দীর্ঘ ৪২ বছর পর প্রথমবারের মত মংলা বন্দর দিয়ে আমদানি করা হয়েছে বিশ্বমানের জাহাজ নির্মাণ শিল্পের কাঁচামাল গর্জন কাঠের লগ। বুধবার বন্দর জেটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদেশি জাহাজ থেকে এ কাঠের লগ খালাস প্রক্রিয়ার উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য হাবিবুন নাহার। বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমাারের বার্মা পোর্ট থেকে প্রায় ১৬শ’ টন গর্জন কাঠ নিয়ে বুধবার এই প্রথম বন্দর জেটিতে ভিড়ে ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ আইটিটি পোমা।
সংসদ সদস্য হাবিবুন নাহার বলেন, মহাজোট সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এ বন্দর উন্নয়নের দিকে এগুচ্ছে। কিন্তু একটি চক্রের ষড়যন্ত্রের কারণে বন্দরের প্রধান সমস্যা ড্রেজিংরের কাজ বার বার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। কাঠ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স মজিবুর টিম্বার এন্ড সমিল’র মালিক মো: মজিবুর রহমান জানান, জাহাজ ও নির্মাণ শিল্প এবং ফার্নিচারসহ বিভিন্ন কাজে বহুলভাবে ব্যবহূত হয় গর্জন কাঠ। এ বন্দর দিয়ে কাঠ আমদানিতে বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা অব্যাহত থাকলে দিনকে দিন কাঠ আমদানির পরিমাণ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে। বর্তমানে প্রতিমাসে দু’টি জাহাজে করে প্রায় দেড় লক্ষ ঘনফুট গাছ আমদানি করা হবে।
বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমোডর এম হাবিবুর রহমান ভূইয়া বলেন, আগামীতেও কাঠের জাহাজ এ বন্দরে আসবে এবং যে ধরনের সুযোগ-সুবিধা প্রয়োজন তা বন্দরে বিদ্যমান রয়েছে। বন্দর ব্যবহারকারী ও খুলনা ট্রেডার্সের মালিক সৈয়দ জাহিদ হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটে যানজটের কারণে কাঠ ব্যবসায়ীরা এখন মংলা বন্দর বেছে নিয়েছে। বর্তমানে এ বন্দরে যে সুযোগ-সুবিধা রয়েছে তাতে প্রতি মাসে প্রায় ১০ হাজার মেঃ টন কাঠ এ বন্দর দিয়ে খালাস করা সম্ভব।
