হরতার সফল করতে মহান স্বাধীনতা দিবসে গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীতে যানবাহনে আগুন ও ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে হরতাল সমর্থকরা। বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দল আজ বুধবার সকাল থেকে একটানা ৩৬ ঘণ্টার হরতাল কর্মসূচি পালন করছে।
গতকাল মঙ্গলবার সকালে মগবাজারে জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। অগ্নিসংযোগ, ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ২০ জনকে গ্রেফতার করেছে। সকাল থেকেই যানবাহনে অগ্নিসংযোগ শুরু করে হরতাল সমর্থকরা। রাজধানীতে এরআগে গত ১৮ ও ১৯ তারিখে টানা ৩৬ ঘণ্টা হরতালের আগের দিন হরতাল সমর্থকরা আগুনে পুড়িয়েছে ২০টি যানবাহন।
গতকাল সকাল ১১টার দিকে সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ে পুলিশ বক্সের সামনে সুমাইয়া পরিবহনের একটি যাত্রী বাসে আগুন দেয় কে বা কারা। বাসটি আজিমপুর থেকে গাজীপুর যাচ্ছিল। যাত্রীরা দ্রুত নেমে যাওয়ায় কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ফায়ার ব্রিগেড কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিভিয়ে ফেলে। পুলিশ জানিয়েছে, দুর্বৃত্তরা যাত্রীবেশে গাড়িতে উঠে পেট্রোল ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দ্রুত নেমে যায়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ কাউকে শনাক্ত ও গ্রেফতার করতে পারেনি।
পুরনো ঢাকার বাংলাবাজারে বিকাল তিনটার দিকে পার্ককরা একটি লেগুনায় আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। কোতোয়ালী থানার ওসি আবুবক্কর ছিদ্দিকী জানিয়েছেন, দুর্বৃত্তরা আগুন লাগিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। একইভাবে বিকাল পৌঁনে চারটার দিকে সেগুনবাগিচা চিটাগাং হোটেলের সামনে পার্ককরা একটি প্রাইভেটকারে আগুন লাগানো হয়। আশেপাশের লোকজন দ্রুত আগুন নিভিয়ে ফেলে। নিউমার্কেট থানা পুলিশ জানিয়েছে, বিকাল পৌনে তিনটার দিকে নিউমার্কেট ১ নম্বর গেটের সামনে ট্যাক্সিক্যাব চালক যাত্রী নামিয়ে নতুন যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এসময় দুর্বৃত্তরা পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। ট্যাক্সিক্যাব সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। দুপুর পৌনে দুইটার দিকে ফার্মগেট খামারবাড়ী এলাকায় সিগন্যালে আটকেপড়া একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেয় কে বা করা। এসময় প্রাণভয়ে গাড়ি থেকে নামতে গিয়ে বেশ কয়েকজন যাত্রী আহত হন। ফায়ার ব্রিগেড আগুন নিভিয়ে ফেলে। তেজগাঁও থানা পুলিশ জানিয়েছে, দুর্বৃত্তরা ছিল যাত্রীবেশে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।
বিকালের দিকে কলাবাগান এলাকায় কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। বিকালে রামপুরা বনশ্রী এলাকায় হরতালের সমর্থনে মািছিল বের হয়। মিছিলকারীরা পরপর তিনটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটনায়, পুলিশের ধাওয়ার মুখে পালিয়ে যায়। পৌনে ছয়টার দিকে মিরপুর-১ নম্বর সেকশনের ‘মুক্তবাংলা শপিং কমপ্লেক্সে’র সামনে ও কমপ্লেক্সের বিপরীত পাশে পার্ককরা দুইটি বাসে আগুন দেয়া হয়। ফায়ার ব্রিগেড আগুন নিভিয়ে ফেলে। আগুন দিয়ে পালাবার সময় জনতা একজনকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করেছে। বিকাল সোয়া তিনটার দিকে ফার্মগেট ওভারব্রিজের নিচে একটি বাসে আগুন দেয়ার চেষ্টা কালে পুলিশ চারজনকে গ্রেফতার করে। মহানগর পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেন, মহান স্বাধীনতা দিবসে গাড়িতে অগ্নিসংযোগ জামায়াতের পক্ষেই সম্ভব। তারাই এ ঘটনার জন্য দায়ী। তাদের কাছে তো স্বাধীনতা দিবসের কোন গুরুত্ব নেই। তবে নগরীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তত্পর রয়েছে।
সকাল পৌনে দশটার দিকে ছাত্রশিবিরের ৩০/৩৫ কর্মী মগবাজার এলাকায় একটি মিছিল বের করার চেষ্টা করে। এসময় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ হয। পুলিশ ঘটনাস্থলে ৭ জনকে গ্রেফতার করে। ইসলামি ছাত্রশিবিরের দাবী, পুলিশকে তারা কোন ধরনের উস্কানি দেয়নি। বিনা উস্কানিতে পুলিশ তাদের মিছিলে গুলি ছোঁড়ে। এতে ২১ জন কর্মী আহত হয়েছে। নয় জনের অবস্থা আশংকাজনক। কিন্তু কোথায় তাদের ভর্তি করা হয়েছে এ ব্যাপারে কিছু জানানো হয়নি। রমনা থানার ওসি শাহ আলম বলেন, শিবির একটি ঝটিকা মিছিল বের করে। বাধা দিলে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। এলাকায় একটা ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরিরও চেষ্টা করে। তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ার সেল ও রাবার বুলেট ছোঁড়ে। কেউ আহত হয়েছে কীনা জানা যায়নি। গতকাল সন্ধ্যায় মহাখালী এলাকায় মিছিল বের করার সময় পুলিশ ছাত্রশিবিরের ৭ কর্মীকে গ্রেফতার করে।
