মানি লন্ডারিংয়ের দায়ে সাত ব্যাংককে জরিমানা

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০১৩, ২২:০৪
মানি লন্ডারিং আইন না মেনে ব্যাংকিং করার দায়ে সাত ব্যাংককে ৪৫ লাখ টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গ্রাহকের তথ্য গোপন, সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা না দেয়া এবং গ্রাহকের বিস্তারিত পরিচিতি ছাড়াই অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের আওতায় সম্প্রতি এসব জরিমানা করা হয়েছে। দেশের ব্যাংকিং খাতের ইতিহাসে একসঙ্গে এতগুলো ব্যাংককে এ পরিমাণ অর্থ জরিমানা করার নজির এটিই প্রথম। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, জরিমানার তালিকায় রয়েছে রাষ্ট্রীয় মালিকানার সোনালী ও জনতা ব্যাংক, বেসরকারি খাতের প্রাইম, ন্যাশনাল, ঢাকা, ব্র্যাক ও আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক। এসব ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে তথ্য গোপন করে বিভিন্ন ব্যক্তির হিসাব পরিচালনা করে আসছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বাংলাদেশ ফ্যাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইউ) বিশেষ পরিদর্শনে বিষয়টি উঠে আসায় জরিমানা করা হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র ম. মাহফুজুর রহমান জানান, মানি লন্ডারিং আইন অমান্যের দায়ে আগেও বিভিন্ন ব্যাংককে জরিমানা করা হয়েছে। তবে একসঙ্গে এতগুলো ব্যাংককে এ পরিমাণ জরিমানা এটাই প্রথম। সূত্রমতে, সোনালী ও জনতা ব্যাংকের ৩৪ হাজার টাকা আত্মসাতের তথ্য গোপন করায় উভয় ব্যাংকে চার লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। গত বছর এ দুই ব্যাংক থেকে নোয়াখালীর এক গ্রাহক এ টাকা আত্মসাত করে। এদিকে হলমার্কের তথ্য গোপন করে অর্থ তুলে নেয়ার সুযোগ করে দেয়ায় জরিমানা করা হয়েছে ঢাকা ও ন্যাশনাল ব্যাংকের বিরুদ্ধে। হলমার্কের বিষয়ে সব ব্যাংকের কাছে তথ্য চাওয়ার পরও তারা তথ্য গোপন করায় ঢাকা ব্যাংককে ১৭ লাখ এবং ন্যাশনাল ব্যাংককে ১৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। কোন ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে এক সঙ্গে ৭ লাখ টাকার ওপরে লেনদেন হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে সেটি রিপোর্ট করতে হয়। এ নিয়ম না মানার কারণে প্রাইম ব্যাংককে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া গ্রাহকের পরিচিতির সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংরক্ষণ না করায় ব্র্যাক ও আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংককে ৩ লাখ টাকা করে জরিমানা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।