শেকৃবির ৪৯ শিক্ষক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০১৩, ২২:০৩
রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৯ জন শিক্ষক কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে চাকরিচূত ও পদাবনতিসহ বিভিন্ন ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট। যাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তারা সকলেই বিএনপি নেতৃত্বাধীন গত জোট সরকারের আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ ৫৯ তম সিন্ডিকেট এসব শিক্ষক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অনিয়ম এনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়। ভুয়া তথ্য ও সার্টিফিকেট দিয়ে চাকরি নেয়ার কারণে সহকারি রেজিস্ট্রার ইসমত জাহান কাদিরকে চাকরিচ্যূত করার নির্দেশ দেয় সিন্ডিকেট। এছাড়া ফিডার পদে অভিজ্ঞতা না থাকায় বিএনপি সমর্থিত এগ্রিকালচার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের নেতা খন্দকার সেলিম রেজা, চৌধুরী আবদুল্লাহ আল ফারুক ও আলমগীর হোসেনকে উপ-রেজিস্ট্রার থেকে সহকারি রেজিস্ট্রার হিসাবে পদাবনতির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। যদিও ভর্তি সংক্রান্ত অনিয়মের কারণে এর আগেই খন্দকার সেলিম রেজাকে চাকরিচূত এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে আলমগীর হোসেনকে ডেপুটি রেজিস্ট্রার থেকে সহকারি রেজিস্ট্রার পদে পদাবনতি দেয়া হয়। অভিজ্ঞতা না থাকা এবং এসএসসিতে তৃতীয় বিভাগ থাকায় উপ পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক শুকরিয়া কামালকে ৪ বছরের জন্য নিম্নপদে পদাবনতি করা এবং খন্দকার আসাদুজ্জামানকে সহকারি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক থেকে ২ বছরের পদাবনতির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। হর্টিকালচার বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. হুমায়ুন কবীর, সহকারী অধ্যাপক খালেদা খাতুন, কীটতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মিস. নূর মহল আক্তার বানু, এগ্রিকালচার এক্সটেনশন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো: আবুল বাশার, এগ্রো ফরেস্ট্রি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তরুলতা শাপলাকে দুই বছরের পদন্নোয়ন, ইনক্রিমেন্ট এবং চাকরির অভিজ্ঞতা বাতিল করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ- চাকরি গ্রহণের সময় তাদের বয়স ছিল ত্রিশোর্ধ্ব। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের এই সিদ্ধান্ত অবৈধ বলে দাবি করেছেন বিএনপি জোট সরকারের আমলে নিয়োগপ্রাপ্তরা। তারা বলছেন, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা অর্জন করেই চাকরি পেয়েছি। তত্কালীন কর্তৃপক্ষই আমাদের যোগ্যতা অভিজ্ঞতা বিচার করে চাকরি দিয়েছে। কোন প্রকার অনিয়ম হলে তার দায়ভার তত্কালীন কর্তৃপক্ষের, আমাদের নয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপ রেজিস্ট্রার পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা বলেন, সিন্ডিকেট যে শাস্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে যা অযৌক্তিক। আমরা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি। প্রত্যেকে পৃথকভাবে মামলা করবে বলে তিনি জানান। সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৪৯ জন শিক্ষক কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে এমন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এদের বেশিরভাগের বিরুদ্ধেই বয়স ত্রিশোর্ধ্ব, এসএসসিতে তৃতীয় বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট পদের জন্য অভিজ্ঞতা না থাকা। গত বিএনপি জোট সরকারের আমলে ভিসি ড. এ এম ফারুক এসব শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়োগ দেন। দুই মেয়াদে ভিসি ছিলেন তিনি। পরে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তাকে সরিয়ে নিয়োগ দেয়া হয় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শাহ ই আলমকে। তিনি চার বছর তার মেয়াদ শেষ করেন। তিনি এসব শিক্ষক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নিলেও এ বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। বর্তমান ভিসি অধ্যাপক সাদাত উল্লাহ দায়িত্ব পাবার পর থেকেই এ বিষয়ে কাজ দ্রুত এগুতে থাকে। সর্বশেষ সিন্ডিকেটে শিক্ষক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে শাস্তির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। যাদের বিরুদ্ধে চাকরিচ্যুতসহ বিভিন্ন ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে তারা প্রশাসনের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলেছেন। তারা বলেছেন, দুটি ভিন্ন কমিটির মাধ্যমে এ তদন্ত করা হয়েছে। কোন কোন ক্ষেত্রে একটি কমিটি স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে অভিযুক্ত থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে নিয়োগ পাবার সময় সর্বোচ্চ বয়স ৪০ হলেও সংশ্লিষ্ট এই কর্মকর্তার তখন বয়স ছিল ৪০ ঊর্ধ্ব। সহকারী রেজিস্ট্রার (পরিষদ) হিসাবে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তার সরকারি কিংবা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের চাকরির অভিজ্ঞতা ছিল না। এছাড়া এই পদের জন্য নির্ধারিত বয়সও ছিল না। অর্থ হিসাব শাখার এক কর্মকর্তা একটি বেসরকারি নন এমপিও কলেজের প্রভাষকের অভিজ্ঞতা দিয়ে অর্থ সহকারী পরিচালক থেকে অর্থ উপ- পরিচালক হিসেবে পদন্নোতি পেয়েছেন। তিনি তত্কালীন শিক্ষামন্ত্রীর পিএস-এর ভাই পরিচয়ে চাকরি পেয়েছিলেন। তত্কালীন প্রধানমন্ত্রীর এ্যাসাইনমেন্ট অফিসারের আপন বোন পরিচয়ে যথাযথ শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও বাজেটের উপ-পরিচালক হিসেবে এডহক ভিত্তিতে চাকরি পেয়েছেন। শিক্ষা অধিদপ্তরের একটি প্রকল্পের অভিজ্ঞতা দেখিয়ে পরিকল্পনা (উন্নয়ন ও ওয়ার্কস)-এর সহকারী পরিচালক হিসেবে চাকরি পান একজন। তাকে এলাকাপ্রীতির কারণে বিচারের আওতায় আনা হয়নি এমন অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে তিনি উপ-পরিচালক হিসেবে কর্মরত। প্যাথলজি বিভাগের সহকারী পদে যিনি নিয়োগ পেয়েছেন চাকরি গ্রহণের সময় তার নিয়ম অনুযায়ী পিএইচডি ডিগ্রি ছিল না। ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক মিজানুর রহমানের সাথে চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা যায়নি। কোষাধ্যক্ষ ও সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক হযরত আলী বলেন, যা হবার নিয়ম অনুযায়ী হয়েছে।