রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু ইসির

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০১৩, ২২:২৭
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সর্বশেষ দুটি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিভিন্ন নথি খতিয়ে দেখেছে কমিশন। একইসঙ্গে ১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন ও বিধিমালা পর্যালোচনা করে ইসি সচিবালয় থেকে একটি সারসংক্ষেপ প্রস্তুত করা হয়েছে। অসুস্থতার কারণে ছুটিতে থাকা প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) গতকাল বুধবার কর্মস্থলে যোগদান করে অন্য কমিশনারদের সঙ্গে ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন’ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তবে সেখানে চূড়ান্ত কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আগামী সপ্তাহে বৈঠকে বসছে কমিশন। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. জাবেদ আলী বলেন, আগামী সপ্তাহে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে কমিশনের বৈঠক আহ্বান করা হবে। ইতিমধ্যে কমিশনের কাছে রাষ্ট্রপতির মৃত্যুর গেজেট এসে পৌঁছেছে। নির্বাচনের চূড়ান্ত ধারণা ইসি সম্পন্ন করেছে। কিছুদিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করে দেশের মানুষকে নতুন রাষ্ট্রপতি উপহার দিবে ইসি। এদিকে মো. জিল্লুর রহমানের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত স্পিকারের রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন সংক্রান্ত গেজেট হাতে পেয়েছে কমিশন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভুঁইয়া স্বাক্ষরিত গেজেটে বলা হয়েছে, ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান সিঙ্গাপুরে চিকিত্সাধীন অবস্থায় গত ২০ মার্চ অপরাহ্নে ইন্তেকাল করায় রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হইয়াছে। এমতাবস্থায়, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার মো. আবদুল হামিদ অ্যাডভোকেট রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করিবেন।’ সংবিধানের ১১৯ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদের নির্বাচন করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের ওপর ন্যস্ত রয়েছে। ১২৩ (২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণের ফলে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পরবর্তী নব্বই দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতি পদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। গত ২০ মার্চ রাষ্ট্রপতি মৃত্যুবরণ করায় ১৯ জুনের মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ইসির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গেজেট পাওয়ার পরপরই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। ইসি সচিবালয় থেকে সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রার্থী মনোনয়ন সংক্রান্ত ফরম ও প্যাকেটসহ আনুষঙ্গিক প্রয়োজনীয় মালামাল মুদ্রণের জন্য শিগগিরই কমিশনের নির্দেশনা নিয়ে এ কার্যক্রমও শুরু করা হচ্ছে। নির্ভুল ও সুষ্ঠু ভোটার তালিকা প্রণয়নে সংসদ সচিবালয়কে ভোটার তালিকা চেয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেবে কমিশন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য সিইসি কাজী রকিবউদ্দীন আহমেদ প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তার (অর্থাত্ রিটার্নিং অফিসার) দায়িত্ব পালন করবেন। রাষ্ট্রপতি মনোনয়নে একাধিক প্রার্থী হলে সংসদে ভোটাভুটি হবে। অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে মো. আবদুল হামিদ অ্যাডভোকেট সংসদ অধিবেশন আহ্বান করবেন। সংসদীয় রীতি অনুযায়ী স্পিকারই সংসদে সভাপতিত্ব করে থাকেন। তবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দিন সংসদে সভাপতিত্ব করবেন প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা হিসেবে সিইসি। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে সংসদ কক্ষের অভ্যন্তরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে সংসদ সদস্যগণের সংখ্যা, নাম এবং নির্বাচনী এলাকা উল্লেখ করে ভোটার তালিকা প্রস্তুত করবে ইসি। জাতীয় সংসদের স্পিকারের ও সংসদ সচিবালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে কমিশন। এরপর রিটার্নিং অফিসারের নিকট মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময়, মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের তারিখ, প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ও ভোট গ্রহণের দিন ধার্য করা হয়ে থাকে। কবে নাগাদ তফসিল ঘোষণা হতে পারে এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার জাবেদ আলী বলেন, কমিশন বৈঠক শেষে এ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার জন্য সংসদ সচিবালয় ও স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করবে নির্বাচন কমিশন। তফসিল ঘোষণার এক থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে চাই। উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা বঙ্গবন্ধুর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহচর মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক মো. জিল্লুর রহমান রাষ্ট্রপতি পদে শপথ নেন। গত ২০ মার্চ বুধবার বিকালে তিনি সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।