ফুলবাড়িতে সড়ক পরিণত বাস টার্মিনালে

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০১৩, ২১:৩২
দিনাজপুরের ফুলবাড়িতে বাস-মাইক্রোবাস-কোচ-টেম্পো রাখার নির্দিষ্ট জায়গা না থাকায় ব্যস্ততম সড়কের ওপর এলোমেলোভাবে খেয়ালখুশি মতো রাখা হচ্ছে এসব যানবাহন। এতে করে দিনের বেশিরভাগ সময়ই তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। যানজটের কারণে প্রতিনিয়ত পথচারীদের অসহনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়তে হচ্ছে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের। শহরের ব্যস্ততম এলাকার সড়কের ওপর গাড়িগুলো দাঁড় করিয়ে রেখে যাত্রীসহ মালামাল ওঠানামা করা হয়। অবকাশ সিনেমা হলের সামনে, মাদিলা সড়ক (বটতলা) মোড়, ফুলবাড়ি সেতু’র পূর্বপার্শ্বে, উর্বশী সিনেমা হলের সামনে, বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি সড়ক, নিমতলা মোড়, সোনালী ব্যাংকের সামনে, ঢাকা মোড়, রংপুর সড়ক ও রেলগুমটি এলাকার সড়কগুলো যাত্রীবাহী বাসগুলোর স্ট্যান্ড। এছাড়া দূরপাল্ল¬ার যাত্রীবাহী কোচগুলো উর্বশী সিনেমা হলের সামনে সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা করে থাকে। এদিকে শহরের প্রধান সড়কের দু’পার্শ্বে পৃথক চারটি ট্রাক বন্দোবস্তকারী শ্রমিকদের অফিস। ট্রাকগুলো ঐসব অফিসের সামনে মহাসড়কের ওপর এলোমেলোভাবে দাঁড়িয়ে থাকে। মহাসড়কের দু’পার্শ্বে ট্রাক ও ট্যাঙ্কলরী দাঁড়িয়ে থাকার কারণে মহাসড়কের প্রশস্ততা একেবারেই সংকুচিত হয়ে পড়ছে। এতে করে প্রতিনিয়ত ছোটবড় দুর্ঘটনা এখন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফুলবাড়ি সেতুর পূর্বপ্রান্তে উর্বশী সিনেমা হলের সামনের সড়কটি রিকশা-ভ্যান চলাচলের জন্য বিকল্প সড়ক রাখা হলেও ঐ সড়কটি ভাড়ায় চালিত মাইক্রোবাস ও কার চালকরা দখলে নিয়ে মাইক্রোবাস-কার স্ট্যান্ড গড়ে তুলেছে। সরকারি কলেজ গেটের পার্শ্বের মাদিলা সড়কের ওপর গড়ে তোলা হয়েছে টেম্পো ও নছিমন-করিমন ভটভটি স্ট্যান্ড। ফলে এ সড়ক দিয়ে চলাচলকারী স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীদের অসহনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ঢাকা মোড়ে জিএম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনের সড়কের ওপর টেম্পো, নছিমন-করিমন ভটভটি, রিকশা-ভ্যান স্ট্যান্ড গড়ে তুলেছে শ্রমিকরা। পথচারী তো দূরের কথা খোদ বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের বিদ্যালয় গেটে ঢুকতে গিয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। ফুলবাড়ি শাখা দিনাজপুর মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মহসীন আলী সরকার বলেন, স্থায়ী টার্মিনাল না থাকার কারণে যাত্রীবাহী বাসগুলো সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা করাতে বাধ্য হচ্ছে। পৌরসভার মেয়র মুরতুজা সরকার মানিক বলেন, বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি, তাপবিদ্যুত্ কেন্দ্র, মধ্যপাড়া কঠিন শিলাখনি এবং ব্যবসা-বাণিজ্য সবদিক থেকে ফুলবাড়ির গুরত্ব অনেক বেড়ে গেছে। টার্মিনাল নির্মাণের জন্য প্রতিবছর পৌরসভার বাজেটের মাধ্যমে সরকারকে অবহিত করা হয়। কিন্তু প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ মিলছে না বলেই টার্মিনাল নির্মাণ করা যাচ্ছে না।