ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় টর্নেডোয় দুর্গতদের ত্রাণ বিতরণ নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে। এবার সরকার দলীয় সংসদ সদস্যই ত্রাণ বিতরণের অনিয়মের অভিযোগ করেছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য র, আ, ম, উবায়দুল মোক্তাদির চৌধুরী অভিযোগ করে বলেছেন, রেড ক্রিসেন্টের ত্রাণ বিতরণ চলছে দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে। একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের পক্ষাবলম্বন করে ত্রাণ বিতরণ চলছে। এতে করে ক্ষতিগ্রস্তরা ত্রাণ পাচ্ছে না। তিনি বলেছেন, ফুলবাড়িয়া ও চিনাইর গ্রামের যে সকল মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি তারাও ত্রাণসামগ্রী পেয়েছে। এসব বিষয়ে তিনি প্রচণ্ড ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ঘটনাটি রেড ক্রিসেন্টের দফতরকে জানানো হয়েছে বলে সংসদ সদস্য সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। সংসদ সদস্য র, আ, ম, উবায়দুল মোক্তাদির চৌধুরী জানান, যুব রেড ক্রিসেন্টের নামে যুবদল, ছাত্রদল দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে। এমনিতেই তাদের ত্রাণ সীমিত। তার উপর দলীয় ভাবে বিতরণ করায় ক্ষতিগ্রস্তরা ত্রাণ পাচ্ছে না। আজ বুধবার সরেজমিন চান্দি, চিনাইর, দোবাচাইল, পাতিহাতা, উরশিউড়া গ্রাম পরিদর্শন শেষে তিনি এ অভিযোগ করেন। এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সহ-সভাপতি এবিএম তৈমুর এর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জানান, আমাদের দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করার কোন সুযোগ নেই। এদিকে টর্নেডোর ৬ দিন পরও দুর্গত এলাকার ভেঙ্গে পড়া আবর্জনার স্তূপ পরিষ্কার হয়নি। এরই মাঝে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দলও ফেরত গেছে। এ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে সাধারণ মানুষের ত্রাণ তত্পরতা সমানে চলছে। গত ২ দিনে ১৩ হাজার বাঁশ ঘরের খুঁটি হিসেবে জমা দিয়েছে সাধারণ মানুষ। সংসদ সদস্যের মাধ্যমে এ পর্যন্ত নগদ ১৭ লক্ষ টাকা বিতরণ করা হয়েছে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে। উদ্ধার কাজে আসা সেনাবাহিনীর জোয়ানরা জানিয়েছে, ৫২৭টি তাঁবু তারা গতকাল পর্যন্ত দিয়েছেন। দুর্গতদের জন্য ৭৫৩ টি তাঁবু দেয়া হবে। জরুরি সহায়তার জন্য বাড়তি ৩ হাজার ৩শ’ ৮ বান্ডিল ঢেউটিন ও নগদ ১ কোটি ১৯ লক্ষ ৩৪ হাজার টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। এদিকে টর্নেডোর পর থেকে চিনাইর আঞ্জুমান আরা স্কুল এন্ড কলেজ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস বন্ধ রয়েছে। এ এলাকার দুর্গতদের জন্য বিদ্যালয় মাঠে কন্ট্রোল রুম স্থাপন করায় বিদ্যালয়ের ক্লাস বন্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে। আজ বৃহস্পতিবার থেকে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ক্লাস সচল করার উদ্যোগ নিবেন।
ত্রাণ বিতরণ
জাতীয় বীর আব্দুল কুদ্দুস মাখন স্মৃতি পরিষদের পক্ষে রান্না করা খাবার ভাত ও মাংস ৩ হাজার লোকের মধ্যে বিতরণ করেন। স্বেচ্ছাসেবক লীগও রান্না করা খাবার বিতরণ করেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হক খোকনের নেতৃত্বে কয়েকটি গ্রামের প্রায় আড়াই শতাধিক ক্ষতিগ্রস্তের মধ্যে শাড়ি, লুঙ্গি ও শুকনো খাবার প্রদান করেন। রিয়াদ আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী সেলিম রেজা প্রায় ৩ শতাধিক পরিবারের মধ্যে শাড়ি, লুঙ্গি, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ও শিশুদের মাঝে দুধ ও বিস্কুট বিতরণ করেন।
