ক্যান্ডি শহরটা আর যাই হোক হাম্বানটোটার মতো জনবিরল নয়। পাহাড়ী শহর ক্যান্ডি উপকূলীয় শহর হাম্বানটোটার তুলনায় শীতলও বটে। তবে এসব কারণ নয়; বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের এই শহরে এসে বেশি স্বস্তি পাওয়ার কথা পরিচিত শহরে ফিরেছেন বলে। ক্যান্ডির সঙ্গে বাংলাদেশের পরিচয় অনেককালের। সর্বশেষ গত বছরও এই শহরে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ‘গ্রুপ অব ডেথ’-এ খেলে গেছেন ক্রিকেটাররা।
কিন্তু মুশকিলটা হল, ক্যান্ডির সঙ্গে, পাল্লেকেলে আন্তর্জাতিক, স্টেডিয়ামের সঙ্গে এইসব পরিচয়ই আবার বাংলাদেশকে রেখেছে একটু অস্বস্তির ভেতরে। কারণ নিজেদের অভিজ্ঞতা থেকেই তারা জানেন, এই স্টেডিয়ামে তাদের স্বাগত জানাতে অপেক্ষা করতে বাংলাদেশের একেবারেই অপছন্দের পেস-সহায়ক উইকেট!
কোনো ব্যতিক্রমী ঘটনা না ঘটলে এই পেস-বান্ধব উইকেটেই আজ সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলতে হবে স্পিন-নির্ভর বাংলাদেশকে।
নিজেদের শক্তি ও ভেন্যুর এই বৈপরীত্য বাংলাদেশের ক্রিকেটাররাই ভালোই বুঝতে পারছেন। এই উইকেটে শ্রীলঙ্কাকে কাবু করার মতো পেস বোলার বাংলাদেশের ঝুলিতে নেই, এই উইকেট কাজে লাগিয়েও ব্যাটসম্যানদের বিপদে ফেলার মতো স্পিনার সাকিব আল হাসান দলে নেই; এসব ভালোই জানেন আব্দুর রাজ্জাক। তাকেই আজ হয়তো মূল চ্যালেঞ্জটা নিতে হবে।
রাজ্জাক অবশ্য কাল ম্যাচ-পূর্ববর্তী কথোপকথনে এই উইকেট আর বোলার সংকটটাকে খুব বড় করে দেখতে চাইলেন না। তিনি বলছেন, উইকেট যেমনই হোক নিজেদের পারফরম্যান্সটা করতে পারলে বাংলাদেশ ভালো কিছু আশা করতে পারে। পাল্লেকেলেতেও শ্রীলঙ্কাকে হারানোর মতো শক্তি এই ইনজুরি বিধ্বস্ত দলের আছে বলেই মনে করছেন তিনি।
রাজ্জাক সবসময়ই আশাবাদী মানুষ। তাই শ্রীলঙ্কাকে হারানোর ব্যাপারে সতীর্থদের অনুপ্রাণিত করার মতো কথাবার্তারও অভাব নেই তার ঝুলিতে। এই ম্যাচটা জেতা কেন জরুরী, সেটা বুঝিয়ে বললেন, ‘হ্যাঁ, আমরা আর সিরিজ জিততে পারবো না। কিন্তু শ্রীলঙ্কার সিরিজ জয়টা তো আটকাতে পারবো। এ কারণে হলেই আজ আমাদের ভালো খেলার বিকল্প নেই।’
ভালো খেলার যে বিকল্প নেই, এটা সবারই বোঝার কথা। এখন কথা হল, সেই ভালো খেলাটা হবে কি করে? বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা পুরো শ্রীলঙ্কা সফর ধরেই নিজেদের পারফরম্যান্স ধরে রেখেছেন। কিন্তু মুশকিল হল কিছুতেই বোলারদের কাছ থেকে সেই সহায়তাটা পাচ্ছে না বাংলাদেশ। কলম্বো টেস্টের কিছুটা সময় ছাড়া বাংলাদেশের বোলাররা কোনো আচড়ই কাটতে পারেননি।
আজ শেষ ম্যাচে জিততে তাই বোলিং বিভাগকেও জ্বলে উঠতে হবে; এই জানা কথাটা কাল বার বার বললেন কোচ শেন জার্গুনসেন। তিনি বোলারদের দিকেই ইঙ্গিত করে বললেন, ‘একটা বিভাগে ভালো করে ম্যাচ জেতা যাবে না। তিনটি বিভাগেই ভালো করতে হবে। বিশেষ করে পেস বোলারদের ভালো করতেই হবে।’
এখন সমস্যা হল, পেস বোলিংয়ে এই জ্বলে ওঠার কাজটা কে করবেন? মাশরাফি বিন মুর্তজার অনুপস্থিতি, নাজমুল হাসানের এসেই চলে যাওয়ায় দলে পেস বোলার আছেন তিন জন—আবুল হোসেন, রুবেল হোসেন ও শাহাদাত হোসেন। নিকট সামপ্রতিক পারফরম্যান্স দেখে কারো ওপর ভরসা করাটা কঠিন। তারপরও আজ হয়তো একমাত্র বিশেষজ্ঞ পেসার হিসেবে খেলবেন রুবেল। সঙ্গে অলরাউন্ডার জিয়াউর রহমান।
ফলে ঘুরেফিরে সেই স্পিনারদের ওপরই ভরসা করতে হচ্ছে। প্রধান স্পিনার হিসেবে রাজ্জাককেই সামলাতে হবে আক্রমণ। আরেক স্পিনার থাকবেন সোহাগ গাজী। এ ছাড়া মাহমুদউল্লাহ, মোমিনুল, আশরাফুল থেকে নাসির পর্যন্ত হাত ঘোরাতে পারবেন। আবার উইকেট চাইলে নাসির পেস বলও করবেন।
সব কথার শেষ কথা, এই জোড়াতালি দেয়া বোলিং চ্যালেঞ্জটা নিতে পারবে কি না!
