অগ্নিদগ্ধ সন্তানের মৃত্যুর খবর জেনে মারা গেলেন মা জোছনা বেগম (২৯)। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে (ঢামেক) চিকিত্সাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকালে তার মৃত্যু হয়।
রাজধানীর কাফরুল থানার মিরপুর ১৩ নম্বর সেকশনের সি-ব্লকের ৬ নম্বর রোডের ২২ নম্বর বাসায় সপরিবারে থাকতেন মোতাহার। ফুটপাতে কাপড় বিক্রি করে চলতো চার সদস্যের সংসার। গত ২১ মার্চ রাতে ঘরে শর্ট সার্কিটের কারণে টেলিভিশন সেটে আগুন লেগে বিস্ফোরণ হয়। এ সময় ঘুমিয়ে থাকা পরিবারের ৪ সদস্যের সবাই অগ্নিদগ্ধ হন। এর মধ্যে স্বামী মোতাহার, স্ত্রী জোছনা বেগম, দেড় বছরের ছেলে মারুফ, মেয়ে বৃষ্টি (১১) অগ্নিদগ্ধ হন। আহতাবস্থায় প্রতিবেশীরা তাদের উদ্ধার করে ঢামেকের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করেন।
ঐ দিন ভোরেই শিশু মারুফের মৃত্যু হয়। এরপর চিকিত্সাধীন অবস্থায় সোমবার রাতে মৃত্যু হয় বৃষ্টির। মঙ্গলবার সকালে মেয়ের মৃত্যু সংবাদ জেনে চিকিত্সাধীন মা জোছনা বেগমও মারা গেলেন। বাকি রইলেন মোতাহার। তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিত্সকরা।
ঢামেক প্লাস্টিক সার্জারি ও বার্ন ইউনিটের প্রকল্প পরিচালক ডা. সামন্ত লাল সেন জানান, চিকিত্সাধীন মোতাহারের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তার শরীরের ৭৫ ভাগ আগুনে পুড়ে গেছে।
প্রতিবেশী সুলতান জানান, ঘটনার পর থেকে তাদের হাসপাতালে নেয়া থেকে শুরু করে চিকিত্সাসহ সব রকমের সহযোগিতা করছেন তিনিই। মোতাহার আলীর গ্রামের বাড়ি বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ থানার নুরুল্লাপুর গ্রামে। দুই ছেলে এক মেয়ের মধ্যে বড় ছেলে রাব্বি নানা বাড়ি গোপালগঞ্জে থাকে। মঙ্গলবার মা ও মেয়ের মরদেহ দাফনের জন্য গোপালগঞ্জে নিয়ে গেছেন স্বজনরা। এবিষয়ে কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী ওয়াজেদ আলী জানান, ২১ মার্চ ঘটনার পর তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। টেলিভিশন সেট বিস্ফোরণ ঘটনা কি শুধু শর্ট সার্কিটের কারণেই নাকি অন্য কোনো কারণে তা খতিয়ে দেখ?া হচ্ছে।
