ব্রিটেনে পালিয়ে থাকা যুদ্ধাপরাধী এবং ’৭১-এ বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের অন্যতম অভিযুক্ত চৌধুরী মাঈন উদ্দিনকে দেশে ফেরত পাঠানোর দাবি নিয়ে তিনশ মাইল হাঁটার কার্যক্রমটি সম্পন্ন করেছেন সাজ্জাদুল আজিজ মালিক। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ এই যুবক ২৬ মার্চ মঙ্গলবার স্থানীয় সময় দুপুরে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের কার্যালয় ১০ ডাউনিং স্ট্রীটে এসে পৌঁছান। সেখানে তিনি বাংলাদেশে চলমান যুদ্ধাপরাধ বিচারে ব্রিটিশ সরকারের সমর্থন চেয়ে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন। স্মারকলিপিতে যুদ্ধাপরাধী এবং ১৪ ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবী হত্যার জন্য অভিযুক্ত চৌধুরী মাঈন উদ্দিনকে ব্রিটেন থেকে বিতাড়নের জন্য অনুরোধ জানানো হয়। বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্বদানকারী ব্রিটেন যেন কোনো গণহত্যাকারীর অবাধ আশ্রয়স্থল না হয় সে দাবিও রাখা হয় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কাছে। প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের পক্ষে একজন সহকারী স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেন।
ওয়াক ফর জাস্টিস বা বিচারের দাবিতে পদযাত্রা নামে ৩শ মাইল হাঁটার এ কার্যক্রমটি শুরু হয় গত ২০ মার্চ। এ দিন ইংল্যান্ডের ওল্ডহাম শহরে অবস্থিত বহির্বিশ্বের প্রথম স্থায়ী শহীদ মিনার থেকে সকালে সাজ্জাদুল তার প্রতিবাদী পদযাত্রার সূচনা করেন। প্রচণ্ড ঠাণ্ডা, তুষারপাত এবং বৈরি আবহাওয়াকে উপেক্ষা করে হাইথ, স্টোক অন ট্রেন্ট, টর্নওয়ার্থ, রাগবী, মিল্টনকিংস, বার্মিংহাম, নর্থাম্পটন এবং লুটনসহ মোট ১১টি শহর প্রদক্ষিণ করে সাজ্জাদুল ২৫ মার্চ রাতে লন্ডন শহরের অ্যাজোয়ারে এসে পৌঁছান। ৩৬ বছর বয়সী সাজ্জাদুল আজিজের জন্ম ইংল্যান্ডের ওল্ডহাম শহরে। বাংলাদেশে তাদের আদি বাড়ি সুনামগঞ্জ উপজেলার ছাতক থানার পালপুর গ্রামে। তার এ প্রতিবাদী যাত্রায় সার্বিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন সময় সঙ্গ দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রথম প্রেস সচিব আমিনুল হক বাদশা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ফজলুল কবির তুহিন, সাংবাদিক আ স ম মাসুম, সংস্কৃতি কর্মী স্মৃতি আজাদ, জুয়েল রাজ, মুঞ্জুলিকা জামালি এবং স্বপন চৌধুরী।
