বাংলাটাউন নাম বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০১৩, ২২:২৫
পূর্ব লন্ডনের বাঙালি অধ্যুষিত একটি ওয়ার্ড ‘স্পিটালফিল্ডস এন্ড বাংলাটাউন’ নাম থেকে ‘বাংলা টাউন’ শব্দটি বাদ দেয়ার ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়েছে। বাঙালি কমিউনিটির প্রবল আপত্তির মুখে ইংল্যান্ডের স্থানীয় সীমানা নির্ধারণকারী প্রতিষ্ঠান (লোকাল বাউন্ডারি কমিশন ফর ইংল্যান্ড) বাংলাটাউন নাম বাদ দেয়ার পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে। দীর্ঘ প্রায় ৬ মাস এ নিয়ে নানা অনিশ্চয়তার পর গত সোমবার বাউন্ডারি কমিশন তাদের এ সিন্ধান্তের কথা জানায়। বাংলাটাউন নামটি বহাল রাখার এ সিদ্ধান্তকে ব্রিটেন প্রবাসী বাঙালিরা তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বড় একটি মাইল ফলক হিসেবে দেখছেন। ‘স্পিটালফিল্ডস এন্ড বাংলাটাউন’ পূর্ব লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের ১৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে অন্যতম একটি ওয়ার্ড। ব্রিটেনের বাঙালিদের কাছে এ স্থানটি অনেক বেশি আলাদা রকমের গুরুত্ব বহন করে। এ এলাকায় শেতাঙ্গ বর্ণবাদীদের হামলায় রক্ত ঝরেছে অনেক অসহায় বাঙালির। এ ওয়ার্ডেই নৃশংস বর্ণবাদীদের আঘাতে নিহত হয়েছেন বাঙালি তরুণ আলতাফ আলী। আবার এখান থেকেই অধিকার আদায়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল বাঙালিরা। যার ফলশ্রুতিতে এ ওয়ার্ডে গড়ে উঠেছে সেই শহীদ আলতাফ আলীর নামে পার্ক। এ ওয়ার্ডে অবস্থিত ইংল্যান্ডের বিখ্যাত ব্রিক লেইনের ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশিদের কর্তৃত্ব। ১৯৯৭ সালে স্পিটালফিল্ডস নামের সাথে যুক্ত হয় বাংলাটাউন নামটি। বর্তমানে এখনকার স্থানীয় কাউন্সিল থেকে সংসদীয় আসন পর্যন্ত বাঙালিদের অবস্থান স্পষ্ট। টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের মেয়র একজন বাঙালি। সংসদ সদস্যও সিলেটের বিশ্বনাথের মেয়ে বাঙালি রুশনারা আলী। ব্রিটেনে ইমিগ্রেশন বিরোধী বর্তমান কনজারভেটিব সরকার ২০১০ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই স্থানীয় টোরি পার্টি বাঙালিদের অবস্থান দুর্বল করার জন্য নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। গত অক্টোবর মাসে তাদের ইন্ধনে স্পিটালফিল্ডস এন্ড বাংলাটাউন ওয়ার্ডের জেমস ফ্রঙ্ককম নামের এক বাসিন্দা আকস্মিকভাবে বাউন্ডারি কমিশনের কাছে ওয়ার্ডের নামকরণ থেকে ‘বাংলাটাউন’ শব্দ দুটি বাদ দেয়ার আবেদন জানায়। বাউন্ডারি কমিশনও সবাইকে অবাক করে দিয়ে বিচ্ছিন্ন এ আবেদনকে ব্যাপক গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করে। স্থানীয় কনজারভেটিব দলের নেতারাও এ নাম বাদ দেয়ার পক্ষে সাফাই গাইতে থাকেন। এ অবস্থায় প্রতিবাদে সরব হয় বাঙালি কমিউনিটি। তারা টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের মেয়র লুতফুর রহমানের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সিগনেসার ক্যাম্পেইনসহ ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালায়। তাদের প্রবল প্রতিবাদের মুখে দীর্ঘ ৬ মাস পর বাউন্ডারি কমিশন ‘বাংলাটাউন’ নাম বাদ দেয়ার সিন্ধান্ত প্রত্যাহার করতে বাধ্য হল। বাঙালির এ বিজয়ে উচ্ছ্বসিত মেয়র লুতফর রহমান বলেছেন, কমিউনিটি ঐক্যবদ্ধ থাকলে যেকোন ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করা সম্ভব।