘিরে গোটা সাভার-নবীনগর এলকায় ছড়িয়ে পড়ে উত্সবের আমেজ।
ভোর ৫টা ৫০ মিনিটে জাতীয় স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ৫টা ৫৩ মিনিটে আসেন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ। প্রধানমন্ত্রী স্মৃতিসৌধে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতিকে অভ্যর্থনা জানান। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে জীবন উত্সর্গকারী অগণিত শহীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ৫টা ৫৭ মিনিটে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। একই সময় প্রধানমন্ত্রীও পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন। পরে আওয়ামী লীগের পক্ষে দলের সভানেত্রী হিসেবে শেখ হাসিনা বেদিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন। তিন বাহিনীর সুসজ্জিত একটি চৌকস দল তাদের গার্ড অব অনার প্রদান করে। এ সময় বিউগলে বেজে ওঠে করুণ সুর। পরে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি স্মৃতিসৌধের পরিদর্শন বইতে স্বাক্ষর করেন। প্রায় ১৫ মিনিট প্রধানমন্ত্রী ও অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে অবস্থান করেন।
অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি স্মৃতিসৌধে পুষ্পমাল্য অর্পণ করার পর উপস্থিত সকলের সঙ্গে করমর্দন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিসভার সদস্যবর্গ, কূটনীতিক, তিন বাহিনীর প্রধান, মুক্তিযোদ্ধা এবং পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা। রাষ্ট্রপতির পর সংসদের ডেপুটি স্পিকার, সংসদ উপনেতা, নয়জন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এবং সাত বীরশ্রেষ্ঠের পরিবারের সদস্যরা স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন।
অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ এবং কূটনীতিকরা চলে যাওয়ার পর সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয় স্মৃতিসৌধ।
বিরোধীদলীয় নেত্রীর শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন
বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যবৃন্দ ও দলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ সকাল ৮ টা ২৩ মিনিটে শহীদদের স্মরণে স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমানসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
এর আগে সকাল ৮টার দিকে জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রধান এইচ এম এরশাদ স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। তার সঙ্গে দলের মহাসচিব রুহুল আমীন হাওলাদারসহ অন্য কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় পার্টি (জেপি)-এর শ্রদ্ধাঞ্জলি
মহান স্বাধীনতা দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের লক্ষ্যে জাতীয় পার্টির (জেপি) কর্তৃক গৃহীত কর্মসূচি অনুযায়ী গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৬টায় দলের কেন্দ্রীয় ও দেশের সকল দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। সকাল সাড়ে ৮টায় সাভারে জাতীয় স্মৃতি সৌধে দলের পক্ষ থেকেপুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয়। এ সময় জেপির নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দলের অতিরিক্ত মহাসচিব সাদেক সিদ্দিকী, প্রেসিডিয়াম সদস্য এজাজ আহমেদ মুক্তা, যুগ্ম মহাসচিব জামিলুল হক বকুল, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল খায়ের সিদ্দিকী আবু, দপ্তর সম্পাদক এম. সালাহ উদ্দিন আহমেদ, শিক্ষা ও ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক এনামুল ইসলাম রুবেল, জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক পার্টির সদস্য সচিব আমিনুল ইসলাম তপন, জাতীয় যুব সংহতির সহ-সভাপতি জেড সেলিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী চৌধুরী মিলন, ছাত্রনেতা জীবন কৃষ্ণ বৈরাগী প্রমুখ।
এরপর মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের নেতৃত্বে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বে বিকল্পধারা বাংলাদেশ, উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকীর নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, এ কে খন্দকার, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ, সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম মুক্তিযুদ্ধ ৭১, জাসদ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) ওয়ার্কার্স পার্টি, বাসদ, সাম্যবাদী দল, গণতন্ত্রী পার্টি, গণফোরাম, যুবলীগ, যুবদল, যুব ইউনিয়ন, ছাত্রলীগ, ছাত্রদল, জাসদ ছাত্রলীগ, ছাত্র ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট, কৃষক লীগ, কৃষক দল, কৃষক সমিতি, ক্ষেত মজুর সমিতি, ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি, বঙ্গবন্ধু সংসদ, জাসাস, ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র, মহিলা পরিষদ, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানায় শহীদদের প্রতি।
দিবসটি উপলক্ষে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে দু’শতাধিক তোরণ নির্মাণ করে। মহাসড়কের মধ্যবর্তী আইল্যান্ডে শোভা পায় নিজ নিজ দলের নেতা-নেত্রীর বড় বড় ছবি সম্বলিত নানান ধরনের ব্যানার ও ফেস্টুন।
স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর বাদকদল ক্রিসেন্ট লেক (সংসদ ভবন এলাকা), ফার্মগেটস্থ পার্ক এলাকায় এবং মিরপুরস্থ শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে গতকাল বিকাল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত বাদ্য পরিবেশন করে। নৌবাহিনীর কয়েকটি জাহাজ সর্বসাধারণের পরিদর্শনের জন্য ঢাকার সদরঘাট, নারায়ণগঞ্জ পাগলা, চট্টগ্রাম, খুলনা ও মংলা বন্দর, বরিশালের বিআইডব্লিউটিএ ঘাটে বেলা ২টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত উন্মুক্ত থাকে।
বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণ জনারণ্য
ধানমন্ডির ৩২ নম্বর ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণ গতকাল ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ছিল জনারণ্য। অগুনতি মানুষ শ্রদ্ধা জানান জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। দেশাত্মবোধক গান, স্লোগান আর মিছিলে মিছিলে বঙ্গবন্ধুর বাসভবন প্রাঙ্গণ দিনভর ছিল মুখরিত। হাজার হাজার মানুষ বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর ঘুরে ঘুরে দেখেন।
জাতীয় স্মৃতিসৌধের কর্মসূচি শেষ করে প্রধানমন্ত্রী ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। পরে প্রধানমন্ত্রী দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে দলীয় সভানেত্রী হিসেবে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন।
এ সময় সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী সাহারা খাতুন, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, উপ-দফতর সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাসসহ আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ, মন্ত্রিসভার সদস্যবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু ভবন এলাকা ত্যাগ করার পর সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয় ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়ক। বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন মেজর জেনারেল (অব.) হেলাল মোর্শেদের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধারা, মহানগর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, শ্রমিক লীগ, কৃষক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশনসহ বিভিন্ন দল ও সংগঠন এবং সর্বস্তরের মানুষ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে।
বিজিবিতে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন
বিজিবি’র সকল ইউনিটে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন করা হয়েছে। সকাল ৯টায় বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ, ঢাকায় কর্মরত বিজিবি’র সকল কর্মকর্তা, বিজিবিতে কর্মরত সকল মুক্তিযোদ্ধা, জেসিও এবং অন্যান্য পদবীর সৈনিকবৃন্দের অংশগ্রহণে ঢাকার পিলখানাস্থ স্মৃতিসৌধ ‘‘সীমান্ত গৌরব’’- এ পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। দুপুরে বিজিবি’র অডিটরিয়ামসমূহে বিজিবি সদস্য ও তাদের পরিবারবর্গ এবং বিজিবি স্কুল ও কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শন, বিজিবি’র সকল ইউনিটে ‘‘স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এবং দেশ গঠনে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ’’ বিষয়ের উপর রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন এবং সন্ধ্যার পর পিলখানাস্থ গুরুত্বপূর্ণ অফিস ভবন ও গেইটসমূহে আলোকসজ্জা করা হয়।
