বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজীনা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে পণ্যের শুল্কমুক্ত বাজার ব্যবস্থা জেনারালাইজড সিস্টেম অব প্রেফারেন্স বা জিএসপি সুবিধা বহাল রাখার জন্য বাংলাদেশকে অব্যাহত কাজ করে যেতে হবে। তিনি বলেন, জিএসপি সুবিধা বাতিল করা হলে বাংলাদেশ যেসব দেশে পণ্য রফতানি করে সে দেশগুলোতে একটি ভুল বার্তা যাবে। দ্বিতীয়ত, এ সুবিধা না থাকলে বাংলাদেশ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার আলোচনায় পণ্যের শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধার কথা তুলতে পারবে না। বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে রাষ্ট্রদূত মজীনা এসব কথা বলেন।
মজীনা বলেন, কেউ প্রশ্ন করতে পারেন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশ মাত্র ২ লাখ ৬৩ হাজার মার্কিন ডলারের পণ্য রফতানি করে। যেখাতে দেশটিতে মোট রফতানির পরিমাণ ৫ বিলিয়ন ডলার। তাহলে সেখানে জিএসপি এত গুরুত্বপূর্ণ কেন? তার মতে, স্বল্পোন্নত দেশগুলোতে শুল্ক ও কোটামুক্ত বাণিজ্য সুবিধা সাধারণত জিএসপির মাধ্যমে দেয়া হয়ে থাকে।
মজীনা জানান, কারখানায় শ্রমমানের উন্নয়নে বাংলাদেশ সরকার কঠোর ও আন্তরিকতার সাথে কাজ করছে। তিনি এসব কাজ আগামী মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত অব্যাহত রাখার পরামর্শ দিয়ে বলেন, মে মাসের শেষের দিকে বা জুনের প্রথম সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র সরকার বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির (ইউএসটিআর) দফতরে বংলাদেশের শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে অভিযোগের জবাব দিতে বাণিজ্য সচিব মাহবুব আহমেদের নেতৃত্বে ১৪ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল এখন ওয়াশিংটন রয়েছেন। ২০০৭ সালে বাংলাদেশের পোশাক কারখানাসহ বিভিন্ন খাতে ইউএসটিআরের কাছে অভিযোগ করে এএফএল-সিআইও নামে দেশটির একটি শ্রম অধিকার সংগঠন। বাংলাদেশ সরকার ছাড়াও ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই এবং বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডি ইতিমধ্যে এএফএল-সিআইও’র অভিয়োগের জবাব দাখিল করেছে। ওয়াশিংটনে ইউএসটিআর-এ শুনানি শেষে জিএসপি সুবিধা অব্যাহত রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। গতরাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত স্থানীয় সময় সকালে ওয়াশিংটন ডিসিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দফতরে শুনানি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
