ব্যাপারটা আগেই নিশ্চিত ছিল। মঙ্গলবার সেই আনুষ্ঠানিকভাবে এশিয়া ফুটবল কনফেডারেশন্স (এএফসি) জানালো, আগামী বছরের এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপের মূলপর্বে খেলছে বাংলাদেশ। নিজেদের গ্রুপ থেকে সেরা দল হিসেবে বাছাইপর্ব পার হওয়ার সুযোগ হয়নি। তবে মূলপর্বে এবার যাচ্ছে তারা ‘সেরা দুই রানার্সআপ’ দলের একটি হয়ে।
এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপের বাছাইপর্বের নিয়ম অনুযায়ী পাঁচ গ্রুপের সেরা পাঁচ দল এবং সবমিলিয়ে সেরা দুই রানার্সআপ দল খেলবে মূলপর্বে; সঙ্গে যোগ হবে স্বাগতিক দেশ। বাংলাদেশ নিজের গ্রুপে রানার্সআপ হয়ে সেরা দুই রানার্সআপের তালিকায় নাম লেখানোর অপেক্ষায় ছিল।
কার্যত ২১ মার্চ ‘বি’ গ্রুপে পাকিস্তান ২-০ গোলে ম্যাকাওকে এবং কাজাখস্তান ১-০ গোলে তাজিকিস্তানকে হারানোয় বাংলাদেশ নিশ্চিত করেছিল মূলপর্ব। তখনই ৬ পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে সেরা রানার্সআপ ছিল বাংলাদেশ। এরপর ২৬ মার্চ মঙ্গলবার শেষ হল বাছাইপর্বের খেলা। ফিলিপাইন ১-০ গোলে তুর্কমেনিস্তানকে হারায় এবং নাম প্রত্যাহার করা ব্রুনাই দারুসসালামের বিপক্ষে ৩-০ গোলে জয়ী বলে ঘোষিত হয় কম্বোডিয়া। ফলে এই ‘ই’ গ্রুপ থেকে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে মূলপর্বে চলে গেছে ফিলিপাইন। আর ৬ পয়েন্ট নিয়ে +৯ গোল ব্যবধানে সেরা রানার্সআপ হিসেবে মূলপর্বে গেল তুর্কমেনিস্তান। এরপরও বাংলাদেশ দ্বিতীয় সেরা রানার্সআপ হিসেবে গেল মূলপর্বে।
ফলে সবমিলিয়ে এখন ২০১৪ সালে মালদ্বীপে অনুষ্ঠেয় এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপে আটটি দল হল—স্বাগতিক মালদ্বীপ, আফগানিস্তান, মিয়ানমার, ফিলিস্তিন, কিরগিজস্তান, ফিলিপাইন, তুর্কমেনিস্তান ও বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের মূলপর্বে যাওয়ার ভেতর দিয়ে হতাশায় পুড়তে হল ভারত ও তাজিকিস্তানকে। যার যার গ্রুপে বাংলাদেশের সমান ৬ পয়েন্ট নিয়ে রানার্সআপ ছিল তারা। কিন্তু গোল ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ায় বাংলাদেশের কাছে হার মানতে হয়েছে তাদের।
২১ মার্চ ‘বি’ গ্রুপের খেলা শেষেই বাংলাদেশের এই মূলপর্বে যাওয়াটা একরকম নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু গতকাল শেষ হওয়া ‘ই’ গ্রুপে তৈরি হওয়া জটিলতাই একটু শঙ্কায় রেখেছিল বাংলাদেশকে। এই গ্রুপ থেকে ব্রুনাই দারুসসালাম হঠাত্ করে তাদের খেলা শুরুর আগেরদিন নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে ফেলে।
তখন বাংলাদেশের সম্ভাবনা প্রথমত প্রায় শূন্য হয়ে গিয়েছিল। কারণ এএফসির আইন বলছে যে গ্রুপে সবচেয়ে কম খেলা হবে বাকি গ্রুপেও সেই পরিমাণ খেলা হিসেবে নেয়া হবে। ব্রুনাই না থাকায় ‘ই’ গ্রুপে খেলা হওয়ার কথা ২টি। ফলে বাংলাদেশের ১টি খেলা বাদ যাবে। আর আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী গ্রুপের দুর্বলতম দলের বিপক্ষে ফলই বাদ যাওয়ার কথা।
এরকম হিসেবে বাংলাদেশকে টপকে মূলপর্বে চলে যেত ভারত। কিন্তু ব্রুনাই যথোপযুক্ত সময়ে নাম প্রত্যাহার না করায় এএফসি তাদের টুর্নামেন্টের হিসেব থেকে বাদ দেয়নি। বরং তাদের বিপক্ষে গ্রুপের বাকি দলগুলোকে ৩-০ গোলে জয়ী ঘোষণা করে। ফলে বাংলাদেশ যথানিয়মেই মূলপর্বে চলে গেল।
এই নিয়ে তিনবার এই এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপের মূলপর্বে খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ২০০৬ সালে শুরু হওয়া এই টুর্নামেন্টের প্রথম আসরে বাংলাদেশ কম্বোডিয়াকে হারিয়ে ও প্রবল শক্তিধর ফিলিস্তিনের বিপক্ষে ড্র করে নকআউট পর্বে চলে গেয়েছিল। পরে ২০১০ সালে টুর্নামেন্টের তৃতীয় আসরে খেলা বাংলাদেশ গ্রুপপর্বে তাজিকিস্তানকে হারালেও নকআউট পর্বে যেতে পারেনি। এবার অপেক্ষা কতদূর যেতে পারে বাংলাদেশ।
